Jeetu Kamal: একের পর এক বিতর্কে জর্জরিত অভিনেতা জিতু কমল। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকের দিতিপ্রিয়ার সাথে ঝামেলার জেরে একসময় লাগাতার কটাক্ষ ধেয়ে এসেছিল তাঁর দিকে। আর মাস ঘুরতে না ঘুরতেই নতুন বিতর্ক শুরু অভিনেতাকে নিয়ে। প্রযোজক-পরিচালক সাঁইপ্রকাশ লাহিড়ি ‘এরাও মানুষ দ্য সার্চ উইদিন’ থেকে বাদ পড়েছেন অভিনেতা জিতু কমল অভিযোগ অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ও সেটের লোকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন তিনি। শ্যুটিংয়ের নির্দিষ্ট তারিখ বলে দিলেও সেই তারিখ পর্যন্ত শ্যুটিং করেননি তিনি। উল্টে লক্ষাধিক টাকার দাবি করেছেন তিনি! এছাড়াও জিতু ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে চাননি, শেষ দিনে শ্যুট ছেড়ে বেরিয়ে যান। এমনকী দাবি করেন যে পরিচালককে ‘পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে হবে।’
অবশ্য গতকাল এই বিষয়ে তাঁর যে কোনো দোষ নেই তা একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে স্পষ্ট জানান অভিনেতা। তিনি জানান, “আপনি ডিসটার্ব ছিলেন তো তাই, “হারামের টাকা নিয়েছিস বেরিয়ে যা,বা..”
এই কথাটা মুখ থেকে বেরিয়ে গেছে।
আপনি ফ্লোরে ভালো কাজ করেছেন প্রকাশ বাবু। আপনি ভবিষ্যতেও খুব ভালো কাজ করবেন কিন্তু আপনার টাকার অহংকার আপনাদের একটা ত্রুটি। টাকা দিচ্ছেন বলে মানুষকে কুকুর বিড়াল ভাবা এটা একটু বন্ধ করতে হবে।” অভিনেতার কথায় স্পষ্ট টাকার থেকেও তাঁর কাছে সবচেয়ে দামি তাঁর আত্মসম্মান।
এরই মাঝে জিতু কমলের পাশে দাঁড়ালেন সুদীপা চ্যাটার্জী। জিতুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুদীপা। ‘চোর’ ছবির শুটিংয়ের কিছু ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “জিতু কামাল- বিতর্ক যাকে পিছু ছাড়ে না, এমন একটা নাম।
আমার সাথে জিতুর ঝগড়া সপ্তাহে একদিন বাঁধা থাকে। আবার পরেরদিন থেকে- যেন কিছুই হয়নি এরকম করে ভাব হয়ে যায়।
আমি আজ প্রায় ২০ বছর ধরে এই বাংলা ফিল্ম ইন্ডিস্ট্রির মধ্য থেকে- অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থেকেছি।
কোনোদিনও, কোনও বিষয়ে কোনও মন্তব্য করিনি।
কিন্তু, আজ মনের ভেতর থেকে একটা তাগিদ অনুভব করে, বাধ্য হয়েই এই লেখটা সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।
জিতু কামাল- মানুষ হিসেবে কেমন?
-একটু introvert, ভীষনভাবে আবেগপ্রবণ, পুরোটাই spiritual, প্রচারবিমুখ আদ্যপান্ত একজন private মানুষ।
এবার সবচেয়ে বেশি জরুরি যেটা, এই মুহূর্তে- সেটা হলো:
জিতু কামাল- professionaly কেমন??
জিতু- extemeley cooperation, production friendly, obedient, respectful, non-demanding, sensitive, intelligent একজন অভিনেতা।
জিতুর- ওরকম একটা সহযোগিতা ছাড়া, আমরা মাত্র ৯ দিনে “চোর” এর shooting শেষ করতে পারতাম না।
ও চুপচাপ একটা চেয়ার পেতে, বাইপাসের খোলা রাস্তায়- বসে থেকেছে, অপেক্ষা করেছে, রেল লাইনের ধারে, ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে, তবু পরিচালক না বলা অবধি- সেট ছেড়ে বেরিয়ে যায়নি
রোজ ওকে বলতে হতো- “জীতু!…. ঘুমোও। আর কাজ কোরোনা
তাতে উত্তর আসত- “আমি ওদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এর বেশী আর কিছু বলতে চাইছি না।
শুধু, আমাদের- মানে আর্টিস্টদের এবার, সঙ্গবদ্ধ হবার সময়।
নায়কের সেই বিখ্যাত সংলাপ মনে করিয়ে দিই?
“….শুটিং এ একমাত্র অভিনেতা হলো- indespensible। তার কোনও সহকারী নেই, যে তার হয়ে কাজটা করে দেবে।”
তাই, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জন্য প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতেই হবে
সহমত হলে, নিজের নাম টাইপ করে শেয়ার করুন।”