Jaya Ahsan:জয়া আহসান মানে চমক। বছরভর টলিউডে অসাধারণ অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করা এই অভিনেত্রী আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কাড়লেন তাঁর অনন্য ফ্যাশন স্টেটমেন্টে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র থেকে যাত্রা শুরু হলেও আজ তিনি দুই বাংলারই সমান জনপ্রিয় মুখ। সীমান্ত পেরিয়ে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন, শিল্পীর কোনও দেশ থাকে না, প্রতিভাই তাঁকে নিজের পরিচয় তৈরি করে দেয়। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বেও জয়া বরাবরই অনুরাগীদের বিস্মিত করেছেন, আর তেমনই এক নতুন লুক নিয়ে ফের হাজির হলেন তিনি।
সাম্প্রতিক এক ফটোশ্যুটে জয়ার পোশাকই হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পাথরখচিত ব্লাউজের সঙ্গে জিন্স, শুনলেই যেন অদ্ভুত মনে হয়, কিন্তু জয়ার আত্মবিশ্বাস আর স্টাইল সেই কম্বিনেশনকে পরিণত করেছে এক নিখুঁত ফ্যাশন স্টেটমেন্টে। চোখে স্মার্ট সানগ্লাস, মাথায় লাল-সাদা গোলাপ, কপালে মোটা টকটকে সিঁদুরের টিপ। এই সাজে যেন অন্য এক রূপে দেখা দিলেন অভিনেত্রী। হাতে মানানসই ডিজাইনার চুড়ি, আর তার সঙ্গে হাতে একটা লাল আপেল। কখনও সেই আপেল হাতে নিয়ে, আবার কখনও মাথায় ব্যালেন্স করে, আবার কখনও ঠোঁটের সঙ্গে ঠেকিয়ে, এই সবটাই মিলেমিশে তৈরি করেছে এক ভিন্ন ধাঁচের ‘ডিভাইন-ডেয়ারিং’ লুক।
কিন্তু চমক এখানেই শেষ নয়, জয়ার পোস্টের ক্যাপশনই যেন তাঁর লুকের মতোই দৃষ্টি আকর্ষণকারী। ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “ইভ ইডেন গার্ডেনের অ্যাডামের থেকেও বেশি সাহস দেখিয়েছিল। সাপটি যখন নিষিদ্ধ ফলটি দিয়েছিল, তখন সে জানত স্বর্গের চেয়েও সুখের কিছু নিশ্চয়ই আছে।” আপেল হাতে জয়ার এধরনের দার্শনিক ক্যাপশন, একরকম নতুন আলোচনার জ’ন্ম দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অনুরাগীদের মধ্যে ছড়িয়েছে প্রশংসার বন্যা। কেউ তাঁকে তুলনা করেছেন আলিয়া ভাটের আইকনিক চরিত্র ‘গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি’র সঙ্গে, আবার কেউ লিখেছেন, ‘একদম আ’গু’ন! কে কোথায় আছিস, জল নিয়ে আয়।’ অবশ্য নেটিজেনদের একাংশ নিন্দা করতেও ছাড়েননি তাঁকে।
এদিকে ‘ডিয়ার মা’-র সাফল্যের পরে এখন দর্শকের অপেক্ষা জয়া অভিনীত কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘অর্ধাঙ্গিনী ২’-এর জন্য। বড়পর্দায় তাঁর অভিনয়ের মতো ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন মুহূর্তও তিনি নিয়মিত শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কয়েক দিন আগেই রাজরাণীর সাজে কিছু ছবি শেয়ার করে জানিয়েছিলেন, তাঁর পরনে থাকা দুটি শাড়ি তাঁর মায়ের বিয়ের এবং বৌভাতের শাড়ি, ৪৫ বছরের পুরানো। সোনার সুতোয় কাজ করা সেই চিরকালীন শাড়িগুলোর মধ্যে তিনি যেন আবার খুঁজে পেয়েছিলেন পরিবারের মধুর স্মৃতি।
জয়ার প্রতিটি পোস্টে স্পষ্ট, তিনি শুধু অভিনেত্রী নন, বরং এক শিল্পী, যিনি নিজের পোশাক, ভাবনা ও প্রকাশভঙ্গির মাধ্যমে বারবার নতুন গল্প বলেন। আর সেই গল্পেই মুগ্ধ হয়ে থাকে দুই বাংলার দর্শক।