Kaushik Ganguly:”সারাক্ষণ ঠোঁট উচু করে ফোনে সেলফি তুলতেই ব্যস্ত,তাহলে মনের কথাটা বলবে কি করে!” বর্তমান প্রজন্মের সেলফি তোলার যে হিড়িক, তা নিয়ে সোজা সাপ্টা জবাব কৌশিক গাঙ্গুলীর

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Kaushik Ganguly: বর্তমান, এই প্রজন্ম নিজেকে এখন সবসময় ক্যামেরাবন্দি করতেই ব্যস্ত। যুগের সাথে মানুষের জীবনধারণের মান পাল্টেছে, পাল্টেছে পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, আচার-আচরণ। এখন মানুষ ফোনের মাধ্যমেই নিমেষেই জেনে ফেলছে অনেক অজানা তথ্য। আবার কেউ বা এর সাহায্যে নিজের ইন’কা’মের ঠিকানা খুঁজে নিয়েছেন। অপরদিকে কেউ এটাকে কাজে লাগিয়ে অ’শ্লী’ল ভিডিও বানিয়ে কনটেন্ট রূপে প্রকাশ করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। স্মার্ট ফোনের যেমন ভালো গুণ আছে তেমন খা’রা’প গুণও সমাজকে অ’বন’তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

কিন্তু পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলী যেন এক ভিন্ন ধারার মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ফিল্টার লাগানো দুনিয়াকে কমই বোঝেন তিনি। অনলাইন জগতের থেকে বেশি পরিবারের সাথে সময় কাটাতে তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই প্রয়োজনের বাইরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বেশি অ্যাক্টিভ নন। তাঁর মতে, ফোন কোনোদিন একটা মানুষের থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর বর্তমানে এই ফোনের যুগে কোথাও গিয়ে ক্যামেরায় ছবি তোলা যেন হারিয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন:Riya Ganguly:বরের সাথে নেই সম্পর্ক তাও শাশুড়ি মায়ের জন্য ম’ন কেঁ’দে উঠল অভিনেত্রী রিয়া গাঙ্গুলীর। তারপর?

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন,”ভ’য়াবহ জিনিস হচ্ছে, কখনও নিজের তোলা ছবি মোবাইলে জুম করে দেখেছেন? পুরো জুম করার পর দেখবেন ওটা আউট অফ ফোকাস আছে। খালি চোখে যেমন দেখতে লাগছে মোবাইলে,সেটা নেই। চোখ, মুখ, নাক কোনোটাই ফোকাসে নেই। সারা পৃথিবী এই মুহূর্তে ক্যামেরায় ছবিটা তুলে মোবাইলে তুলছে। এটা মেমারি এই সময়কার। আপনার কি ভাবতে পারছেন,এই যুগের মেমারি সারা পৃথিবীতে আউট অফ ফোকাসে রেকর্ড হচ্ছে।”

আরও পড়ুন:Sudip-Preetha:’বি’চ্ছে’দে’র পর ঘটা করে সিঁদুর পরা যেন এখন ট্রেন্ড হয়ে গেছে…’ বিজয়া দশমীতে সিঁথি ভর্তি সিঁদুর, ক’টা’ক্ষ সুদীপের প্রাক্তন পত্নী পৃথাকে,পাল্টা জবাব দিতে ছাড়লেন না পৃথা

তাঁর কথায় কিন্তু একটা মোবাইল ফোন মানুষের বেঁচে থাকার রশদই কেড়ে নিয়েছে। মোবাইল ফোনে থাকা ক্যামেরা সেটা সমাজে কী প্রভাব ফেলছে কী ক্ষ’তি করছে? এরপরই বেশ খানিকটা আ’ক্ষে’পের সুরে তিনি জানান,”আগে ছিল যে কোনো একটা জায়গায় কেউ বেড়াতে গেলে একটা ক্যামেরা থাকত। এখন আর থাকে না। একটা মোবাইলের পিছনে তিনটে ক্যামেরা। তাহলে তুমি একটা ক্যামেরা আলাদাভাবে নেবেই বা কেন? যখন একটা সামান্য পাতলা জিনিসেই হয়ে যাচ্ছে। এবং সেই ক্যামেরার ক্ষমতা অসম্ভব বেশি। একটা গৃহস্থকে ফটোগ্রাফার বানিয়ে দিচ্ছে, বেড়াতে গেলে স্বামী-স্ত্রীকে ফটোগ্রাফার বানিয়ে দিচ্ছে, প্রেমিককে ফটোগ্রাফার বানিয়ে দিচ্ছে। বোকার মত ছবি তুলে যাচ্ছে দিনরাত। একটা সীমা আছে তো। তাহলে মনের কথাটা বলবে কখন? যখন সারাক্ষণ যদি ঠোঁট উঁচু করে সেলফি তোলে। কী একটা বিচিত্র! এই পা’উ’ট করাটা, এর বিজ্ঞানটা, আমি এখনও বুঝিনি। আমি সত্যিই বুঝিনা তুমি তো আর হাঁস নও বা পাখি নও যে তোমাকে একটা ঠোঁট বানাতে হবে, চঞ্চুর প্রয়োজন আছে! তা তো দরকার নেই। কিন্তু এসব বিচিত্র জিনিস আসছে এবং মানুষ এইগুলো নিয়েই মেতে আছে। এবং এই করতে করতে সময় পেরিয়ে যাবে। এবং কিছু ঝাপসা স্মৃতিতে আমরা থেকে যাব।” তাঁর মতে, ফোন কখনই ক্যামেরার জায়গা নিতে পারবে না।

পরিচালকের কথায় নেটিজেনদের একাংশ সহমত প্রকাশ করেছেন।

Leave a Comment