Parambrata Chattopadhyay:রাহুল মুখার্জীকে ব্যান করা নিয়ে যে সমস্যার শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত বাড়তে বাড়তে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে কিছুদিনের জন্য হলেও স্তব্ধ হয়ে যায় টলিপাড়া। গত বছর ফেডারেশন বনাম পরিচালক গিল্ডের সংঘাত চরমে পৌঁছায়। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে সেই দ্বন্দ্ব কাটে। কিন্তু তার সত্ত্বেও ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন কিছু পরিচালক। সেখানে নাম ছিল পরমব্রত চ্যাটার্জীরও। তবে, কিছুদিন আগেই পরমব্রত জানিয়েছিলেন তিনি আর কোনো অশান্তি চান না। সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করেন অভিনেতা। সেখানে তিনি বস্তুত স্বীকার করেন যে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে তিনি যে মামলা করেছিলেন সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এমনটাই দাবি করেন তিনি। সুর বদলে একেবারেই অন্য কথা জানালেন অভিনেতা।
তিনি জানান, “অনেকেই হয়ত জানেন গত এক বছর ধরে আমার এবং আমার কিছু সহকর্মীদের সঙ্গে ফেডারেশন অর্থাৎ ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সঙ্গে কিছু মতবিরোধ, কিছু ভুল বোঝাবুঝি, কিছু বাদানুবাদ, মনোমালিন্য এগুলি চলছিল। আজকে এই মুহূর্তে আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে আমাদের পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি, মনোমালিন্য এগুলো সবকিছু পিছনে ফেলে রেখে আবার আমরা একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে পারব। ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট করেছি যে আমি ব্যক্তিগতভাবে, বাকিদের কথা বলতে পারব না, প্রত্যেকে নিজের, নিজের সিদ্ধান্ত নেবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে কোনোরকম আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে আর যুক্ত রাখছি না। বর্তমানেও রাখছি না, ভবিষ্যতেও রাখব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর বছর ধরে কাজ করার সুবাদে আমি জানি যে এই ফেডারেশন একটি সুবৃহৎ পরিবার। আর এই পরিবারের মধ্যে যদি কখনও ভুল বোঝাবুঝি হয়, তখন সেটা আলাপ আলোচনার মধ্যে মিটিয়ে নেওয়া বা আলাপ আলোচনা করে সেটি সমাধান করাটাই শ্রেয়। এই প্রসঙ্গে বলতে দ্বিধা নেই যে এই গোটা ব্যাপারটিকে আদালত বা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি হয়ত কিছু হঠকারী ছিল, সঠিক ছিল না। এর পিছনে কিছু ভুল তথ্য,কিছু ধন্ধ, কিছু তথ্যের ভুল বিশ্লেষণ ইত্যাদি এই সমস্ত জিনিস কাজ করেছিল। ফেডারেশনের গুরুত্ব নিয়ে আমি সবসময় অত্যন্ত সচেতন ছিলাম, অত্যন্ত সুনিশ্চিত ছিলাম। এমনকি মতবিরোধের সময়তেও আমি সবসময় বলেছি যে, ফেডারেশন অত্যন্ত জরুরি একটি প্রতিষ্ঠান। এই ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত যে মানুষগুলো,সদস্য,কলাকুশলীরা আমাদের সঙ্গে প্রত্যেকদিন কাজ করেন, তাঁরা যে কতটা দক্ষ সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁরা আমাদের গর্ব।
বিশেষ করে বলব বর্তমানে ফেডারেশনের বিভিন্ন গভর্নিং বডিগুলি, তাদের যে বিভিন্ন গিল্ডগুলি, তাদের যে সম্পাদক বা সেক্রেটারিরা আছেন তাদের তত্ত্বাবধানে এরা যতটা সুসংবদ্ধভাবে কাজ করছেন, এবং সর্বোপরি ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের পরিচালনায়, তত্ত্বাবধানে যেভাবে গোটা ফেডারেশন যতটা সুসংগঠিতভাবে কাজ করছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। আমি বলতে চাই যে টেকনিশিয়ানদের, কলাকুশলীদের ওয়েলফেয়ারের জন্য, তাদের আরও দক্ষতা, তাদের সবকিছু, তাদের কাজকর্ম যাতে আরও ভালো হয়, সেইটার জন্য তারা যে কাজটা করছেন সেটা নিঃসন্দেহে, তার জন্য, তাদের প্রশংসা প্রাপ্য। আবারও বলছি কখনও যদি এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন মনে হবে যে কোনো জিনিস নিয়ে একটুখানি আলাপ আলোচনা করা দরকার, সেটা আলাপ আলোচনার মধ্যেই হবে অন্য কোন পদ্ধতিতে নয়। ফেডারেশনের একটি অংশ আমি নিজেও এবং সেই অংশ হিসেবে সকলের সঙ্গে কথা বলে ঐক্যমত্য তৈরি করে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারব এটাই আমার আশা, এটাই আমার বিশ্বাস। তার সঙ্গে এটাও আমার বিশ্বাস বাংলা, অডিও ভিজুয়াল জগত, আমার আপনার সকলের প্রচেষ্টায়, ফেডারেশনের নেতৃত্বে, সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের পরিচালনায় এবং তত্ত্বাবধানে আরও সমৃদ্ধি লাভ করবে আগামী দিনে। শ্রমিক ঐক্য দীর্ঘজীবী হোক, ফেডারেশন দীর্ঘজীবী হোক, সকলের জীবন সমৃদ্ধি, সাফল্যে ভরে উঠুক, কলাকুশলী, শিল্পী সকলের। আমরা সকলে চলুন একসঙ্গে অনেক ভালো কাজ করি। ধন্যবাদ।”
অনেকেই তার এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘আমিও ব্যক্তিগত ভাবে আপনার মত সুবিধেবাদী, গিরগিটিকে বয়কট করলাম !’
অপর একজন লিখেছেন, ‘স্বরূপ কাকা বলে দিল? এসব ভিডিও দেবার জন্য?’