Anirban Bhattacharya:গানে রাজনীতি, তারপরই কপালে শুনানির নোটিস! অনির্বাণ ভট্টাচার্যের জীবনে অপ্রত্যাশিত মোড়

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Anirban Bhattacharya:একজন অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya)। চরিত্রের গ’ভী’রে গিয়ে অভিনয় করার ক্ষ’ম’তা তাঁকে আজকের প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নায়কে পরিণত করেছে। তবে গত এক বছরে তাঁর শিল্পীসত্ত্বার আরেকটি দিক সামনে এসেছে, তাঁর গানের স্বরূপ। নিজের ব্যান্ড ‘হুলিগানিজম’ (HooliGaanIsm)-এর মাধ্যমে তিনি গান বেঁধেছেন, গেয়েছেন, আর সেই গানই তাকে নিয়ে এসেছে আ’লো’চ’না’র কেন্দ্রে। সেই গান যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে বি’ত’র্কে’র ঝ’ড়’ও।

রাজ্য রাজনীতিকে ব্য’ঙ্গ’বি’দ্রূ’পে’র কা’ঠ’গ’ড়া’য় তুলে ধরেছিল সেই গান। তী’ক্ষ্ণ রসিকতা ও কৌতুকের ছলে উচ্চারিত বক্তব্য অনেকের কাছে রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবেই ধরা পড়ে। ফলে অনেকে যেমন সমর্থন করেছেন, তেমনই একাংশের স’মা’লো’চ’না’র মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে গানটির স্যাটায়ারিক ভাষা যে একদিন তাঁর নিজের জীবনেই এমনভাবে প্রতিফলিত হবে, তা হয়ত তিনিও কল্পনা করেননি।

ঠিক এই সময়েই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে SIR-এর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া। প্রথম দফার কাজ শেষ হয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ইতিমধ্যেই জোরকদমে চলছে। কমিশনের তরফে অনেক নাগরিককে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। এমন অনেককেই, যাদের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও নথিপত্র সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠেছে। কাকতালীয়ভাবে সেই তালিকাতেই উঠে এসেছে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের নাম।

আরও পড়ুন:Sabitri Chatterjee:“ডিস্ট্রিবিউটররা তাঁর ছবি নিতে চাইতেন না”, “ মৃণাল সেন এত বে’ই’মা’ন!…”, “উত্তম কুমারের জন্য ভে’ঙে যায় বিয়ে!” সততা, নী’তি’বো’ধ আর স’ম্প’র্কে’র জগতে তি’ক্ত অভিজ্ঞতার বি’স্ফো’র’ক দা’বি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের

জানা গেছে, এনিউমারেশন ফর্মে অভিনেতা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজের পারিবারিক নথির যোগসূত্র দেখাতে পারেননি। সেই বছরের তালিকায় তাঁর বাড়ির কারও নাম পাওয়া যায়নি। না বাবা-মা, না দাদা-দিদা বা পূর্ব প্রজন্মের কারও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রক্রিয়াগত সংকটে পড়তে হয়েছে তাঁকে। যদিও অনির্বাণ বর্তমানে ভোটার তালিকায় তালিকাভুক্ত, তবু নিয়ম মাফিক তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দিয়ে নথি প্রদর্শনের জন্য ডাকা হয়েছে।

এই বছরের জুলাই মাসেই অনির্বাণের বাবা প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্য প্র’য়া’ত হন। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় অনির্বাণের নাম থাকলেও, বাবার মৃ’ত্যু’র পর তার উপস্থিতি ও পারিবারিক রেকর্ড যাচাইয়ের জন্যই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে খবর। মেদিনীপুরের শরৎপল্লি তাঁদের পৈতৃক ঠিকানা হলেও বর্তমানে অনির্বাণ থাকেন কলকাতায়। মা ও বোনকে নিয়ে গড়িয়ার বাসভবনে।

আরও পড়ুন:Best Bikes:বছর শেষে বাজেটের মধ্যে নতুন মোটরবাইক কেনার পরিকল্পনায় রয়েছেন? পেয়ে যান আকর্ষণীয় কিছু মডেল, দেখে নিন সেই তালিকা

অন্যদিকে, অনির্বাণের জেঠু বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তাঁর ভাই প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্য কেন পূর্ববর্তী ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলেননি, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। ইতিমধ্যেই তিনি এলাকার তিনটি বুথ ঘুরে দেখেছেন, কিন্তু কোথাও ভাইয়ের নাম খুঁজে পাননি। আবার অনির্বাণের দাদু–দিদা দু’জনেই বহু আগেই প্র’য়া’ত হওয়ায় তাঁদের নাম স্বাভাবিক নিয়মেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

তবে সমস্ত বিষয় নিয়ে খুব বেশি দু’শ্চি’ন্তা করছেন না পরিবারের সদস্যরা। বিদ্যুৎ ভট্টাচার্যের মতে, অনির্বাণের সমস্ত আধুনিক নথিপত্র সাজানো ও সঠিক আছে। তাই শুনানিতে হাজির হয়ে যা যা প্রমাণপত্র দেখানোর কথা, তিনি তা উপস্থাপন করতে পারবেন বলেই তাঁদের বিশ্বাস। অনির্বাণ নিজেও জানিয়েছেন, যেহেতু বর্তমান তালিকায় তাঁর নাম আছে, তাই কমিশন যা নথি চাইবে, তিনি তা জমা দেবেন।

ঘটনার বি’দ্রূ’পা’ত্ম’ক (ironical) দিকটি এখানে আরও প্রকট যে শিল্পী রাজনীতিকে ব্য’ঙ্গ করে গান বেঁধেছিলেন, তিনিই এখন আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জ’টি’ল’তা’য় শুনানির মুখোমুখি। অথচ বিষয়টি আসলে একেবারেই প্রশাসনিক ও নথিভিত্তিক, রাজনৈতিক নয়। তবু তাঁর পূর্বতন গানের স্মৃতি থাকায় বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় বিশেষ মাত্রা পেয়েছে।

বলাইবাহুল্য, SIR-এর এই প্রক্রিয়া বর্তমানে রাজ্যের বহু মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়েছে। কেউ কেউ নথি জোগাড় করতে সমস্যায় পড়ছেন, কারও আবার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ডাকা হচ্ছে যাচাইয়ের জন্য। সেই বৃহত্তর নাগরিক প্রক্রিয়ারই অংশ হয়ে উঠেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য।

একজন জনপ্রিয় শিল্পীর ক্ষেত্রে এমন একটি নোটিস স্বাভাবিকভাবেই জনমহলে কৌ’তূ’হ’ল তৈরি করে। তবে অভিনেতা নিজে খুব সোজাসাপ্টা ভাষায় জানিয়েছেন যে, তিনি নিয়ম মেনে হাজিরা দেবেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাবেন, এবং বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।

আরও পড়ুন:Gaurav Chakrabarty:”বাড়ি সামলানো কি শুধু মেয়ের দায়িত্ব?”…. সমাজের এই গোঁড়ামি মানতে নারাজ গৌরব চক্রবর্তী, সমাজকে আয়না দেখালেন অভিনেতা

শিল্পী হিসেবে তিনি যেমন পর্দায় চরিত্রকে বাঁচিয়ে তুলতে জানেন, তেমনই নাগরিক হিসেবে তিনি নিজ দায়িত্ববোধও এড়িয়ে যেতে চান না, এই ঘটনার মধ্যেও যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

Leave a Comment