Baro Maa:নৈহাটিতে যেমন বড়মা আছেন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষীরপাই অঞ্চলেও বড়মা রয়েছেন। হাজার হাজার ভক্তের ভিড় হয় এখানে। কালীপুজোর আগে সাজ সাজ রব মন্দিরে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষীরপাই অঞ্চলে আছে কংক্রিটের তৈরি প্রায় ৪৫ ফুট উচ্চতারও বেশি বিশাল আকারের কালী প্রতিমা। ভক্তদের কাছে তিনি ‘বড়মা’ নামেই পরিচিত। বিভিন্ন রাজ্য থেকে ক্ষীরপাইয়ের বড়মার(Baro Maa Kali Temple Khirpai) পুজো দেখতে আসেন মানুষ। শ্মশানকালী হলেও এই পুজোয় বলি হয় না। সমস্ত নিয়মরীতি মেনেই এখানে পুজো হয়।
এটি এমন একটি মন্দির যেখানে নেই কোনো পুরোহিত। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রান্তের অগণিত মানুষ মায়ের দর্শনে আসেন। তারা নিজেরাই নিজের মতো করে মায়ের পুজো দেন। ভক্তদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয় মন্দিরের পূজোর যাবতীয় কাজ। অমাবস্যা ও কালীপুজোর সময় ছাড়া বড়মার মন্দিরে থাকে না কোনো পুরোহিত। আগত হাজার হাজার ভক্তদের কাছে থেকে কোন দক্ষিণা নেওয়া হয় না। কোন প্রণামী বাক্সের চিহ্ন নেই মন্দিরে। পুজোর পরদিন বড়মার মন্দিরে প্রসাদ খেতে আসেন হাজার হাজার ভক্ত। মূর্তির রূপেও রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
বড়মার একহাতে রয়েছে পৃথিবী আর এক হাতে সাদা পায়রা। বাকি দুই হাতে খাড়া ও কাটামুন্ডু। রুদ্ররূপের পাশাপাশি ধরিত্রীর রক্ষাকর্তা ও শান্তির বাহক হিসেবে দেবীর এক হাতে পৃথিবী ও অপর হাতে পায়রা রয়েছে বলেই জানা যায়। প্রথমে মাটির চালায় ছোটো প্রতিমা তৈরি করে পুজো শুরু হয় যাকে ‘ছোটমা’ ডাকা হত।
প্রতিষ্ঠার পরের বছর বন্যায় মায়ের মাটির চালা ডুবে গিয়ে মূর্তি ভেঙে যায়। ছোটো মায়ের পাশেই প্রায় ৪০ ফুটেরও বেশি উচ্চতার কংক্রিটের মায়ের মূর্তি তৈরি হয়। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান এই মন্দিরের সামনে কেবল একবারের জন্য দেবী দর্শনের জন্য। অনেক ভক্তের দাবি মায়ের কাছে মন থেকে কিছু চাইলে তা পূরণ হবেই। বিভিন্ন রোগের নিরাময়ের জন্যও অনেকে মায়ের কাছে আসেন। মন্দিরের লেখা রয়েছে অর্থের বিনিময় নয়, নিজ হাতে পুজো করুন।