Ankush Hazra:“তিন–চারটে ছবি হতেই মনে হয় পাখনা গজিয়েছে”, “আমার কাছে প্রতিটি সেকেন্ড একেকটা কোটির সমান”- ৪৭ লাখ টা’কা’র স’ম্প’ত্তি বাজেয়াপ্ত প্রসঙ্গেও মুখ খুললেন অঙ্কুশ হাজরা

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Ankush Hazra:বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান বাস্তবতা, প্রযোজনা ক্ষেত্রের সং’ক’ট, পেশাদারিত্বের ঘা’ট’তি এবং নতুন প্র’জ’ন্মে’র কাজের মনোভাব সব মিলিয়ে একটি খোলামেলা আ’লো’চ’না’য় মুখ খুললেন অভিনেতা ও প্রযোজক অঙ্কুশ হাজরা ( Ankush Hazra)এবং অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন (Oindrila Sen)। তাঁদের আসন্ন কমেডি সিনেমা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ ভাবনা ও সমসাময়িক বি’ত’র্ক এসব বিষয়ে উঠে আসে সরাসরি ও স্পষ্ট ম’ন্ত’ব্য।
আ’লো’চ’না’র শুরুতেই সঞ্চালিকা মজা করে প্রশ্ন তোলেন “নারীরা কি সত্যিই জ’টি’ল?” এই বক্তব্য সরাসরি না’ক’চ করেন ঐন্দ্রিলা সেন। তিনি বলেন,“নারী হয়ে আমি কী করে এটা সহমত হব?”

তিনি আরও যোগ করেন, শুধু পুরুষ নয়, নারীদেরও জীবনের বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয়ে মন টানতে পারে এটাই স্বাভাবিক। প্রসঙ্গটি হাস্যরসাত্মক হলেও সমাজে প্রচলিত নারীবিষয়ক বাঁধাধরা চিন্তা নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান।
সঞ্চালিকা রসিকতার সুরে বলেন, অনেক সময় নারীরা কথা পরিষ্কারভাবে বললেও পুরুষরা তা বুঝতে চায় না, তাই নারীদের “জ’টি’ল’তা” দেখাতে হয় এই প্রসঙ্গ নিয়েও আ’লো’চ’না’য় হাসির রেশ পড়ে।
নিজের নতুন ছবিকে একটি সম্পূর্ণ কমেডি সিনেমা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন অঙ্কুশ হাজরা। টিজারে একে “সরল ছবি” হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। ছবির মূল বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন ছেলের জীবনে নারীদের প্রতি বি’র’ক্তি কেন জন্মায়, তার পেছনের নানা মজার ঘটনা ও ফ্যান্টাসির উপাদান নিয়েই এগোবে গল্প। তাঁর ভাষায়,- “পুরোটাই একটা ফ্যান্টাসি কমেডি বলা যেতে পারে, আর সেটাই ছবিটার USP।”
টিজারের একটি বিশেষ দৃশ্য যেখানে তাঁর চরিত্রটি শিবের কাছে অভিযোগ জানায় এবং মা কালীর কাছে চড় খায়—নিয়ে বিশেষভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ঐন্দ্রিলা। তিনি বলেন, দৃশ্যটি দেখে তাঁর মনে হয়েছে – “এটা তো পুরো মনের কথা!” অঙ্কুশের অভিনয় যে সেখানে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত লেগেছে, সেটিও তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান।

ঐন্দ্রিলার প’র্য’বে’ক্ষ’ণ অনুযায়ী, টিজার দেখে ছেলেরা বেশি মজা পেলেও মেয়েদের কিছুটা রা’গ হতে পারে কারণ সেখানে নারীদের “জ’টি’ল” বলা হয়েছে। তবে টিজারের সাফল্যের পূর্ণ কৃতিত্ব তিনি অঙ্কুশকেই দেন।

আরও পড়ুন:Devaamoy Mukherjee:সন্তানের জ’ন্মে’র পর জীবন পরিবর্তন থেকে আত্মবিশ্বাসে ভাঁটা, কাজ না পাওয়া আর ইন্ডাস্ট্রির নীরবতা নিয়ে অকপট দেবময় মুখার্জী

