Olypub:সায়কের ভিডিও ঘিরে বি’স্ফো’র’ক অ’ভি’যো’গ শতরূপ ঘোষের

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Olypub: সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীর(Sayak Chakraborty) একটি ভিডিও ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিবিদ শতরূপ ঘোষ(Shatarup Ghosh)। অলি পাব (Olypub) রেস্তোরাঁর সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং তার পরবর্তী সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা ইতিমধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

শতরূপ ঘোষ(Shatarup Ghosh) তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই রেস্তোরাঁয় ঘটে যাওয়া ঘটনার বাস্তব দিকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি রেস্তোরাঁয় গিয়ে মটন স্টেক অর্ডার করেন এবং ভুলবশত তাঁকে বিফ স্টেক পরিবেশন করা হয়, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে অনভিপ্রেত। তবে এমন একটি ভুলকে কেন্দ্র করে যে ধরনের উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে, তা স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য নয় বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর কথায়,“কোনো ব্যক্তি যদি রেস্তোরাঁয় গিয়ে মটন স্টেক অর্ডার করেন এবং ভুলবশত তাঁকে বিফ স্টেক পরিবেশন করা হয়, সেটা নিশ্চয়ই কাঙ্ক্ষিত নয়।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এটি একটি প্রশাসনিক বা পরিষেবাগত ভুল হতে পারে, কিন্তু একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ষড়যন্ত্রমূলক বলে দেখানোর প্রবণতা বিপজ্জনক।

ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে শতরূপ ঘোষ জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশ তখনই বজায় থাকে, যখন প্রত্যেক মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিকে সম্মান জানানো হয়। কারও বিশ্বাসে আঘাত করে বা সেই বিশ্বাসকে রাজনৈতিক হা’তি’য়া’র বানিয়ে সমাজে বিভাজন তৈরি করা ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলেই তাঁর মত।তিনি বলেন,
“ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবেশ তখনই বজায় থাকবে, যখন প্রত্যেক মানুষের নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করা হবে।”

ভাইরাল ভিডিওতে সংশ্লিষ্ট ইনফ্লুয়েন্সারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন শতরূপ ঘোষ। তাঁর ভাষায়, ঘটনার পর যেভাবে ওই তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সার বিষয়টিকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক ‘সার্কাস’ তৈরি করেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি মনে করেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার বদলে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:Sayak Chakraborty:“আমি গো’মাং’স খাই না, এটা আমার সীমারেখা”, “…তৃণমূল বা বিজেপি, কোনও দলকেই আমি সমর্থন করি না”— পার্কস্ট্রিট রেস্তোরাঁ কা’ণ্ডে সায়কের বি’স্ফো’র’ক দাবি

অলি পাবের মতো একটি পুরানো ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে, এই ধারণা মানতে নারাজ শতরূপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কখনই বিশ্বাস করেন না যে অলি পাব ইচ্ছে করে কোনো গ্রাহককে ভুল করে বা জোর করে বিফ স্টেক খাওয়াবে। তাঁর মতে, তাঁর মতো অনেকেই এই কথা বিশ্বাস করেন না। অলি পাব বহু বছর ধরে কলকাতার খাদ্যসংস্কৃতির অংশ এবং বিফ স্টেকের জন্য এই রেস্তোরাঁটি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। কলকাতার বহু মানুষ এখানেই প্রথম স্টেক খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কলকাতার রেস্তোরাঁ সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে শতরূপ ঘোষ আরও বলেন, শহরের অধিকাংশ চাইনিজ রেস্তোরাঁয় পর্ক পাওয়া যায়। কিন্তু কখনই দেখা যায়নি যে কোনো মুসলমান গ্রাহক অভিযোগ করছেন, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে না জানিয়ে বা জোর করে পর্ক খাওয়ানো হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা কলকাতার সংস্কৃতির সঙ্গে একেবারেই বেমানান বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়,“কলকাতার বেশিরভাগ চাইনিজ রেস্তোরাঁয় পর্ক পাওয়া যায়। কিন্তু কখনও কোনো মুসলমান মানুষকে বলতে হয়নি যে, ইচ্ছে করে তাঁকে জোর করে পর্ক খাওয়ানো হয়েছে।”

আরও পড়ুন:Dev-Anirban:“প্রয়োজনে অনির্বাণের পা ধরে ক্ষ’মা চাইতেও, আমার আপত্তি নেই..”, অনির্বাণের কামব্যাকে দেব–রাজের এক সুর, ‘দেশু ৭’ ঘিরে টলিপাড়ায় নতুন কলরব

