Shankar Ghosal:“নাতি মা’র’ছে আমাকে… ছেলে বলছে ‘হিজ***’! বৃদ্ধদের জন্য ভারত আর নিরাপদ নয়!” – পরিবারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগে ভিডিও বার্তা ৭৫ বছরের অভিনেতা শঙ্কর ঘোষালের

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Shankar Ghosal: সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করে চাঞ্চল্য ছড়ালেন ৭৫ বছর বয়সী বর্ষীয়ান অভিনেতা শঙ্কর ঘোষাল(Shankar Ghosal)। ভিডিওতে তিনি তাঁর জীবনের বর্তমান পরিস্থিতি, অ’সু’স্থ’তা, আর্থিক সংকট এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন। প্রায় প্রতিটি বক্তব্যেই ছিল যন্ত্রণা আর ক্ষোভের ছাপ, আর সেই সঙ্গে জনতার কাছে বিচার চাওয়ার আবেদন।
ভিডিওর শুরুতেই তিনি অতীতের একটি প্রচলিত ধারণার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, “আগে আমরা জানতাম শৈশবকাল জাপানে, যৌবন আমেরিকায় আর বৃদ্ধাবস্থায় এই ভারতবর্ষ সবচেয়ে সুখী।” কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হতাশার সুরে যোগ করেন, “কিন্তু এখন সব উল্টে গেছে। বৃদ্ধাবস্থায় ভারতের চেয়ে দুঃখ আর কোথাও নেই।” তাঁর মতে, আজকের সমাজে বৃদ্ধদের অবস্থান ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অভিনেতা। তাঁর দাবি, “সকালবেলা ছেলে এবং নাতি মিলে যাচ্ছেতাই ভাষায় গালিগালাজ করে।” এমনকি নাতি নাকি নিয়মিত তাঁকে “বোকা ***” বলে ডাকে। এই অপমান তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে বলেই জানান তিনি। আরও বলেন, “ছেলেও গালি দেয়, এমনকি আমার স্ত্রীও কিছু বলে না।” পরিবারের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা তাঁকে আরও অসহায় করে তুলেছে বলে দাবি।
একটি বিশেষ শব্দ তাঁর মনে গভীর আঘাত দিয়েছে। তিনি বলেন, “ছেলে আমাকে ‘হিজ**’ বলে গালি দিয়েছে। এই শুনে কার না মাথায় রাগ হয়!” সারাজীবন কষ্ট করে সংসার চালানোর পর এই ধরনের সম্বোধন তাঁর কাছে অসম্মানজনক এবং অপমানজনক বলে মনে হয়েছে। তাঁর কণ্ঠে ছিল তীব্র হতাশা,“আমি সারাজীবন কষ্ট করে সংসার চালিয়েছি, আর আজ এই অ’ত্যা’চা’র সহ্য করতে হচ্ছে।”

শারীরিক সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। “দাঁতের ব্যথায় খুব কষ্ট পাচ্ছি। মাড়ির নিচের দাঁতে অসহ্য যন্ত্রণা।” কিন্তু চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নেই বলে অভিযোগ। ঘরের অবস্থা নিয়েও তাঁর ক্ষো’ভ স্পষ্ট,“ঘরের অবস্থা দেখছেন তো? আমি না হাত দিলে ঘরের একটা পাখা ঘোরে না। মিস্ত্রি ডাকলে ছেলে টাকা দেয় না।”
ছেলের শিক্ষার পেছনে নিজের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ছেলে স্কটিশ চার্চ স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছে। ২০০৫ সালে অনার্স গ্র্যাজুয়েট হয়েছে।” ব্যাংকের চাকরির আশায় এলআইসি ভেঙে দেড় লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, “ব্যাংকের চাকরির জন্য দেড় লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম এলআইসি(LIC) ভেঙে। সে কম্পিউটার আইটি শিখেছে, ভালো নম্বর নিয়ে পাস করল।” এত কিছু করার পরও যদি তিনি খারাপ বাবা হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর আর কিছু বলার নেই এই আক্ষেপ ফুটে ওঠে তাঁর কথায়।

বর্তমানে তাঁর ছেলে রিলায়েন্স ডিজিটালের একটি স্টোরে ডিএম(DM) হিসেবে কর্মরত বলে জানান তিনি। “ছেলে ২০ হাজার টাকা বেতন পেলেও বাবার খাওয়ার খরচ বা ওষুধের জন্য কোনো টাকা দেয় না।” এমনকি, “আমার একটা ভিটামিন বলুন বা একটা প্রেসারের ওষুধ বলুন, কিচ্ছু কিনে দেয় না।” তাঁর ছোট বোন প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে সাহায্য করেন, “আমার ছোট বোন প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আমায় দেয়, তবেই আমার চলে নচেৎ চলে না।”
অভিনেতা জানান, তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে পারকিনসন্স রো’গে আক্রান্ত। “এই অসুখটা বড়ই মারাত্মক গো, কি যন্ত্রণা সারা গায়ে হয়।” অসুস্থতার কারণে অনেক সময় ভুলেও যান। ঠিকমতো দাঁড়াতে পারেন না। এই অবস্থাতেই তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। “আমার জিম করা ছেলে আমায় পিটিয়ে একাকার করে দিয়েছে। জিম করে না? বাবাঃ বিশাল ব্যাপার তার।” ভাঙা লাঠি দেখিয়ে বলেন, “মেরে এটাকে বেঁকিয়ে দিল, এখন আমি হাঁটব কি করে? ৪০০ টাকা দিয়ে আমি কিনেছি।”
তিনি অত্যন্ত অসহায়বোধ করছেন এবং মানুষের কাছে বিচার চেয়েছেন। তিনি বলেন, “জনগণ যদি আমায় বলে এটা অন্যায় হচ্ছে, আর কে কি করবে বলুন দেখি?”

