Sohini-Rupsa:”প্রেগনেন্সি একটা ডেইলি লাইফের অংশ, প্রেগনেন্সি মানেই যে ঘরে চুপচাপ বসে থাকতে হবে এরকম কোন বাধ্যবাধকতা নেই,এইসব পুরানো দিনের মানুষের তৈরি…” সোহিনী গাঙ্গুলীর পাশে দাঁড়িয়ে আবারও কাকে উদ্দেশ্য করে এমন কথা জানালেন অভিনেত্রী রূপসা চ্যাটার্জী?
গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার তথা মেকআপ আর্টিস্ট সোহিনী গাঙ্গুলী। কিন্তু তাঁর সত্ত্বেও তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে কাটাছেঁড়া। নেটিজেনদের দাবি,’বেশি লাফালাফি করলে, ভগবানকে নিয়ে মজা করলে এমনই হয়।’ নানান মানুষের নানান মত শুনে বিধ্বস্ত সোহিনী।
এরই মাঝেও একে একে সোহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রীরা। এইরকম বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে এক মাকে এমন শুনতে হচ্ছে? আমরা কোন সমাজে বাস করছি! মানুষ কি মনুষ্যত্ববোধও হারিয়ে ফেলেছেন? এমন সব প্রশ্ন তুলেছেন তারকারা।
আরও পড়ুন:Ahona Dutta:সরাসরি মাকে উদ্দেশ্য না করেই ট্রোলারদের মোক্ষম জবাব অহনার
কিছুদিন আগেই সোহিনীকে ঘিরে চলতে থাকা এই ট্রোলিংয়ের জবাব দিয়েছিলেন অভিনেত্রী রূপসা চ্যাটার্জী। যেখানে তিনি জানান,”মানুষদের দিন দিন অবনতি হচ্ছে,একজন মেয়ে হিসেবে আমার লজ্জা করে। একজন মেয়ে বা মা হয়ে কীভাবে অন্য একটি মাকে কুরুচিকর মন্তব্য করছে, সেটাই বুঝতে পারছি না। একজন মহিলা হয়ে অন্য এক মহিলাকে এভাবে আঘাত করা যায় কিনা আমার জানা নেই।” তাঁর এই কথায় নেটিজেনদের একাংশ যেমন সমর্থন করেছেন তেমনই একাংশ বিরূপ মন্তব্য করেছেন। একজন নেটিজেন লেখেন,’যেহেতু ওনার প্রেগনেন্সিতে জটিলতা ছিল তাই ওনাকে ডাক্তার বেডরেস্টে থাকতে বলেছিলেন। অনেক উল্টোপাল্টা খাবারও খেতেন। সবার শারীরিক অবস্থা তো সোমন হয়না সবটা নেওয়ার মতো। তাই শেষে এসে হয়ত এমন হয়েছে।’
সেই প্রসঙ্গেই সেই নেটিজেনের নাম উল্লেখ করে রূপসা বেশ কড়া ভাষায় জানান,”উনি বলেছেন, মেয়েরাই বলছে কারণ মেয়েরাই বোঝে যে কী কী করা উচিত ও কী করা যায় নয়। যার জন্য ও বাচ্চাটা হারিয়ে ফেলেছে। অনেক রকমের ভিডিও বানাতে,সবকিছু খেত,সব জায়গায় ঘুরে বেড়াত,নাচানাচি,লাফালাফি করত। হয়ত, আমি জানি না,আমি ওর অত ভিডিও দেখিনি। আমার প্রেগনেন্সি জার্নিতেও আমি এই সমস্ত কিছু করেছি। এবং এরকম প্রচুর ভিডিও দেখিয়ে দিতে পারব আমি, যেখানে এখনকার দিনের যারা মা, যারা পুরানো চিন্তা ভাবনায় নিজেকে বেঁধে রাখেনি, তারা সত্যি মনে করে না যে প্রেগনেন্সি একটা অসুস্থতা। প্রেগনেন্সি একটা ডেইলি লাইফের অংশ। কারণ এই সময় যত তুমি অ্যাক্টিভ থাকবে ততই ভালো। এটা নিয়ে রিসার্চ করলে জানতে পারবেন প্রেগনেন্সি মানেই ঘরে চুপচাপ বসে থাকতে হবে, এরকম কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এইসব পুরানো দিনের মানুষের তৈরি। ডাক্তাররা এখন নিজেরাই বলেন নিয়মিত ব্যায়াম কর,কাজ কর। যারা কাজ করে তারা কি প্রেগনেন্সিতে সমস্ত কাজ ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে বসে থাকবে? সেটা তো সম্ভব নয়। আর প্রেগনেন্সি মানেই যে কিছু খাওয়া যাবে না সেটাও পুরানো চিন্তাভাবনা। পেঁপে ও আনারস বাদ দিয়ে সবকিছুই খাওয়া যায়। আর চাইনিজ ফুড যেহেতু ওতে আজিনামোটো থাকে তো ওটা বাদ দিয়ে বাকি সব খাবারই খাওয়া যায়, হাইজেনিক স্বাস্থ্যকর খাবার হলেই হল।”
এছাড়াও তিনি আরও বলেন,”আর যাদের প্রেগনেন্সিতে নানান জটিলতা রয়েছে তাদের জন্য অনেক নিয়ম থেকে থাকে যে বেরোনো যাবে না বা আরও অনেক কিছু। কিন্তু যাদের সেরকম কোনো জটিলতা নেই, যারা সুস্থ রয়েছে, তাদের কিন্তু চুপচাপ বাড়িতে বসে থাকার কথা নয়। সে যদি তার প্রেগনেন্সি জার্নিটা আর পাঁচটা মানুষের মতো বাড়িতে চুপচাপ বসে না কাটিয়ে আনন্দ করতে চেয়ে কয়েকটা ভিডিয়ো বানিয়ে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে থাকে তার মানে এটা নয় যে সে বাচ্চাটার খারাপ চেয়েছে। এটা তো কেউ চায় না। ও করেছে, ভেবেছে যে সবকিছু নরমাল থাকবে। সুস্থ থাকবে। হয়নি, সেটা কিন্তু শেষ দিনের কোনো একটা সমস্যার জন্য। আমি ডাক্তারের ভিডিও দেখেছি, তিনি বলছেন যে পেটের ভিতরেই হয়ত ব্লিডিং হয়েছে। সেটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তার মানে এটা নয় যে সে প্রেগনেন্সিতে লাফালাফি করেছে, প্রচুর খাওয়া-দাওয়া করেছে, ছবিও এঁকেছে ওই জন্য হয়েছে। অনেকে আবার বলেছেন বিদেশের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন।”
এছাড়াও তিনি বলেন অনুষ্কা শর্মার প্রেগনেন্সিতে তাঁর একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল। সেটা নিয়ে তিনি জানান,”যেখানে ওঁ ব্যায়াম করছিল মাথা উল্টো করে। তো সেই ক্ষেত্রে কেন কিছু বলা হয়নি। বাচ্চাটা খুব ভালোভাবে হয়েছিল বলে? তাই জন্য এটা নিয়ে কোনো রকম কিছু কথা হয়নি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে হঠাৎ করে একটা অঘটন ঘটে গেছে, যার জন্য বাচ্চাটা আসতে পারেনি। তাই জন্যই আপনারা তাকে খারাপ কথা বলছেন? একটু ভেবে দেখুন আপনারা কি বলছেন?”