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সায়কের ভিডিও ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক রেস্তোরাঁ কর্মী বা ওয়েটারকে তাঁর ধর্ম নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক ও উস্কানিমূলক প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের আচরণ সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। বিষয়টিকে একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখছেন অনেকে। তিনি সায়কের ভিডিও প্রসঙ্গে বলেন,”…আপনার ধর্ম কি, আপনি কি মুসলমান…। যদি বলি আপনি মুসলমান আমাকে ইচ্ছে করে খাইয়ে দিয়েছেন। আপনাকে যদি শুয়োরের মাংস খাইয়ে দিতাম তাহলে কি হতো?। জানেন আমি ব্রাহ্মণ..।” তাঁর মতে এইটা করে বিষয়টাকে হিন্দু, মুসলমান এজেন্ডা তৈরী করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা করা হয়েছে যেটা আইনত অপরাধ।

এই প্রসঙ্গেই আরও এক ধাপ এগিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে বিজেপি ও আরএসএস (RSS)-এর বিরুদ্ধে। ভিডিওতে বক্তা দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ও আরএসএস বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে। উদ্দেশ্য একটাই, হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে রাজনৈতিক লাভ তোলা। বক্তার কথায়, বিজেপি-আরএসএস দীর্ঘদিন ধরেই সাম্প্রদায়িক অশান্তি বাড়ানোর জন্য অর্থ ঢালছে, এবং সায়ক চক্রবর্তীর পেছনেও সেই শক্তির হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।তাঁর কথায়, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ও আরএসএস সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের পেছনে বিপুল অর্থ ঢালছে।”

আরও পড়ুন:Debolina-Sayak:“সায়ক অতটা বা’জে ছেলে নয়, ১০ বছর ধরে ওদের চিনি”…”ছেলে বন্ধু ছেলে বন্ধুর সাথেই মিশবে, আর মেয়ে বন্ধু মেয়ে বন্ধুর…”-দেবলীনা ও সায়ককে ঘিরে গু’জ’ব উড়িয়ে সরাসরি মুখ খুললেন দেবলীনার ড্রাইভার

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। শতরূপ দাবি করেন , যিনি প্রকাশ্যে উস্কানিমূলক আচরণ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং উল্টে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে একজন সাধারণ রেস্তোরাঁ কর্মীকে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষো’ভ প্রকাশ করে বক্তা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পরিচালিত পুলিশ সেই গরিব ওয়েটারকেই গ্রেপ্তার করেছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে তাঁর মত। তাঁর কথায়, “যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে উস্কানি দিয়েছে, তাকে ছেড়ে দিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করল সেই গরিব ওয়েটারকে।” তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পরিচালিত পুলিশ এই কাজ করেছে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। বক্তার অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলেও প্রশাসনিক স্তরে আরএসএস(RSS)-এর প্রভাব স্পষ্ট। তাঁর ভাষায়, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ভোটে হেরেছে, তৃণমূল জিতেছে ঠিকই, কিন্তু কার্যত আরএসএস(RSS)-ই সরকার চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ভোটে হেরেছে, তৃণমূল জিতেছে ঠিকই, কিন্তু সরকার চালাচ্ছে আরএসএস।”
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, দিঘায় সরকারি অর্থ ব্যয় করে মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি সংবিধানসম্মত ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গ টেনে বক্তা আরও বলেন, SIR নামে পরিচিত কোনো নীতির মাধ্যমে মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, মুসলমানদের পিঠে ছুরি মারা হয়েছে এই নীতির মাধ্যমে।
ধর্মীয় উত্তেজনা ও আইন প্রয়োগ নিয়েও গুরুতর মন্তব্য করেন তিনি। বক্তার দাবি, মুসলমানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে পশ্চিমবঙ্গে মোদীর আনা ওয়াকফ অ্যামেন্ডমেন্ট কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে রাজ্যের সামাজিক ভারসাম্য আরও বিঘ্নিত হচ্ছে বলেই তাঁর মত।

সব মিলিয়ে, ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করার অভিযোগ আনেন শতরূপ ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, এমন গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন একজন সাধারণ ওয়েটারকে গ্রেপ্তার করা হলো। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেন।

শেষ পর্যন্ত তিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তাঁদের লক্ষ্য একটাই, দিদিকে হারানো এবং একই সঙ্গে আরএসএসকেও পরাস্ত করা। তাঁর ভাষায়, যদি আরএসএসকে হারাতে হয়, তাহলে মমতাকেও হারাতে হবে। এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, একটি রেস্তোরাঁর ঘটনায় শুরু হওয়া বিতর্ক এখন রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

Leave a Comment