Kumar Sanu’s ex-wife: প্রাক্তন স্ত্রী রীতা ভট্টাচার্য(Rita Bhattacharya)-এর করা অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক কুমার শানু(Kumar Sanu)। একাধিক সাক্ষাৎকারে রীতার বি’স্ফো’র’ক মন্তব্য, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নি’র্যা’ত’নের অভিযোগ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তীব্র আ’ক্র’ম’ণ সব মিলিয়ে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় আদালতের দরজায়। সম্প্রতি এই মামলার রায় ঘোষণা করেছে মুম্বই হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণে শানুর পক্ষেই রায় গিয়েছে, যা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
রীতার অভিযোগ ছিল, গর্ভবতী অবস্থায় তাঁর উপর মানসিক ও শারীরিক অ’ত্যা’চা’র করা হয়েছিল। এমনকি তাঁকে ঠিকমতো খেতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, শানুর বিরুদ্ধে একাধিক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগও তুলেছিলেন রীতা। এই সমস্ত মন্তব্য বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগগুলিকে সরাসরি মানহানিকর বলে দাবি করেন কুমার শানুর আইনজীবী।
এই প্রসঙ্গেই শানুর তরফ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয় রীতাকে। নোটিশে বলা হয়, এই ধরনের অভিযোগে গায়কের দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষ’তি’গ্র’স্ত হচ্ছে। ১৭ ডিসেম্বর মামলার শুনানির দিন কুমার শানুর পক্ষ থেকে ৫০ কোটি টা’কা’র ক্ষ’তিপূরণ দাবি করা হয়। পরে রীতা এই মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানালেও, শেষ পর্যন্ত তা গ্রহণ করেনি আদালত।
সম্প্রতি মুম্বই হাইকোর্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করে। ২১ জানুয়ারি বিচারপতি মিলিন্দ যাদব স্পষ্টভাবে জানান, রীতার কিছু মন্তব্য গ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রকাশ্যে এই ধরনের মন্তব্য কোনও ব্যক্তির সম্মান ও সামাজিক অবস্থানকে ক্ষ’তিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে মামলায় শানুর পক্ষেই রায় যায়।
রায়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান কুমার শানু। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমি আমার ভাবমূর্তি তৈরি করেছি। সেই ভাবমূর্তি ও সম্মান যদি মানহানিকর মন্তব্যের কারণে ক্ষ’তিগ্রস্ত হয়, তার প্রভাব শুধু আমার উপর নয়, আমার পরিবারের উপরও পড়ে। এটা কোনওভাবেই কাম্য নয়।” শানুর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট, এই মামলাকে তিনি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, পরিবারের সম্মানের প্রশ্ন হিসেবেও দেখেছেন।
এই মামলায় কুমার শানুর হয়ে আইনি ল’ড়া’ই লড়েন আইনজীবী সানা রইস খান। রীতার বিরুদ্ধে পাঠানো প্রথম আইনি নোটিশেই শানুর দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনের উল্লেখ করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছিল, গত চার দশক ধরে কুমার শানু সঙ্গীতকে নিজের জীবনের সঙ্গে একাকার করে নিয়েছেন। তাঁর গানে আনন্দ পেয়েছেন কোটি কোটি শ্রোতা। নোটিশে আরও দাবি করা হয়, কিছু মিথ্যা অভিযোগ তুলে সাময়িকভাবে আলোচনায় আসা সম্ভব হলেও, সারাজীবন ধরে সঙ্গীত উপহার দেওয়া একজন শিল্পীর সম্মানকে এইভাবে ক’ল’ঙ্কি’ত করা যায় না।
আদালতের রায়ের পর এই বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে প্রাক্তন স্ত্রীর করা অভিযোগ, অন্যদিকে গায়কের মানহানির দাবি,এই দ্ব’ন্দ্ব বহুদিন ধরেই চ’র্চা’য় ছিল। তবে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়ে গেল, সব ধরনের মন্তব্য প্রকাশ্যে করার একটি সীমা থাকা প্রয়োজন। বিচারপতি মিলিন্দ যাদবের মন্তব্য অনুযায়ী, সেই সীমা অতিক্রম করলেই তা আইনের চোখে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এই রায়ের ফলে কুমার শানুর দীর্ঘদিনের পেশাগত ভাবমূর্তি র’ক্ষা’র দাবি আইনি স্বীকৃতি পেল বলেই মনে করছেন অনেকে। একই সঙ্গে, সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার বিষয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আদালতের এই রায় ভবিষ্যতে এমন বিতর্কিত মন্তব্যের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে বলেই মত আইন বিশেষজ্ঞদের।
সব মিলিয়ে, প্রাক্তন দাম্পত্যের ব্যক্তিগত টানাপড়েন যে কীভাবে আইনি ল’ড়া’ই’য়ে পরিণত হতে পারে এবং তার প্রভাব কত দূর গড়াতে পারে, কুমার শানু-রীতা ভট্টাচার্য মামলাটি তারই এক বড় উদাহরণ হয়ে রইল।