Udit Narayan:চিকিৎসার আড়ালে ষড়যন্ত্র?- প্রথম স্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগে ফের বিতর্কে উদিত নারায়ণ

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Udit Narayan:বলিউডের খ্যাতনামা প্লেব্যাক গায়ক উদিত নারায়ণ (Udit Narayan) আবারও আইনি ও ব্যক্তিগত বিতর্কের কেন্দ্রে। তাঁর প্রথম স্ত্রী রঞ্জনা নারায়ণ(Ranjana Narayan) সুপৌল মহিলা থানায় গায়ক, তাঁর দুই ভাই এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে প্রতারণা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এমনকি চিকিৎসার নামে পরিকল্পিতভাবে জরায়ু অপসারণের মতো বিস্ফোরক দাবি। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

রঞ্জনা ঝার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রথাগত রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই সময় উদিত নারায়ণ সঙ্গীত জগতে নিজের কেরিয়ার গড়ার পথে। বিয়ের কিছুদিন পরই তিনি মুম্বইয়ে পাড়ি দেন। রঞ্জনার দাবি, সেখান থেকেই ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ক্রমশ শিথিল হতে থাকে। তিনি জানান, পরবর্তীতে এক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানতে পারেন যে উদিত নারায়ণ দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তিনি স্পষ্ট কোনও জবাব পাননি বলে অভিযোগ।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ঘিরে রয়েছে ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনা। রঞ্জনার দাবি, সেই সময় তাঁকে চিকিৎসার কথা বলে দিল্লির একটি বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়াই জরায়ু অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে অন্য একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় তিনি জানতে পারেন যে তাঁর জরায়ু আর নেই। এই ঘটনাকে তিনি ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, এই ঘটনার পর তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন এবং মানসিকভাবেও চরম আঘাত পান। এমন সিদ্ধান্ত তাঁর অজ্ঞাতে কীভাবে নেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:Trina Saha: শিশুশিল্পীকে মা’ন’সি’ক হে’ন’স্থা’র অভিযোগে তৃণাকে ঘিরে তোলপাড়, নীরবতার মধ্যেই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা – “মানুষ আপনাকে যতই বদনাম করার চেষ্টা করুক না কেন, আপনি চুপ…”

রঞ্জনা আরও অভিযোগ করেছেন, পরবর্তী সময়ে তিনি মুম্বইয়ে স্বামীর বাড়িতে গেলে তাঁকে সম্মানজনক মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এমনকি বাড়িতে প্রবেশ করতেও বাধা দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর। পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে ওঠায় তিনি নেপালে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তিনি বাপের বাড়িতে ফিরে যান। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অবহেলা, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন।

বর্তমানে ৬১ বছর বয়সী রঞ্জনা ঝা শারীরিক অসুস্থতা এবং আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কোনও সহায়তা পাননি বলে তাঁর অভিযোগ। সেই কারণেই তিনি পুনরায় আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এটি প্রতিশোধের লড়াই নয় বরং নিজের অধিকার ও সম্মানের প্রশ্নে তিনি ন্যায়বিচার চান।

সুপৌল মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগগুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুতর হওয়ায় আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর। চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একইসঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ও বিবাহ সংক্রান্ত তথ্যও তদন্তের আওতায় আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:Ankita Chakraborty: “আমার জন্য… কোনও কাজ নেই…একটা কাজ করলে তো সংসারের খরচ চালানো সম্ভব নয়, “অভিনয়গুণে কাজ মিললে ছবিটা অন্যরকম হতো”— টলিউডে কাজ না পাওয়া নিয়ে অকপট অঙ্কিতা চক্রবর্তী

অন্যদিকে, এই নতুন অভিযোগ প্রসঙ্গে উদিত নারায়ণ বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত একতরফা দাবির ভিত্তিতেই আলোচনায় রয়েছে। অভিযোগগুলির সত্যতা আদালত ও তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণ সাপেক্ষ এই বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক।

রঞ্জনার দাবি, এর আগেও পারিবারিক আদালত ও মহিলা কমিশনে তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। সেই সময় স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস মিলেছিল বলে তিনি জানান। তবে বাস্তবে সেই সম্মান বা সহযোগিতা পাননি বলেই তাঁর অভিযোগ। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর এবার তিনি সরাসরি থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।

এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তা কেবল ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক নয় বরং আইনি ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসার নামে সম্মতি ছাড়া অস্ত্রোপচারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

বর্তমানে গোটা বিষয়টি পুলিশের তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণের ওপর। আপাতত বিতর্কের কেন্দ্রে আবারও উদিত নারায়ণের নাম, আর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় অপেক্ষায় রঞ্জনা ঝা।

Leave a Comment