Sohini-Goutam: একসময় টলিপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত(Sohini Sengupta) ও নাট্যব্যক্তিত্ব গৌতম হালদার(Goutam Halder)-এর দাম্পত্য। সেই সম্পর্ক ভে’ঙে গেলেও, এত বছর পরেও যে সেখানে তিক্ততা নেই, বরং রয়েছে সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মান, সে কথাই এবার খোলাখুলি জানালেন সোহিনী। এক পডকাস্টে নিজের জীবনের অতীত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং বর্তমান সামাজিক সমীকরণ নিয়ে মুখ খুলে ফের আলোচনায় উঠে এলেন অভিনেত্রী।
সোহিনী সেনগুপ্ত(Sohini Sengupta) একসময় গৌতম হালদার(Goutam Halder)-কে বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই বিয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০০৬ সালেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। এরপর জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করেন সোহিনী। ২০১৩ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিকের সঙ্গে। যদিও প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে বহু বছর আগে, তবুও গৌতম হালদারের সঙ্গে সোহিনীর পরিবারের সম্পর্ক যে এখনও সৌহার্দ্যপূর্ণ, তা এতদিন খুব একটা প্রকাশ্যে আসেনি। সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেই প্রসঙ্গেই অকপট হন অভিনেত্রী।
পডকাস্টে সোহিনী স্পষ্ট ভাষায় জানান, সম্পর্ক ভে’ঙে যাওয়ার মানেই যে শত্রুতা বা তিক্ততা তৈরি হওয়া, এমনটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তাঁর কথায়, “দুটো মানুষ খুব ভালো হতে পারেন, কিন্তু তাঁরা সবসময় একসঙ্গে থাকতে পারবেন, এমনটা নয়।” সোহিনীর মতে, তিনি এবং গৌতম হালদার মানুষ হিসেবে সম্পূর্ণ আলাদা। সেই কারণেই তাঁদের পথ আলাদা হয়েছে। তবে সেই বিচ্ছেদ ছিল সম্পূর্ণ পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে। কথা বলে, শান্তভাবেই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা।
এই প্রসঙ্গে সোহিনী আরও জানান, তাঁদের বিচ্ছেদের মধ্যে কোনও রকম তিক্ততা বা কুৎসিত অভিজ্ঞতা নেই। বরং মানবিক সম্পর্কের জায়গাটা আজও অটুট। অভিনেত্রী বলেন, তাঁর মা স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত ২০২১ সালে প্রয়াত হওয়ার পর, সেই কঠিন সময়ে গৌতম হালদার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সোহিনীর কথায়, “মা যখন চলে যান, তখন গৌতমদা এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন।” এই একটি ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, সম্পর্কের রূপ বদলালেও মানবিক যোগাযোগ আজও অটুট রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে সোহিনীর আরেকটি মন্তব্য। অভিনেত্রী জানান, তাঁর বাবা, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত এখনও গৌতম হালদার ও তাঁর বর্তমান স্ত্রী দ্যুতির সঙ্গে মাঝেমধ্যেই দেখা করেন। শুধু দেখা করা নয়, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়াও করেন তাঁরা। সোহিনী হাসতে হাসতে বলেন, “মজার ব্যাপার হল, আমার বাবা এখনও গৌতমদা আর ওঁর স্ত্রীর সঙ্গে মাঝে মধ্যে হলদিরামসে খেতে যান।” এই মন্তব্যই এখন নেটদুনিয়ায় ঘুরছে।
শুধু তাই নয়, গৌতম হালদার যখন ‘সোজন বাঁধিয়ার ঘাট’ নাটক পরিচালনা করেন, তখন তিনি সোহিনীর বাবাকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন বলেও জানান অভিনেত্রী। এই প্রসঙ্গে সোহিনী বলেন, তাঁর মনে হয় সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো মানসিকতা তাঁর মধ্যে থাকা উচিত। সম্পর্ক ভাঙলেও, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ ভে’ঙে যাওয়া উচিত নয়, এমনটাই বিশ্বাস করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সোহিনী সেনগুপ্ত বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব দম্পতি স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত ও রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তর কন্যা। থিয়েটারের পরিবেশেই তাঁর বড় হয়ে ওঠা। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বহুবার চর্চায় এসেছেন তিনি। গৌতম হালদারের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর, ২০১৩ সালে সোহিনী ফের বিয়ে করেন অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিককে। এই সম্পর্ক নিয়েও কম আলোচনা হয়নি টলিপাড়ায়।
সপ্তর্ষি মৌলিক(Saptarshi Moulik)-এর সঙ্গে সোহিনীর আলাপ হয় ‘নাচনী’ নাটকের সময়। ২০১৩ সালে সেই নাটক করতে গিয়েই বন্ধুত্ব তৈরি হয় তাঁদের। নান্দিকার দলে নাটক শিখতে আসা তরুণ সপ্তর্ষির সঙ্গে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সোহিনী। বয়সের ব্যবধান ছিল তাঁদের সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। সপ্তর্ষি বয়সে সোহিনীর থেকে ১৪ বছরের ছোট। তাছাড়া সোহিনীর ভা’ঙা দাম্পত্যও অনেকের চোখে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছিল। তবে এই কোনও কিছুকেই তোয়াক্কা করেননি তাঁরা।
মাত্র তিন মাসের প্রেমের পরেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন সোহিনী ও সপ্তর্ষি। সমাজের নানা ক’টা’ক্ষ, ব্যঙ্গ, সমালোচনা। সবকিছুকে উপেক্ষা করেই মালাবদল সারেন তাঁরা। বয়সে ছোট বরকে নিয়ে কম বিদ্রুপের শিকার হতে হয়নি সোহিনীকে। অনেক সময়ই সপ্তর্ষিকে তাঁর ছেলে বলেও ক’টা’ক্ষ করেছেন কেউ কেউ। তবে সেই সব মন্তব্য তাঁদের সম্পর্কের ভিত নড়াতে পারেনি।
আজ টলিপাড়ার অন্যতম মিষ্টি জুটি হিসেবেই পরিচিত সোহিনী সেনগুপ্ত(Sohini Sengupta) ও সপ্তর্ষি মৌলিক(Saptarshi Moulik)। সোহিনী নিজেই একাধিকবার বলেছেন, তাঁদের প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল বকুনি দিয়েই। কাজের সূত্রে আলাপ, তারপর বন্ধুত্ব, আর সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ভালোবাসা। সমস্ত প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে তাঁরা যে আজও সুখী দাম্পত্যের উদাহরণ, তা তাঁদের প্রকাশ্য উপস্থিতিতেই স্পষ্ট।
একদিকে বর্তমান স্বামীর সঙ্গে সুখের সংসার, অন্যদিকে প্রাক্তন স্বামী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ সম্পর্ক। সোহিনী সেনগুপ্তর এই অবস্থান অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও প্রমাণ করল, সম্পর্ক ভাঙলেও সৌজন্য, সম্মান ও মানবিকতা বজায় রাখা সম্ভব। আর সেই কারণেই হয়তো আজও তাঁর বাবা প্রাক্তন জামাই ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে এক টেবিলে বসে খেতে পারেন, আর সেই কথাই এখন টলিপাড়ায় নতুন করে চর্চার বিষয়।