Sriparna Roy:”আমরা ইমোশান বে’চে খাই! মা হাসপাতালে ভর্তি,আমি শুটিং করছি,হাসপাতালে বসেই স্ক্রিপ্ট মুখস্ত করেছি…” মায়ের চলে যাওয়ার ক’ষ্ট নিয়েই শুটিং করেন শ্রীপর্ণা! অতীতের পুরানো স্মৃতি ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Sriparna Roy:ছোটপর্দার ‘টুসু’কে মনে আছে, একসময় গ্রামবাংলার সেই সরল মেয়েটি মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ‘টুসু’ ওরফে অভিনেত্রী শ্রীপর্ণা রায় দর্শকের মনে বেশ জায়গা করে নিয়েছিলেন। এরপর আরও নানান ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। তাঁর নিজ অভিনয় গুণে পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কম চর্চা চলছে না। স্বামী শুভদীপের সঙ্গে সব ছবি ইতিমধ্যেই ডিলিট করেছেন তিনি। অনেকই মনে করছেন তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। যদিও এই নিয়ে সরাসরি কিছু জানাননি অভিনেত্রী।

প্রায় দীর্ঘ দু’বছর পর তাঁকে আবার পর্দায় দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’তে অভিনয় করছেন। তবে মুখ্য চরিত্রে না হলেও পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেও কম ভালোবাসা পাচ্ছেন না তিনি। এটাই তাঁর প্রথম পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়। কিন্তু আচমকাই প্রধান নায়িকা থেকে পার্শ্ব চরিত্র কেন? এতদিন বিরতির পেছনে কি কারণ ছিল? অভিনেত্রীর কথায়,”অভিনয় মোটেও একটা ছেলেখেলা করার জিনিস না। অনেকেই মনে করেন আমরা ঘুরতে যাই, সারাদিন মেকাপ করি, আর আড্ডা দেই। আসলে কিন্তু ঠিক এর উল্টোটাই। ব্যক্তিগত জীবনে যেমনই ঝড় আসুক না কেন, সেটাকে লুকিয়ে রেখে পর্দার সামনে হাসিমুখে দাঁড়াতে হয়। আমরা ইমোশান বেচে খাই!”

আরও পড়ুন:Anurager Chhowa:কী আজব সিরিয়াল! মা হয়ে গেল মেয়ে, আর মেয়ে হয়ে গেল মা! ফিরে এল ‘রূপা’, ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ দেখে রীতিমতো ট্রোলিংয়ের বন্যা নেটপাড়ায়

লোকে টিভির পর্দায় তারকাদের যেভাবে দেখে বাস্তবে যে তাঁদের জীবন অনেকটাই আলাদা,এমনই কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অভিনেত্রী।

অভিনেত্রী বলেন,” আমার জীবনে এমন একটা কঠিন সময় এসেছিল, যখন আমার মা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আমি একমাত্রই সন্তান, মা-বাবা ছাড়া পরিবারে আর কেউ নেই। কাজেই আমি ছোটো থেকে খুব আদরে বড় হয়েছি। আমার কাজ চলাকালীন মা যখন হাসপাতালে ভর্তি ছিল, নিজের সবটা করতে হয়েছে আমায়। এমনকি হাসপাতালে বসেও স্ক্রিপ্ট মুখস্ত করেছি। আবার শুটিংও করেছি। যদিও মা কিছুদিন পরেই চলে যান। এটা কত বড় আঘাত বোঝাতে পারব না? চারিদিকে সবাই সহানুভূতি দেখাচ্ছে কিন্তু আমাকে সেই সময় দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। নিজের ইমোশন লুকিয়ে, চরিত্রের খাতিরে মিথ্যে ইমোশন নিয়ে পর্দার সামনে দাঁড়াতে হয়েছে। কারণ অভিনয়টা আমি ভালোবেসে করি আর আমি চাই না আমাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হোক। হাসপাতালে যখন একদিকে ডাক্তার বলছেন মাকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়। সেখানে দাঁড়িয়ে কাঁদছি আবার সেটে ফিরে এসে হা-হা করে হাসতেও হচ্ছে! সেই পরিস্থিতি কাউকেই বোঝানো সম্ভব নয়।”

আরও পড়ুন:Sudipa Chatterjee:বাড়ির পোষ্যকে মে’রে ফেলা হয়েছে? নাকি অন্য কিছু? অ’ভি’যো’গ সুদীপা চ্যাটার্জীর

তবে ইন্ডাস্ট্রিতে যে কেউ কারোর বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষী নন সেটা স্পষ্ট জানিয়েছেন শ্রীপর্ণা। তাঁর কথায়,”একটা ধারাবাহিকে মাঝপথেই আমাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাদের কথা, আমার জন্য নাকি টিআরপি উঠছিল না। যদিও শুধু ঐ একটা কারণ ছিল না। ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে অনেক কিছুই চলে। তবুও ভেঙে পড়েছিলাম এতটা খারাপ লেগেছিল।”

আরও পড়ুন:‘Chiroshokha’ Serial:’মেয়েদের আর কত নীচে নামাবে লেখিকা,অ’সু’স্থ লেখিকা…’ ,’পার্বতী’র দেওয়া শর্তের কাছে কি ‘নতুন’ কখনও সত্যিটা জানাতে পারবে না কমলিনীকে! ‘চিরসখা’ দেখে ক্ষো’ভে ফে’টে পড়লেন দর্শক

অবশেষে তিনি জানালেন কেন তিনি দুবছর পর্দা থেকে দূরে ছিলেন? একটি প্রোডাকশন হাউজের তরফে অভিনেত্রীকে অফার কাজের দেওয়া হয়েছিল। সব কথা হয়ে গিয়েছিল, তাই অন্যান্য প্রোডাকশন থেকে ভালো ভালো চরিত্রের অফারও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কারণ তিনি কথার খেলাপ করতে চাননি। কিন্তু পরবর্তীতে সেই প্রোডাকশন হাউজের কাজটি আর হয় না। তাঁর কথায়, “অনেকেই চাননি তিনি সেখানে কাজ করুন।” এরপর দীর্ঘ দুবছর কাজ পাননি তিনি। সবাই জিজ্ঞেস করত কবে কাজে ফিরবেন। কিন্তু সেই সময় নিজেকে সামলানোর সময় দিয়েছিলেন অভিনেত্রী,এটাই কাউকে বোঝাতে পারতেন না তিনি।

Leave a Comment