নিজের প্রোডাকশন হাউস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অঙ্কুশ হাজরা জানান, তিনি সবসময় এমন গল্প খোঁজেন যার সং’ক’ট ও পরিস্থিতি বা’স্ত’ব’তা থেকে উঠে আসে। অনেক স্ক্রিপ্ট পেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৌলিক গল্পের ঘা’ট’তি তিনি অনুভব করেছেন।তাঁর মতে – “এই ধরনের জনারে (Genre) অর্থাৎ ‘একই ধারা’র ফিল্ম এ অনেক সময় মূল কারণটা স্পষ্ট থাকে না – কেন সং’ক’ট তৈরি হলো, কেন পরিস্থিতি এমন হল এই জায়গাটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
বিভিন্ন কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি বলিউড অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানার শুরু দিকের সিনেমাগুলোকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে একই ধারার সিনেমার মধ্যেও ভিন্ন গল্প বলা যায়, যদি কনসেপ্ট শ’ক্তি’শা’লী হয়। “সাতটা ছবি এক ধারার কিন্তু প্রতিটা কনসেপ্ট একেবারে আলাদা এটাই অসাধারণ।”

বাংলা ছবিতে কমেডি ধারার অবস্থান শক্ত করতে চান অঙ্কুশ। তাঁর বিশ্বাস,“এই ধরাটাকে বাংলায় আবার ফিরিয়ে আনতে হলে মানুষের ভরসা ফিরে আনা জরুরি।” এই কারণেই তিনি মনে করেন সা’হ’সী ও নতুন চেষ্টা করা প্রয়োজন।
বর্তমানে রাজস্বের বা আ’র্থি’ক কারণে নিজেকেই কাস্ট করতে হলেও ভবিষ্যতে নিজের জায়গা অন্য অভিনেতাদের জন্য ছাড়তে চান অঙ্কুশ। তিনি বলেন – “একটা সময় আসবে যখন আমি নিজেকে কাস্ট করব না অন্য কাউকে নায়ক হিসেবে নেব।” তাঁর লক্ষ্য নিজের প্রোডাকশন হাউসকে একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ডে পরিণত করা।

আরও পড়ুন:Shruti Das:’শ’রী’রে’র ও’জ’ন বেড়ে গিয়েছে, এ কেমন দৌড়! কচ্ছপের মতো’… আবারও নেটিজেনদের ট্রো’লে’র মুখে শ্রুতি, ট্রো’লা’র’দে’র সামনে নিজের বাস্তবতার পর্দা তুললেন অভিনেত্রী

অঙ্কুশ হাজরা তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে জানান অনেক নবাগত শিল্পী অল্প সময়েই অ’যৌ’ক্তি’ক ট্যানট্রম দেখাতে শুরু করেন। তাঁর কথায় “তিন–চারটে ছবি হতেই মনে হয় যেন তাঁদের পাখনা গ’জি’য়ে’ছে।”
আগেকার শিল্পীরা কাজের প্রতি গ’ভী’র ভা’লো’বা’সা থেকে এই পেশায় আসতেন কিন্তু এখন অনেকেই গ্ল্যামার ও দ্রুত খ্যাতিকে বেশি প্রাধান্য দেন এমন প্রবণতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। প্রযোজক হিসেবে নিজের সী’মা’ব’দ্ধ’তা’র কথাও অ’ক’প’টে বলেন -“আমি তো বড় প্রোডিউসার হয়ে যায়নি…খুব ক’ষ্ট করে ছবি বানাই। আমার কাছে প্রতিটি সেকেন্ড একেকটা কোটির সমান।”
ঐন্দ্রিলা জানান, প্রজেক্টের ভালোর জন্য কথা বললে অনেক সময় তা ‘ট্যা’ন’ট্র’ম’ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু তাতে তিনি বিচলিত নন।“আমার প্রজেক্ট আমার সন্তানের মতো তার জন্য খারাপ হলেও আমার কিছু যায় আসে না। কাজ সফল হলে তারাই ভালো বলবে।”
প্রমোশন নিয়ে উ’দা’সী’ন’তা দেখানো অনেক শিল্পীর আচরণেও বি’স্ম’য় প্রকাশ করেন তিনি – “আমি ভাবতেই পারি না যে আমাকে প্রোডিউসার বা হিরো ফোন করে বলবে প্রমোশনে গেলে ভালো হয়।” তাঁদের দুজনেরই মত যে শুটিং শে’ষ হলেই দায়িত্ব শে’ষ নয় ছবিকে নিজের কাজ হিসেবে শে’ষ পর্যন্ত আগলে রাখা প্রত্যেক শিল্পীর কর্তব্য।
ইন্ডাস্ট্রিতে কেবল মেধা থাকলেই যথাযথ সুযোগ পাওয়া যায় না এমন বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা বলেন অঙ্কুশ হাজরা। তিনি স্পষ্ট জানান – “ইন্ডাস্ট্রিতে একটা জিনিস তো আছে যে, তোমার মেরিট অনুযায়ী যে তুমি সবকিছু পাবে, যেটা ডিজার্ভ কর সেটা যে তোমাকে দেবে, সেটা নয়। সেটা একটু ল’ড়া’ই করেই অর্জন করতে হয়, প্লেটে সাজিয়ে কেউ দেবেনা”। তাঁর মতে এটাই শিল্পক্ষেত্রের ক’ঠি’ন বাস্তবতা।

