Sovan-Baisakhi:রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ডি’ভো’র্স মা’ম’লা দীর্ঘদিন ধরেই আদালতে ঝুলে রয়েছে। আইনি বি’চ্ছে’দ এখনও সম্পন্ন না হলেও, বাস্তব জীবনে শোভনের সঙ্গেই এক ছাদের তলায় সংসার করছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বিয়ের সামাজিক স্বীকৃতি না থাকলেও, তাঁদের স’ম্প’র্ক যে নিছক বন্ধুত্বের গণ্ডিতে আটকে নেই, তা বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে। একসাথে থাকার মধ্যেই তাঁরা গড়ে তুলেছেন এক সম্পূর্ণ পরিবার যেখানে বৈশাখীর মেয়ে মেহুলও রয়েছে সমান গুরুত্বে।
বৈশাখী নিজেই একাধিক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন, ‘স’হ’বাস’ বা ‘সহযাপন’ শব্দের মধ্যে কোনও হালকাভাব তিনি দেখেন না। তাঁর মতে, এই সম্পর্কে যেমন মাধুর্য্য আছে, তেমনই রয়েছে দায়িত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। সমাজের একাংশের ধারণা, স’হ’বা’স মানেই কোনও দায় নেই এই ভাবনাকে তিনি বরাবরই ভুল বলে মনে করেন। শোভনের জীবনে তাঁর অধিকারবোধ আছে, তবে সেই অধিকার কোনওভাবেই সম্পত্তি-কেন্দ্রিক নয়। এক সাক্ষাৎকারে বৈশাখীর বক্তব্য ছিল, তাঁর অধিকার শোভনের মানুষ হিসেবে অস্তিত্বের উপর, তাঁর সম্পদের উপর নয়।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও বৈশাখীর জীবনযাপনে সধবা নারীর প্রতীকগুলি স্পষ্ট। সিঁথিতে সিঁদুর, হাতে শাঁখা-পলা সবই তিনি পরেন স’হ’বা’স-সঙ্গীর নামেই। শোভনের গোলপার্কের বহুতলে গত কয়েক বছর ধরেই একসঙ্গে থাকছেন তাঁরা। এই সংসারে বৈশাখীর মেয়ে মেহুলও রয়েছে, যে ধীরে ধীরে এই সম্পর্কের অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন:Anindita Bose:এক নয়, একাধিক স’ম্প’র্ক ভা’ঙ’ন! অনিন্দিতা বসুর জী’ব’নে প্রে’ম কি শুধুই অধ্যায় বদল?
সমাজ ও পরিচিতি মহল থেকে নানা ক’টূ’ক্তি, ক’টা’ক্ষ শুনতে হয়েছে বৈশাখীকে সেই অভিজ্ঞতার কথাও তিনি অকপটে বলেছেন। তাঁর দাবি, স’হ’বা’স যদি এতটাই সহজ ও দায়িত্বহীন হত, তবে অনেক আগেই তিনি এই স’ম্প’র্ক থেকে বেরিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু দিনের শেষে শোভনের মুখ, তাঁর উপস্থিতি এসব ভুলে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। আদালতের দীর্ঘ সূত্রতার কারণেই বিয়ে এখনও হচ্ছে না বলেও তিনি জানিয়েছেন। এমনকি মজা করে বলেছেন, শোভনের ৭০ বছর বয়সে ডিভোর্স হলেও তাঁরা তখনই বিয়ে করবেন।
অতীত জীবনের য’ন্ত্র’ণা’র কথাও সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেছেন বৈশাখী। প্রাক্তন স্বামী মনোজিতের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে শা’রী’রি’ক ও মা’ন’সি’ক নি’র্যা’ত’নে’র অভিযোগ তিনি বারবার করেছেন। বিয়ের আগেই সন্দেহ প্রবণতা ও হিং’স্র আ’চ’র’ণের শি’কা’র হয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর। বিয়ের পরেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি, এমনকি মেয়ে মেহুলের জন্মের পরেও নয়। সেই সময় বন্ধু হিসেবে শোভনই তাঁকে সাহস দিয়েছিলেন ওই পরিবেশ ছেড়ে বেরিয়ে আসার। মাথার উপর ছাদ, নিরাপত্তা সবটাই তখন শোভনের কাছ থেকেই পেয়েছিলেন বৈশাখী।
সে সময় শোভনের ভূমিকা নিয়েও নানা সমালোচনা হয়েছিল। মনোজিত-সহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁর চ’রি’ত্র নিয়ে। তবে বৈশাখীর দাবি, তাঁদের স’হ’বা’স শুরু হওয়ার পর শোভনের জীবনে অন্য কোনও নারীর স্থান নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেহুলও তাঁদের সঙ্গেই থাকতে শুরু করে। আজ তাঁরা তিনজন মিলে একটি পরিপূর্ণ পরিবার। জন্মদিন থেকে শুরু করে জামাইষষ্ঠী, লক্ষ্মীপুজো, গণেশপুজো বা সরস্বতীপুজো সবই পালন হয় ঘরোয়া আনন্দে। এই মুহূর্তগুলির ছবিও নিয়মিত জায়গা করে নেয় সমাজমাধ্যমে, যেখানে শোভনকেও দেখা যায় সমান উৎসাহে পাশে থাকতে।