Mimi Chakraborty: বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী(Mimi Chakraborty )-কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বিষয়টি এখন আইনি লড়াইয়ের পথে। একদিকে অভিনেত্রীর বক্তব্য, অন্যদিকে আয়োজক পক্ষের দাবি দুই তরফের বিবৃতি সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই পরিস্থিতিতে আয়োজক পক্ষের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির একটি পোস্ট নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জের এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। নির্দিষ্ট দিন সেখানে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল মিমি চক্রবর্তীর। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর অভিনেত্রী অভিযোগ তোলেন, তাঁকে স্টেজ থেকে নেমে যেতে বলা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা শ্রী তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং এরপরই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
এই প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খোলেন আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি দাবি করেন, তাঁর মক্কেল ইতিমধ্যেই মিমি চক্রবর্তীর পাঠানো নোটিসের জবাব দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “মিমি চক্রবর্তীর নোটিশ আমার মক্কেল পেয়েছে এবং তার উত্তরও দেওয়া হয়েছে। ওনাকে ধন্যবাদ। অন্ততপক্ষে এটা স্বীকার করার জন্য যে তিনি রাত ১১:২০ নাগাদ অনুষ্ঠানের জন্য পৌঁছেছিলেন।”
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় ছিল রাত সাড়ে দশটা। প্রশাসনের অনুমতি ছিল রাত বারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চালানোর। সেই হিসেবে সময়ের সীমাবদ্ধতা ছিল স্পষ্ট। তরুণজ্যোতির দাবি, রাত ১১:৩৫ মিনিট নাগাদ অভিনেত্রী অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং ১১:৪৬ মিনিটে স্টেজে ওঠেন। যেহেতু অনুষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি ছিল কেবল রাত ১২টা পর্যন্ত, তাই নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মক্কেল ভদ্রভাবে অনুষ্ঠান বন্ধ করার অনুরোধ জানান।
সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি আসে পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে। তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “প্রথমত উনি এত বড় শিল্পী নন যে ৪০ মিনিটের জন্য ওনাকে ২.৬৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। দেড় ঘন্টার অনুষ্ঠানের জন্য টাকাটা দেওয়া হয়েছিল।” তাঁর দাবি, পারফরম্যান্সের নির্ধারিত সময় ছিল প্রায় দেড় ঘণ্টা। কিন্তু বাস্তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
আইনজীবী আরও জানান, অভিনেত্রীর করা একাধিক বক্তব্যের বিরোধিতা করছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “উনি যে বক্তব্যগুলো করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা কারণ প্রত্যেকটা ঘটনার ভিডিও আছে।” অর্থাৎ আয়োজক পক্ষের কাছে অনুষ্ঠানের পূর্ণ ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে বলেই দাবি করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনে আদালতে পেশ করা হবে।
তরুণজ্যোতির বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান বন্ধ করার অনুরোধ করা হয়েছিল প্রশাসনিক অনুমতির সময়সীমা মেনেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, “উনি নিজে বুঝতে পেরেছেন যে টাকা ফেরত দিতে বলা হবে তাই জন্য নাটক করছেন।” এই মন্তব্য ঘিরেই মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকে উদ্দেশ করে এমন মন্তব্য কতটা যুক্তিসঙ্গত। আবার অন্য একাংশ বলছেন, যদি সময়মতো না পৌঁছানো হয়ে থাকে এবং নির্ধারিত পারফরম্যান্স সম্পূর্ণ না হয়, তবে আয়োজকদের প্রশ্ন তোলার অধিকার থাকেই
আইনজীবীর বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ওই অনুষ্ঠানে মিমি চক্রবর্তী একমাত্র শিল্পী ছিলেন না। আরও কয়েকজন শিল্পী উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের কারও তরফ থেকে কোনও অভিযোগ তোলা হয়নি। অর্থাৎ সমস্যা যদি থেকে থাকে, তা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পর্বকে কেন্দ্র করেই।
অন্যদিকে, মিমি চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, তাঁকে স্টেজ থেকে নামতে বলা হয়, যা তিনি অপমানজনক বলে মনে করেছেন। সেই অভিযোগের জেরেই আয়োজকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এখন পাল্টা নোটিশ ও প্রকাশ্য বক্তব্যের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এই মুহূর্তে বিষয়টি আদালতের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তরুণজ্যোতি তিওয়ারি তাঁর পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আপাতত এটুকুই
বলার, বাকিটা কোর্টে হবে।” অর্থাৎ দুই পক্ষই এখন আইনি প্রক্রিয়ার উপরেই আস্থা রাখছেন।
সমগ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিনোদন মহলে যেমন আলোচনা তুঙ্গে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও মতভেদ স্পষ্ট। প্রশ্ন উঠছে সময় ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি, না কি পারিশ্রমিক নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি? একজন শিল্পীর পেশাদারিত্ব বনাম আয়োজকদের প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা কোনটি বেশি গুরুত্ব পাবে, তা এখন আদালতের সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করছে।
সব মিলিয়ে, বনগাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন আইনি ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ৪০ মিনিটের পারফরম্যান্স, ২.৬৫ লক্ষ টাকার পারিশ্রমিক, নির্ধারিত সময় বনাম বাস্তব উপস্থিতি একাধিক প্রশ্নের উত্তর মিলবে আদালতেই, এমনটাই মনে করছে দুই পক্ষ। ততদিন পর্যন্ত এই বিতর্ক যে থামছে না, তা স্পষ্ট।