Mithu-Sabyasachi:বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম শ্রদ্ধেয় অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। পর্দায় তাঁর সাবলীল অভিনয়, গ’ম্ভী’র ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের গ’ভী’রে ঢু’কে যাওয়ার ক্ষ’ম’তা দর্শকদের মুগ্ধ করে এসেছে বহু বছর। কিন্তু অভিনেতা হওয়ার পেছনে তাঁর পথচলা ছিল একেবারেই আ’লা’দা এমনকি অ’নি’চ্ছা সত্ত্বেও তিনি পা রেখেছিলেন অভিনয়ের জগতে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উঠে এল সব্যসাচী চক্রবর্তী (Sabyasachi Chakraborty) ও তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী মিঠু চক্রবর্তী(Mithu Chakraborty)-র জীবনের নানা অ’জা’না অধ্যায় পেশাগত ল’ড়া’ই, ব্যক্তিগত স্মৃ’তি, রা’গ–অ’ভি’মা’ন, পারিবারিক স’ম্প’র্ক এবং থিয়েটার–সিরিয়ালের ভুবনে নতুন করে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প।
অভিনয়ে আসার অনেক আগে পর্যন্ত সব্যসাচী চক্রবর্তী ছিলেন পুরোপুরি টেকনিক্যাল পেশার মানুষ। বাবার ফ্যাক্টরিতে তিনি কাজ করতেন নিয়মিত। সেখানে তাঁর দায়িত্ব ছিল।তিনি নিজেই জানান, এই সব কারিগরি কাজের মধ্যেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ দেখতেন। নিজেকে ভাবতেন একজন দ’ক্ষ কর্মী, ‘মিস্ত্রি’। অভিনেতা হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তাঁর।
সব্যসাচীর অভিনয় যাত্রার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল প্রখ্যাত পরিচালক জোছনা দস্তিদারের (Jochon Dastidar), যাকে তিনি ও শাশ্বত (Saswata Chatterjee) দু’জনেই ভা’লো’বে’সে ডাকতেন ‘জেডি’। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ছিলেন সব্যসাচীর পিসেমশাইও। তিনি সব্যসাচীকে সরাসরি বলেছিলেন “টেকনিক্যাল কাজের লোক অনেক আছে, কিন্তু ভা’লো অভিনেতা খুব কম। আমি জানি তুমি পারবে তাই যা বলছি, করো।”
প্রথমে দ্বি’ধা, অ’বি’শ্বা’স, এমনকি অ’স্ব’স্তি’ও ছিল। কিন্তু জোছনা দস্তিদারের জো’রা’জু’রি’তে’ই তিনি প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান।
প্রথম শুটিংয়ে যাওয়ার আগে পরিচালক তাঁকে জিজ্ঞেস করেন – “স্যুট আছে?” বি’য়ে’র সময় বানানো একমাত্র স্যুটটির কথা জানাতেই তাঁকে সেটিই পরে হাজির হতে বলা হয়। কোনো রি’হা’র্সা’ল নয়, সরাসরি ক্যামেরা অন, সংলাপ মুখস্থ, সোজা একটানা শট। সেটাই ছিল সব্যসাচীর অভিনয় জগতের প্রথম পদক্ষেপ।অ’নি’চ্ছা’য় শুরু হলেও, সেখান থেকেই যাত্রা হয়ে যায় দী’র্ঘ, সফল ও ঐতিহাসিক।
সাক্ষাৎকারে নিজের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কথা বলেন অভিনেত্রী মিঠু চক্রবর্তী। তাঁর বাবা ছিলেন এয়ারফোর্সের ফাইটার পাইলট ফলে ছোটবেলা কাটে ক’ড়া শৃ’ঙ্খ’লা’য়। তিনি বলেন “প্র’চ’ণ্ড ডি’সি’প্লি’ন… সন্ধ্যার আগে বাড়ি ঢু’ক’তে হবে, নটার মধ্যে ঘুম, সকাল পাঁচটায় ওঠা এইটাই ছিল আমার রুটিন।”
মিঠু জানান, সব্যসাচীকে তিনি ছোটবেলা থেকেই চিনতেন। তাঁদের পরিবার তখন দিল্লিতে থাকত, দূ’র স’ম্প’র্কে’র আ’ত্মী’য়’তা ছিল দুই পরিবারে। এক মজার স্মৃ’তি শেয়ার করে তিনি বলেন – “টেপজমা পরে পাঁচিলের ওপর দিয়ে হাঁটছি, আর ওরা বাড়িতে ঢু’ক’ছে… সেই বয়স থেকে চিনি ওঁকে। তখন ওঁ ছিল আমার ‘বেণু মামা’!”