আরও পড়ুন:Roopa Ganguly:”তোমাকে সিনেমাতে নেবে না.. “বাড়ি থেকে বের করে দিতে হয়, না হলে থাপ্পড় মারতে হয়।”- ‘কাস্টিং কাউচ’ না মানলে থাপ্পড়! – ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়

আরও অভিযোগ, হঠাৎ করেই তাঁর মাথায় ঘুষি মারা হয়েছে। “আমার টাক মাথার এইখানটায় দুম করে একটা ঘুষি মেরেছে… আমার যে স্ট্রোক হয়ে যায়নি এটাই যথেষ্ট।” এর আগেও বিয়ের সময় বুকে আঘাত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন। স্ত্রী নাকি উল্টে তাঁকেই হুমকি দিয়েছেন, “বৌ বলছে কি, আমি তোমার নামে কমপ্লেন করবো যে তুমি আমায় ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছো।”
আর্থিক অনটনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি ৫০০০, ২০০০, ৭০০০… ভিক্ষা পাই তো। যার কাছে যখন চাই কেউ ৫০০, কেউ ১০০০ দিয়ে দিচ্ছে।” এমনকি পুরানো ছাত্রের কাছ থেকেও টাকা চাইতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “আমার ছেলে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে চুরি করেছে।” যদিও এই অভিযোগের স্বপক্ষে তিনি কোনও নথি ভিডিওতে দেখাননি।
তিনি বলেন, “আমি ওই ঘরে গেছি..কি সেয়ানা আমার ছেলে বলছে সরে এসো বার বার বলছে..তোমায় মারবে মারবে বলে এসেছে এই ঘরে।” এমনকি পুত্রবধূকে সরিয়ে নিয়ে গেলে বলে (বৌমা) , “যা বাবা কখনও মারে।” এই পরিস্থিতি তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছে,“ভাবো কোথায় আছি আমরা… এই যে কৃষ্ণ বলে গেছেন বড্ড ঠিক, যে কলি যুগ বড্ড খারাপ যুগগো..” তিনি দুঃখ করে বলেন, “ভারতবর্ষ বৃদ্ধদের জন্য আর নয়… বৃদ্ধদের জন্য হয়ত আমার চেয়ে বিদেশই ভালো মনে হচ্ছে।“

তিনি আরও বলেন, “টাকাপয়সা নেই ভিক্ষে করে খাই। আমি বললাম তোরা চলে যা আমি ভিক্ষে করে খেয়ে নেবো ঠিক না বলুন।” তাঁর মতে, অনেক বৃদ্ধ সাহস করে মুখ খুলতে পারেন না, “আমি বলছি তাই অনেক বৃদ্ধদের সাহসই তো হয় না তারা পরে পরে মার খায় আমি খাই না কেন খাবো বলুন তো এদের মানুষ করেছি আমি,কেস চালাচ্ছি আমি, বাড়িওয়ালার অ’ত্যা’চা’র সহ্য করেছি আমি সমস্ত আমি সহ্য করেছি”।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে তাঁর ছেলে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রেডিট কার্ড থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে। তিনি বলেন, “আমার ছেলে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে চুরি করেছে।“
সবচেয়ে বেদনাদায়ক অংশ হিসেবে তিনি বলেন, “নাতি মারছে আমাকে ভাবতে পারেন? নাতি বোকা**** বলছে, নাতি মারছে।” লাঠি দেখিয়ে বলেন, “আজকে ওর জন্যই এইটা ভেঙে গেল আমার, ভেঙে মানে বেঁকিয়ে দিয়েছে।”এই লাঠিটি তিনি ৪০০ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন যা নষ্ট হয়ে গেছে। জ্যোতিষী বলেছিলেন এই নাতির “ছক খুব খারাপ”, তাকে বাড়িতে না রাখতে। জ্যোতিষী তাকে বলেছিলেন, “একে বাড়িতে রাখলে আপনাকে বরবাদ করে দেবে” তাঁর মতে আজ সেই কথাটিই সত্যি হয়েছে।

আরও পড়ুন:Pratik-Sonamoni:”জাপানি, ফিরে এসো” – মেগা শেষ হতেই সোনামণিকে আবেগঘন ডাক প্রতীকের! জবাবে “একা ফিরব বুঝি?” – ইঙ্গিত কি নতুন চমকের?

ভিডিওর শেষে তিনি জানান, পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। “দেখি পুলিশ কী স্টেপ নেয়, তারপর আবার আপনাদের কাছে আসব।”
পুরো ভিডিও জুড়ে তাঁর কণ্ঠে অসহায়তার সুর। তিনি বারবার জগন্নাথ দেবের নাম নিয়েছেন এবং বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে ভগবান সব দেখছেন।
তাঁর অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবুও এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। প্রশ্ন উঠছে, বৃদ্ধদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে সমাজ কি যথেষ্ট সংবেদনশীল? শঙ্কর ঘোষালের এই আর্তি হয়তো আরও বহু নীরব কণ্ঠের প্রতিধ্বনি, যারা প্রকাশ্যে বলতে পারেন না তাঁদের যন্ত্রণা।

Leave a Comment