Rachna Banerjee: রাজনীতির মঞ্চে দূরত্ব, কিন্তু হৃদয়ে কাছাকাছি! মিঠুনকে নিয়ে অকপট রচনা- ‘আমি তাঁকে কখনও রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখি না’

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Rachna Banerjee: রাজনীতির মেরুকরণ যখন সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই ব্যক্তিগত সম্পর্ক আর পারস্পরিক সম্মানের এক অন্য ছবি তুলে ধরলেন অভিনেত্রী ও সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়(Rachna Banerjee)। ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে দাঁড়িয়েও যে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অটুট থাকতে পারে, তারই স্পষ্ট প্রমাণ দিলেন তিনি, কিংবদন্তি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী(Mithun Chakraborty)-কে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিঠুন চক্রবর্তী(Mithun Chakraborty)-র প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের কথা অকপটে প্রকাশ করেছেন রচনা। রাজনৈতিক মতাদর্শে দু’জনের অবস্থান আলাদা হলেও, সেই পার্থক্য যে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের উষ্ণতায় কোনও প্রভাব ফেলেনি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। রচনার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে মিঠুন তাঁর কাছে আগে একজন শিল্পী, একজন সহকর্মী, একজন মানুষ, রাজনীতিবিদ পরে।

রচনা বলেন, “মিঠুনদার প্রতি আমার সবসময় আলাদা সম্মান, আলাদা ভালোবাসা রয়েছে। আমি তাঁকে কখনও রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখি না।” এই একটি মন্তব্যেই যেন স্পষ্ট হয়ে যায়, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন শিল্পীকে কীভাবে তিনি মূল্যায়ন করেন। তাঁর কথায়, গোটা ভারতবর্ষে মহানায়কের পর যদি কেউ থাকেন, তবে সেই জায়গাটা নিঃসন্দেহে মিঠুন চক্রবর্তীর।

মিঠুনের দীর্ঘ অভিনয় জীবন, জনপ্রিয়তা এবং জাতীয় স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকে সামনে রেখেই রচনা বলেন, এমন একজন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করা তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। “আমরা একসঙ্গে বহু ছবিতে কাজ করেছি। তিনি আমার নায়ক ছিলেন,” বলেন রচনা। শুধু পর্দার সম্পর্ক নয়, বাস্তব জীবনেও মিঠুনের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা যে অটুট, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি।

আরও পড়ুন:Ranojoy-Shyamoupti:”ওটা চি’কে’ন মাতার মাং’স! মুরগি মাতার মাং’স দিয়ে বানানো হয়েছে…” ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তেই বিয়ের ঘণ্টা? ভাইরাল আইবুড়োভাতের ভিডিও ঘিরে টলিপাড়ায় তোলপাড়—রণজয়-শ্যামৌপ্তিকে নিয়ে জোর জল্পনা

রচনার কথায়, তাঁদের সম্পর্ক শুধুই সহকর্মীর নয়, তার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মান। ব্যক্তিগত স্তরে মিঠুন চক্রবর্তীকে তিনি যে কতটা সম্মান করেন, সেটাও তিনি লুকোননি। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর কাজ ও অবদানকে রাজনৈতিক চশমায় দেখা উচিত নয়।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই মতপার্থক্য কি কখনও তাঁদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলেনি? উত্তরে রচনা একেবারেই স্পষ্ট। তিনি বলেন, রাজনীতির জায়গায় হয়ত তাঁদের অবস্থান আলাদা, কিন্তু সেই বিষয়টিকে তিনি কখনও ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে ঢুকতে দেননি। “হতে পারে রাজনীতির জায়গায় উনি আলাদা, আমি আলাদা। কিন্তু সেই জায়গাটা বাদ দিলে উনি আমার কাছে ভীষণ ভালোবাসার মানুষ,”- রচনার এই বক্তব্যেই যেন বিতর্কের ইতি টানতে চান তিনি।

আরও পড়ুন:Hiran-Anindita:বারাণসীর ‘পবিত্র বিয়ে’ থেকে আনন্দপুর থানার অভিযোগে চুপ হিরণ—নীরবতাই কি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন? হিরণ-ঋত্বিকা বিতর্কে নয়া মোড়, পোস্ট ডিলিটে রহস্য ঘনীভূত! “শিব আমার উপরই বেশি সন্তুষ্ট “- বিস্ফোরক অনিন্দিতা

রাজনীতির ময়দানে যেখানে প্রতিপক্ষ মানেই শত্রু ভাবার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে রচনার এই অবস্থান অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী। তিনি বুঝিয়ে দেন, মতাদর্শের লড়াই আর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এই দু’টিকে এক করে দেখার পক্ষপাতী নন তিনি। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে।

রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রাজনীতির সক্রিয় মুখ। অন্যদিকে, মিঠুন চক্রবর্তীও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তবুও এই দুই ভিন্ন পথের মানুষ যে একে অপরের প্রতি সম্মান হারাননি, তা তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে। রচনার মতে, একজন শিল্পী হিসেবে মিঠুনের অবদান এতটাই বড় যে, তা কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না।

আরও পড়ুন:Kanchan Mullick:“আমি কমেডিয়ান, তাই চাই সবাই হাসুক”- ট্রো’ল, তৃতীয় বিয়ে আর সোশ্যাল মিডিয়ার ক’টা’ক্ষ নিয়ে অকপট কাঞ্চন মল্লিক

তিনি আরও জানান, জাতীয় স্তরে সম্মানিত একজন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। সেই স্মৃতিগুলো আজও তাঁর কাছে অমূল্য। রাজনীতির উত্তাপের মাঝেও সেই স্মৃতি ও অনুভূতিগুলোকে তিনি আগলে রাখতে চান।

রচনার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বাস্তব জীবন সব জায়গাতেই তীব্র চর্চা চলছে। তাঁর মন্তব্য অনেকের কাছেই বার্তা দিচ্ছে, মতপার্থক্য থাকলেও সম্পর্ককে শ্রদ্ধা ও মানবিকতার জায়গা থেকে দেখা সম্ভব।

সব মিলিয়ে, মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অকপট স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সম্পর্ককে মূল্য দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তাঁর কথায়, রাজনীতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা আর সম্মানের জায়গাটা অটুটই থাকে,আর সেখানেই মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর কাছে আজও বিশেষ।

Leave a Comment