Rahul-Prity: বিবাহবার্ষিকী মানেই বিশেষ কিছু মুহূর্ত, চমক আর আবেগে ভরা উদযাপন। সেই রকমই একটি দিনকে স্মরণীয় করে তুলতে চেয়েছিলেন প্রীতি(Prity Biswas)। স্বামী রাহুল(Rahul Mazumdar)-এর জন্য নিখুঁত একটি মধ্যরাতের সারপ্রাইজের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কেক অর্ডার করা থেকে শুরু করে ঘর সাজানো কোনও কিছুতেই খামতি রাখেননি। সবকিছু গোপন রেখে একেবারে ঠিক সময়ে চমকে দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল তাঁর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এমন এক ঘটনা ঘটল, যা কল্পনাকেও হার মানায়।
১০ ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁদের বিয়ের তারিখ। কিন্তু কাজের চাপে এ বছর দিনটিকে ঘিরে আলাদা করে বড় কোনও অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাননি তাঁরা। রাহুল এই মুহূর্তে ব্যস্ত তাঁর নতুন ধারাবাহিক ‘সাত পাকে বাঁধা’(Saat Paake Bandha)-র শুটিং নিয়ে। জ়ি বাংলার এই নতুন ধারাবাহিক শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে, আর তার প্রস্তুতিতে ডুবে রয়েছেন অভিনেতা। ফলে বিবাহবার্ষিকীর দিনটা অনেকটাই কর্মব্যস্ততার মধ্যেই কেটে যায়। তাই প্রীতি ঠিক করেন, দিনভর ব্যস্ততার পর মধ্যরাতে স্বামীকে চমকে দেবেন।
পরিকল্পনা মতোই সব প্রস্তুতি সেরে ফেলেন তিনি। ঘরের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়, সুন্দর করে সাজানো হয় কেক। পরিবেশটাকে আরও রোম্যান্টিক করে তোলার সব ব্যবস্থাই ছিল। রাহুল কিছুই টের পাননি এমনটাই ভেবেছিলেন প্রীতি। তাঁর মনে তখন শুধুই উত্তেজনা, কখন রাহুল ঘরে ঢুকবেন আর তিনি চমকে দেবেন।
কিন্তু সেই মুহূর্তেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। রাহুল ঘরে ঢোকেন তাঁদের একরত্তি কন্যা আইরাকে কোলে নিয়ে। আর সেখানেই ফাঁস হয়ে যায় সারপ্রাইজের সব রহস্য। রাহুলের কথায়, “মেয়ে তো আমায় গিয়ে বলছে ‘পাপা কেক’। ও দেখিয়ে দিল কোথায় কেক আছে।” ছোট্ট আইরা নিষ্পাপ কৌতূহল আর উচ্ছ্বাসে বাবাকে সরাসরি কেকের দিকে ইশারা করে দেয়। আর তাতেই ভেস্তে যায় প্রীতির গোটা পরিকল্পনা।
ঘটনাটা যে এমন মোড় নেবে, তা ভাবতেই পারেননি প্রীতি। তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারে স্বতঃস্ফূর্ত। মেয়েকে উদ্দেশ করে তিনি মজা করেই বলেন, “যাহ, তুমি পাপাকে বলে দিলে? সারপ্রাইজটা কিন্তু একেবারেই হলো না। তুমিই তো সারপ্রাইজ করে দিলে আমাকে।” কথার মধ্যে খানিক আক্ষেপ থাকলেও, তার চেয়ে বেশি ছিল মায়া আর হাসি।
সারপ্রাইজ না হলেও মুহূর্তটা কিন্তু একেবারেই নষ্ট হয়নি। বরং অপ্রস্তুত অবস্থায় তৈরি হওয়া সেই দৃশ্য যেন আরও বেশি স্বতঃস্ফূর্ত আর আনন্দময় হয়ে ওঠে। এরপর তিনজনে মিলে কেক কাটেন। বাবার কোলে বসে আইরা পুরো বিষয়টা দারুণ উপভোগ করে। কেক কাটার সময় সে যেন সবচেয়ে বেশি উৎসাহী। বাবা-মায়ের আগে নিজেই কেক কাটতে চাওয়ার ভঙ্গিতে স্পষ্ট ছিল তার উচ্ছ্বাস।
এই বিশেষ দিনের আরেকটি আবেগঘন দিকও ছিল। রাহুলের পছন্দের কেক পাঠিয়েছিলেন প্রীতির মা এবং দাদা। পরিবারের উপস্থিতি সরাসরি না থাকলেও, তাঁদের ভালোবাসা পৌঁছে গিয়েছিল এই ছোট্ট উদযাপনে। ফলে মুহূর্তটা হয়ে ওঠে আরও ঘরোয়া, আরও আন্তরিক।
রাহুল এবং প্রীতির জীবনে আইরার আগমন যেন সবকিছুকেই নতুন রঙ দিয়েছে। তাঁদের সম্পর্কের মাঝে এখন যুক্ত হয়েছে এক নতুন অধ্যায় অভিভাবকত্ব। আর সেই নতুন অধ্যায়েরই মিষ্টি ছাপ পড়ল এই বিবাহবার্ষিকীর রাতে। পরিকল্পনা মতো নিখুঁত সারপ্রাইজ না হলেও, বাস্তবের এই অঘটনই হয়ে উঠল দিনের সবচেয়ে বড় চমক।
ব্যস্ততার মাঝেও যে সম্পর্কের উষ্ণতা অটুট থাকে, তারই প্রমাণ যেন এই মুহূর্ত। বড় কোনও আয়োজন নয়, বরং পরিবারের তিনজনকে ঘিরেই তৈরি হল স্মরণীয় একটি রাত। সারপ্রাইজের গোপনীয়তা ভেঙে দিল ছোট্ট আইরা, কিন্তু সেই ভাঙনের মধ্যেই ফুটে উঠল এক নিখাদ পারিবারিক আনন্দ।
রাহুলের নতুন ধারাবাহিকের ব্যস্ত সূচির মাঝেও এই ছোট্ট উদযাপন প্রমাণ করল, ব্যক্তিগত মুহূর্তের গুরুত্ব কখনও কমে যায় না। আর প্রীতির পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও, শেষ পর্যন্ত যে হাসি আর ভালোবাসায় রাতটা ভরে উঠেছিল, সেটাই হয়তো আসল সারপ্রাইজ।
সব মিলিয়ে, মধ্যরাতের সেই পরিকল্পিত চমক ভেস্তে গেলেও, তৈরি হল এক অন্যরকম স্মৃতি যেখানে ছোট্ট কন্যার সরল উচ্ছ্বাসই হয়ে উঠল সবচেয়ে বড় হাইলাইট। বিবাহবার্ষিকীর রাতে সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেই সারপ্রাইজ পেয়ে গেলেন প্রীতি। আর সেই মুহূর্তই এখন তাঁদের পরিবারের সবচেয়ে মিষ্টি গল্প।