পরে সেই স’ম্প’র্ক’ই রূপ নেয় অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে (arrange marriage)
বি’য়ে’র পর দেখলেন সম্পূর্ণ ভি’ন্ন এক পরিবার থিয়েটার, রি’হা’র্সা’ল, রাত জে’গে কাজ, সাংস্কৃতিক আড্ডা। মিঠু বলেন “ওঁদের রি’হা’র্সা’ল বসে সন্ধেবেলা… রাত ১১টায় বাড়ি ফেরা। তারপর ১২টার সময় খাও–দাও। ধীরে ধীরে আমারও সেইটাই অ’ভ্যা’স হয়ে গেল।”
আগের জী’ব’ন যেখানে রাত ৯টায় ঘুম, এখন সেই সময় খাওয়া-দাওয়ার চি’ন্তা!
প্রথম সন্তান জন্মানোর পর সারাদিন বাড়িতে এ’কা থাকতেন। মা’ন’সি’ক ক্লা’ন্তি বাড়তে থাকে। তখন কাছের একজন তাঁকে বলেন “বাড়িতে থাকলে পা’গ’ল হয়ে যাবে। রি’হা’র্সা’লে আ’য়।” সেখান থেকেই অভিনয়ের প্রতি নতুন আগ্রহ তৈরি হয়। থিয়েটার ও সন্তানের দা’য়ি’ত্ব দুটোই সা’ম’ঞ্জ’স্য রেখে তিনি এগিয়ে যান সন্তান নিকিকে মেকআপ রুমে রেখে শুটিংয়ে যেতেন আবার ফিরে এসে কোলে নিতেন এই ব্যা’লে’ন্সে’র মধ্য দিয়েই তৈরি হয় তাঁর নিজের অভিনয় জগত। তাঁর প্রথম সিরিয়াল ছিল — ‘তেরো পার্বণ’।
“এত দ’ক্ষ অভিনেতা হয়েও কমেডি চরিত্রে কেন ক’ম দেখা গেল?” প্রশ্ন করা হলে সব্যসাচীর সরল উত্তর “কেউ মনে করেনি যে আমাকে কমেডি রোলে নেওয়া যায় তাই বোধ হয়।”
মিঠু খোলামেলা ভাবে বলেন “ওঁনার রা’গ’টা আগে খুব বেশি ছিল। এখন বয়সের সঙ্গে থি’তু হয়েছে।” এখন রে’গে গেলে আগে স’ত’র্ক’বা’র্তা দেন একটু চিৎ’কা’র, টোন ব’দ’লে যাওয়া, তাহলেই মিঠু বুঝে যান – এবার থা’মা’র সময়।
এই আড্ডা কেবল এক অভিনয় ক্যারিয়ারের গল্প নয় বরং এক দা’ম্প’ত্য, বন্ধুত্ব, সং’গ্রা’ম ও মানিয়ে নেওয়ার গল্প। অনিচ্ছা থেকে জ’ন্ম নেওয়া অভিনয় যাত্রা, দা’য়ি’ত্ব’শী’ল কারিগরি কর্মী থেকে তারকা হয়ে ওঠা। শৃ’ঙ্খ’লি’ত এয়ারফোর্স–বাড়ি থেকে মুক্ত থিয়েটার জগতে অভিযোজন। অভিনয় ও মাতৃত্ব দুটোই একসঙ্গে সামলানো। রা’গে’র উ’চ্ছ্বা’স, ভা’লো’বা’সা’র টা’ন, স’ম্প’র্কে’র শ’ক্ত বাঁ’ধ’ন সব মিলেই এই দ’ম্প’তি’র জী’ব’ন যেন এক বা’স্ত’ব জী’ব’নে’র সিনেমা। শেষ পর্যন্ত স্প’ষ্ট সব্যসাচী চক্রবর্তী অভিনেতা হয়েছিলেন অ’নি’চ্ছা’য়, কিন্তু দর্শকের ভা’লো’বা’সা’য় তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা অভিনয় জগতের অন্যতম ‘অপ’রি’ব’র্ত’নী’য় মুখ’।