“খুব ভয়ে আছি…জীবন থাকলে তবেই তো সব আনন্দগুলো উপভোগ করতে পারব। জীবনকে যদি উপভোগই না করতে পারলাম তাহলে আর কী হবে?…” হঠাৎ আতঙ্কিত কেন অভিনেত্রী মধুবনী গোস্বামী?
টলিপাড়ার অতি পরিচিত মুখ মধুবনী গোস্বামী। অভিনয় জগতে তাঁকে খুব একটা দেখা না গেলেও তাঁর নিত্যদিনের ভ্লগের মাধ্যমে সমাজমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় তিনি। অনুরাগীদের সঙ্গে মনের কথাও ভাগ করে নেন।
সম্প্রতি বলিউডের নায়িকা শেফালি জরিওয়ালা মারা গিয়েছেন। ২৭ জুন রাতে মারা যান তিনি। সম্ভবত শেফালির মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ বলেই জানা যায়। এবার তা নিয়ে মুখ খুললেন মধুবনী।
তেমনই একটি ভিডিও পোস্ট করে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন সবাইকে। ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেছেন,”একজন অভিনেত্রীর মৃত্যু হল…খুব ভয়ে আছি…।”
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়,”আজ আমি আমার জীবনের কিছু উপলব্ধি যা গত ১৫ দিনের মধ্যে হয়েছে,সেগুলো একটু তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করব বলে ভেবেছি। তারপরই শেফালির নাম না করেই তিনি বলেন,বলিউডের একজন অভিনেত্রী। যে একটা বিখ্যাত মিউজিক ভিডিও করেছিল,যার জন্য তিনি প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তাঁর খুব অল্প বয়সে মৃত্যু হয়, হার্ট অ্যাটাকে। এবং সেটার কারণ হিসেবে অনেকে অনেক কিছু বলছে,এবং যেটা সবাই জানতে পেরেছে, সেটা হল,তাঁর এই হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কারণ তিনি বহুক্ষণ খালি পেটে থাকতেন।
যেদিন তিনি মারা যান, সেদিনও নাকি তিনি অনেকক্ষণ কিছু খাননি, ফলে তাঁর ব্লাড প্রেশার খুব কমে গিয়েছিল। তারপর আবার তিনি খালি পেটেই একটা ওষুধ খান। তারপর কী হয়েছিল বাকিটা আমরা জানি।”
এরপর অভিনেত্রী নিজের প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে বলেন,”মাঝে আমি ঠিক করেছিলাম আমি ডায়েটিং করব। আমি ভাত, রুটি খাব না। কারণ সবার আগে আমাদের মাথাতে ওটাই আসে যে আমরা ভাত, রুটি, মিষ্টি বাদ দেব। কারণ বহুদিন ধরে আমরা নানা জায়গা থেকে এটাই শুনে আসছি। আর এতেই বিশ্বাসী হয়ে গিয়েছি। শুধু মাছ, মাংস, ডিম খাব। বা যাঁরা এগুলো খান না তাঁরা পনির বা সোয়াবিন এই সব খাবেন। মূলত প্রোটিনটাই খাবেন।
তবে বর্তমানে অনেক চিকিৎসকদের বলতে শোনা যায় এটা কত বড় ভুল কথা। কারণ বর্তমান প্রজন্ম তাঁদের খাদ্যতালিকা থেকে ভাত, রুটি মতো কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কতখানি বাড়িয়ে ফেলছেন।
আমি ঠিক করেছি, আমি ভাত রুটি কিছুই বাদ দেব না।
প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে যেভাবে রোগা হতে হয়, সে ভাবেই হব। অর্থাৎ ভাত, রুটি থেকে শুরু করে প্রোটিন সবটাই নিয়ম ও পরিমাণ বুঝে খাওয়া আর শরীরচর্চা করা।”
তিনি আরও বলেন,”শরীরচর্চা আমার রুটিনে এবার রাখতে হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি ভাত রুটি খাওয়া বন্ধ করে দেব। একটা সময় আমিও করেছিলাম। তবে এই ঘটনা আমার চোখ খুলে দিয়েছে।
আমি ওরকম কোনও ডায়েট করে রোগা হব না। যদি জীবনটাই না থাকে তবে রোগা হয়ে কী লাভ? জীবন সবার আগে গুরুত্বপূর্ণ। জীবন থাকলে তবেই তো সব আনন্দগুলো উপভোগ করতে পারব। জীবনকে যদি উপভোগই না করতে পারলাম তাহলে আর কী হবে?”