Anirban Bhattacharya: চর্চা, বি’ত’র্ক আর জল্পনার আবহে বারবার শিরোনামে উঠে আসছে অনির্বাণ ভট্টাচার্য(Anirban Bhattacharya)-এর নাম। কখনও তাঁর গান, কখনও ব্যান্ড ‘হুলিগানইজম’(HooliGaanIsm), কখনও বা ফেডারেশনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই এতদিন পর্দার বাইরে কেন অনির্বাণ?
শেষবার বড় পর্দায় তাঁকে দেখা গিয়েছিল ‘রঘু ডাকাত’(Raghu Dakat) ছবিতে। তারপর থেকে নতুন সিনেমা, ওয়েব সিরিজ বা পরিচালনায় কোথাও তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়েনি। যদিও অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে ছিলেন না অনির্বাণ। পুজোর সময় নিজের গানের ব্যান্ড ‘হুলিগানইজম’-কে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকায় একাধিক শো করেছেন তিনি। কিন্তু রুপোলি পর্দা থেকে তাঁর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন থামেনি।
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, ফেডারেশনের কিছু নিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং সেই নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়াই নাকি তাঁর কাজ না পাওয়ার অন্যতম কারণ। শোনা যায়, একাংশ টেকনিশিয়ান অনির্বাণের সঙ্গে কাজ করতে চাইছেন না। যদিও এই বিষয়ে কখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি অনির্বাণ নিজে।
এরই মধ্যে কিছুদিন আগে নতুন করে গু’ঞ্জ’ন ছড়ায় দেবের আসন্ন পুজোর ছবিতে নাকি খলনায়কের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে। দেব(Dev)-শুভশ্রী(Subhashree Ganguly) জুটির এই ছবিকে ঘিরে প্রত্যাশা এমনিতেই তুঙ্গে। সেই সঙ্গে অনির্বাণের নাম জড়িয়ে পড়ায় আলোচনা আরও বেড়ে যায়। তবে এই খবর নিয়ে সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে দেব স্পষ্ট করে কোনও সিলমোহর দেননি। তিনি শুধু জানান, তিনি চান অনির্বাণ তাঁর ‘দেশু ৭’(Deshu7)-এ কাজ করুন। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কোনওটাই করেননি।
এর আগেও অনির্বাণ প্রসঙ্গে দেব সংবাদমাধ্যমের সামনে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে অনির্বাণের হয়ে হাত জোর করে ক্ষমা চাইতেও তাঁর আপত্তি নেই। দেবের সুরেই পরে কথা বলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী(Raj Chakrabarty)। রাজ জানান, দরকার পড়লে তিনি অনির্বাণের হয়ে পায়ে ধরেও ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত, শুধু অভিনেতাকে আবার কাজে ফেরাতে পারলেই খুশি তিনি।
এই প্রসঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির বর্ষীয়ান অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়(Prosenjit Chatterjee)-এই মন্তব্যও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অনির্বাণ একজন দুর্দান্ত অভিনেতা এবং তাঁর কাজ না করার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ তিনি দেখেন না। প্রসেনজিৎ স্বীকার করেন, ‘অলিখিত ব্যান’-এর কথা তিনিও শুনেছেন। তবে তাঁর মতে, অনির্বাণ একজন পরিচালক সেটাও তাঁর আলাদা পরিচয়, কিন্তু অভিনেতা হিসেবে তাঁকে ক্যামেরার সামনে কাজ করতেই হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অনির্বাণের মতো অভিনেতারা যদি কাজ না করেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কী উত্তর দেবে ইন্ডাস্ট্রি? দেব যদি এই সমস্যা মিটিয়ে অনির্বাণকে কাজে ফেরাতে পারেন, তাহলে তিনি নিজে সবচেয়ে খুশি হবেন এমনটাই বলেন প্রসেনজিৎ।
এই সব আলোচনা, সমর্থন আর গু’ঞ্জ’নে’র মাঝেই সোমবার সন্ধ্যায় আচমকা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য(Anirban Bhattacharya)। পোস্টে একটি ছবি সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি হাঁটু গেড়ে বসে রয়েছে, আর তার মাথাটি মুরগির মতো! ছবির নীচে বড় করে লেখা, “পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়।” ক্যাপশনে অনির্বাণ নিজে লিখেছেন, “আমি মুরগী হলাম।”
এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে শুরু হয় জ’ল্প’না। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন এর মাধ্যমে ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন অনির্বাণ? যে দিন তাঁর নতুন কাজ নিয়ে এত আলোচনা, সেই দিনেই এমন ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট কি নিছক কাকতালীয়? নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিমান, ক্ষো’ভ বা প্রতিবাদ?
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, “পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়” এই লাইনটি অনির্বাণের ব্যান্ড ‘হুলিগানইজম’-এর একটি গানের কথাও। ফলে অনেকে মনে করছেন, এই পোস্ট হয়তো তাঁর শিল্পীসত্ত্বারই এক ধরনের প্রকাশ। আবার কারও মতে, ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েই তাঁর হতাশার প্রতিফলন এই ছবি আর ক্যাপশন।
এর পাশাপাশি জানা যাচ্ছে, অনির্বাণ খুব শীঘ্রই একটি নতুন ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছেন নাম ‘ফানুস’। শুধু অনির্বাণ নন, এই চ্যানেলে একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীকেও বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করতে দেখা যাবে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অনির্বাণের এই পোস্ট কি তাঁর নতুন কাজের কোনও ইঙ্গিত? নাকি পুরোপুরি আলাদা কোনও বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি?
সব মিলিয়ে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের একটি পোস্টই ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এল তাঁকে। অভিনয়ে ফেরা, ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সম্পর্ক, নাকি শিল্পীর ব্যক্তিগত দর্শন এই পোস্টের প্রকৃত অর্থ কী, তা আপাতত রহস্যই। সেই উত্তর যে কেবল অনির্বাণ নিজেই জানেন, তা বলাইবাহুল্য।