Mimi Chakraborty: সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ জানানোর পর এবার আইনি পথে হাঁটলেন অভিনেত্রী ও প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তী(Mimi Chakraborty)। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে হে’ন’স্থা’র শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আয়োজকদের দাবি, মিমির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এতে বনগাঁর সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জ যুবক সংঘ ক্লাব আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে। অভিযোগ, মঞ্চে গান গাইতে ওঠার পর মাঝপথেই মিমিকে জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার কথা জানিয়ে আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর সেই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয় আলোচনা। বিষয়টি শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ না রেখে এবার থানার দ্বারস্থ হলেন মিমি চক্রবর্তী।
মিমির অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে অনুষ্ঠান করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাঝেই, কোনো রকম পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই, আয়োজকদের তরফে তাঁকে মঞ্চ ছাড়তে বলা হয়। এই আচরণকে তিনি অসম্মানজনক এবং অপমানজনক বলে দাবি করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমি লেখেন, বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জ যুবক সংঘ ক্লাবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ দর্শকদের সামনে এসে তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলা হয়। আগে থেকে এই বিষয়ে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তাঁর লেখা,’আমাকে সদ্যই বনগাঁর নয়া গোপালগুঞ্জ যুবক সংঘ ক্লাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে অনুষ্ঠান করার সময়ে, মাঝপথে আমায় হঠাৎ বলা হয় মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে চলে যেতে। আমাকে আগে থেকে এই বিষয়ে একেবারেই কিছু বলা হয়নি। হঠাৎ, একেবারে দর্শকদের সামনে আমাকে এসে বলা হয় মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে।’
অভিনেত্রীর দাবি, প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে এভাবে মঞ্চ ছাড়তে বলা মানে শুধু একজন শিল্পীকে নয়, শিল্পীর সম্মানকেই আঘাত করা। এই অভিজ্ঞতা মানসিকভাবে তাঁকে আহত করেছে বলেও ইঙ্গিত দেন মিমি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি নিয়ে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা। তাঁদের পাল্টা বক্তব্য, ঘটনার সত্যতা মিমির বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না। উদ্যোক্তাদের দাবি অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠানে পৌঁছনোর কথা ছিল মিমি চক্রবর্তীর। কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছন রাত প্রায় ১১টা ৪৫ নাগাদ। সেই সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময় প্রায় শেষের পথে ছিল।
আয়োজকদের আরও দাবি, পুলিশের অনুমতি অনুযায়ী অনুষ্ঠান রাত ১২টা পর্যন্তই করার অনুমতি ছিল। সেই কারণে রাত ১২টা ১০ নাগাদ সম্মানের সঙ্গেই মিমি চক্রবর্তীকে অনুষ্ঠান শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, তাঁকে জোর করে বা অপমানজনকভাবে মঞ্চ থেকে নামানো হয়নি। বরং প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার কারণেই অনুষ্ঠান শেষ করতে বলা হয়েছিল।
এখানেই শেষ নয়। উদ্যোক্তাদের আরও অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমি চক্রবর্তীর করা পোস্টে গোটা বনগাঁ শহরের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিনেত্রীর অভিযোগের মাধ্যমে বনগাঁকে অপমান করা হয়েছে, যা তাঁরা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেন না। এই ঘটনায় নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় তাঁরা আইনি পথেও হাঁটার কথা ভাবছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আয়োজকরা।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আবারও সামনে চলে এসেছে শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং সম্মান নিয়ে প্রশ্ন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার সঙ্গে এই বিষয়টির তুলনা টানা হচ্ছে। গত মাসেই পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে একটি বেসরকারি স্কুলের অনুষ্ঠানে হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন সঙ্গীত শিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী(Lagnajita Chakraborty)।
লগ্নজিতার অভিযোগ ছিল, ভগবানপুরের সাউথপয়েন্ট পাবলিক স্কুলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ‘জাগো মা’ গানটি গাওয়ার পর দর্শকাসন থেকে এক ব্যক্তি মঞ্চে উঠে আসেন। অভিযুক্ত মেহবুব মল্লিক গায়িকার দিকে তেড়ে যান এবং মা’র’ধ’র করতে উদ্যত হন বলেও অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় শিল্পীমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। লগ্নজিতার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্কুলের মালিক মেহবুব মল্লিককে গ্রেফতারও করা হয়।
লগ্নজিতার ঘটনার পর শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। শিল্পীমহল একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক শিল্পীর হে’ন’স্থা’র অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। যদিও মিমি চক্রবর্তীর ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের পাল্টা দাবি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
একদিকে শিল্পীর অভিযোগ, অন্যদিকে আয়োজকদের পাল্টা বক্তব্য, দু’পক্ষের দাবির মাঝে কোথায় সত্য, তা এখন তদন্তসাপেক্ষ। বনগাঁ থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলের নজর। তবে একের পর এক এই ধরনের অভিযোগ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।