Sohini Ganguly:’দেওয়া হয়নি অক্সিজেন’ বাধ্য হয়েই প্রমাণসহ প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন আসল সত্যি। সন্তানশোক নিয়েও ভিডিয়ো করলেন সোহিনী।
সন্তান শোকে জর্জরিত সোহিনী গাঙ্গুলী। তার মধ্যেই বেশ কয়েকদিন ধরেই সোহিনীকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে চলছে কাটাছেঁড়া। কিন্তু তিনি জানিয়েছিলেন প্রমাণসহ তিনি সব সত্যি সবাইকে জানাবেন। বলতে বলতে কেঁদে তিনি জানান, আমি এমনই এক অভাগা মা, যার বুকের দুধ শুখিয়েছে কিনা বুঝতে পারছি না,আমার সেলাই এখনও কাটেনি,তাও আমার এই নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে, সবাই বলছে কাঁদতে না,নরম্যাল হতে।
তারপরই ২২ তারিখ সারাদিন তাঁদের সঙ্গে কী কী ঘটেছিল সবটাই জানালেন তিনি।
লাগাতার ট্রোলের কারণে রীতিমতো বাধ্য হয়েই একটি লম্বা ভিডিওর মাধ্যমে সবটা সবাইকে জানালেন সোহিনী ও তাঁর স্বামী। চোখে জল,কথা বলতে গিয়েও বারবার কেঁদে ফেলছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে সোহিনী কেন গর্ভাবস্থায় কাজ করেছিলেন? চিকিৎসকও অভিযোগ করেছিলেন, সোহিনীর নাকি হাই ব্লাড প্রেশার ছিল। কিন্তু যাবতীয় প্রেসক্রিপশন নিয়ে ক্যামেরার সামনে এসেছিলেন সোহিনীর স্বামী। তিনি জানান, সোহিনীর কোনোদিনই উচ্চ রক্তচাপ ছিল না। এমনকি তাঁর প্রেগনেন্সিতে কোনও রিস্ক আছে বলেও লেখেননি চিকিৎসক। তাহলে কেন এমন হল? এই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সোহিনীর পরিবার দায়ী করছেন চিকিৎসককেই।
তাও নিজেকে সামলে নিয়ে তাঁরা জানান,”২২ তারিখ সকালে তিনি ও তাঁর স্বামী অনুভব করেন, গর্ভস্থ শিশু আর স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করছে না। তখনই তাঁরা চিকিৎসককে ফোন করেন, চিকিৎসক তাঁদের চেক আপের জন্য আসতে বলেন। সোহিনী ও তাঁর স্বামী সেখানে পৌঁছলে তাঁদের একটি USG করতে বলা হয়। সেই পরীক্ষা করে দেখা যায়, শিশুর গলায় কর্ড বা নাড়ি জড়িয়ে রয়েছে। এটা শোনার পরেই আবার ডাক্তারের কাছে যান সোহিনী।
সোহিনী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, শিশুর অবস্থা বিপজ্জনক বুঝেও, কেবলমাত্র অন্য জায়গায় ক্লাস করাতে যাবেন বলে তখনই অস্ত্রোপচার করেননি চিকিৎসক। চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, এখনই অস্ত্রোপচার করে শিশুকে বের করে নিলে বিপদ হতে পারে। সেই কারণে সোহিনীকে পরীক্ষা করে ডাক্তার বলেন, বাচ্চা যেহেতু প্রিম্যাচিউর তাই একদিন অবজারভেশনে রেখে তারপর অপারেশন করা হবে। ততক্ষণ বাচ্চার নড়াচড়া লক্ষ্য করতে বলা হয়। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর থেকে কোনওরকম মনিটারিং করা হয় না সোহিনীকে। এদিকে বেলা ১২টার পর থেকে আর বাচ্চার নাড়াচাড়া বুঝতে পারে না সোহিনী।
এরপরে সোহিনী বারেবারে অনুরোধ করলেও, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, চিকিৎসক ও আসেননি। দুপুর ২টো নাগাদ চিকিৎসক ক্লাস করিয়ে ফেরেন এবং তখন তিনি ও শিশুর নড়াচড়া অনুভব করতে পারেন না। সোহিনী আর তাঁর পরিবাবের অভিযোগ, এরপরে চূড়ান্ত অসহযোগীতা করেছেন চিকিৎসক। বলেছেন, শিশু যখন গর্ভেই মারা গিয়েছে, আর কিছু করার নেই। এমনকি সোহিনীকে দেখতে হাসপাতালে পর্যন্ত আসতে চাননি চিকিৎসক।
আরও পড়ুন:Sweta-Mamata:স্লিভলেস পোশাক বিতর্কে শ্বেতার পাশে দাঁড়ালেন মমতা শঙ্কর
সোহিনীর বাড়ির লোক খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করেন ডাক্তারকে। সবাই মিলে তাঁকে ঘিরে ধরলে তিনি বলেন, তিনি সুগারের রুগী, হাত-পা কাঁপছে ইনসুলিন নিতে হবে। প্রচন্ড যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়, কিন্তু ডাক্তার অপারেশন করতে চান না। অবশেষে অনির্বাণ লিখিত দিলে তবে অপারেশন করানো হয়। অপারেশন রুমে ঢুকে নাকি ওই অবস্থায় ডাক্তার সোহিনীকে বলেন, তোমার বাড়ির লোক এমন করছেন কি করে তোমার অপারেশন করব। এত ভিডিয়ো করতে তাই তোমার বাচ্চা মারা গেছে।
সোহিনী স্বামী অনির্বাণের দাবি অনুযায়ী, অপারেশনের পর তিনি সন্তানকে দেখে বুঝেছিলেন যে প্রিইম্যাচিউর বেবি ছিল না। অনায়াসে আগেই অপারেশন করে দেওয়া যেত। ডাক্তার প্রথম দিন থেকে জানতেন সোহিনীর ভিডিয়ো করার কথা। সমস্যা হলে তিনি আগেই বলতেন,ডাক্তারের পরামর্শ মতোই সবকিছু করেছিল সোহিনী।
আরও পড়ুন:Sweta-Moumita:সবার সামনে কোন গোপন সত্যি তুলে ধরলেন অভিনেত্রী মৌমিতা চক্রবর্তী?
প্রশ্ন উঠছে, আজ কি মানুষ এতটাই নির্লজ্জ হয়ে উঠেছে যে সদ্য সন্তানহারা এক মাকে এইভাবে কাঠগোড়ায় দাড় করিয়েছেন তারা? বর্তমান সমাজে কি মানবিকতা বলে কিছুই নেই?