দীর্ঘদিনের স’ম্প’র্কে’র পর বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ঐন্দ্রিলা স্পষ্টভাবে জানান – “কোনো পরিকল্পনা নেই। আগে ভাবতাম প্ল্যান করব এখন বুঝি যখন হওয়ার ঠিক, তখনই হবে।” তাঁর ধারণা সবকিছু অনেক সময় হঠাৎই ঘটে যায় এবং সেটাই হয়ত স্বাভাবিক পথ।

আরও পড়ুন:Parambrata Chattopadhyay:নতুন সুর পরমব্রতর, ফেডারেশনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যের বার্তা দিলেন অভিনেতা, ‘পাল্টিবাজ’ বলে কটাক্ষ নেটপাড়ার

শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের ট্রো’লিং প্রসঙ্গ উঠলে অঙ্কুশ বলেন “ট্রো’লিং’য়ে’র বিরুদ্ধে জাস্টিফিকেশন দেওয়া বহু আগেই ব’ন্ধ করেছি।” তাঁর মতে – বড় কেউ ব্যাখ্যা দিলেও ট্রো’লা’র’রা ক্ষ’মা চায় না, বরং প্রসঙ্গহীনভাবে ব’ডিশে’মিং ও ব্যক্তিগত আ’ক্র’ম’ণ বাড়ায় তাই এসব উ’পে’ক্ষা’ই শ্রেয়।
ইডির (ED) ৪৭ লাখ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার খবর এবং মিমি চক্রবর্তী ও যুবরাজ সিংয়ের মতো তারকাদের নাম আসায় অঙ্কুশ হাজরার মতামত জানতে চাইলে অঙ্কুশ জানান – “আমার উকিল বিষয়টি দেখছে, আমি ইন ডিটেইলস স্টেটমেন্ট দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন – “আমি জানতাম যে এটাই পদ্ধতি । তারা যেটা হওয়ার তাই ফলো করছে।” মিডিয়ার অ’তি’র’ঞ্জ’ন প্রসঙ্গেও উঠে আসে একাধিক ঘটনা।ঐন্দ্রিলা বলেন -“এখন বুঝতে পারছি আমরা কতটা নিউজের ওপর ভরসা করি।”

খবর প্রকাশের পর পরিবারের আ’ত’ঙ্ক ও অযথা দু’শ্চি’ন্তা’র কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অঙ্কুশ মজা করে বলেন “কেউ তো ৪৭ কোটি লিখে দিয়েছে! এত টাকা থাকলে তো আমি আর এখানে থাকতাম না!” তাঁর মা খবরটির স্ক্রিনশট পাঠিয়ে স’ত’র্ক করলেও তিনি বিষয়টি হাস্যরসের সঙ্গেই নিয়েছেন। ঐন্দ্রিলা জানান তারা পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি দীর্ঘ আইনি ধাপের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন।

এই সাক্ষাৎকারে অঙ্কুশ হাজরা ও ঐন্দ্রিলা সেন শুধু তাঁদের নতুন ছবির কথা বলেননি, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রযোজনার চ্যা’লে’ঞ্জ, পেশাদারিত্বের অ’ভা’ব এবং কাজের প্রতি দা’য়’ব’দ্ধ’তা সবই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। কমেডি ধারাকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করা, মৌলিক গল্পে ফিরিয়ে আনা এবং ইন্ডাস্ট্রিতে দা’য়ি’ত্ব ও শ্র’দ্ধা’র সংস্কৃতি গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তাঁদের কথাবার্তায় যেমন সং’গ্রা’মে’র বা’স্ত’ব’তা আছে, তেমনই রয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক আশা ও আত্মবিশ্বাস।

Leave a Comment