Koel Mallick:টলিউডের কুইন কোয়েল মল্লিক। অনুরাগীরা তাঁকে টলিকুইন বলেই সম্বোধন করেন। তাঁর ব্যবহার, রুচিশীল মার্জিত পোশাক বরাবর আকর্ষণ করেছে অনুরাগীদের। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ছবি ‘স্বার্থপর'(sarthopor)। ছবিটি রমরমিয়ে চলছে সিনেমা হলে। এই ছবির মাধ্যমে অনেক বছর পর তাঁকে ও অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককে(Ranjit Mallick) একসাথে দেখেছেন দর্শক। অর্থাৎ আবারও বাবা ও মেয়েকে একসাথে দেখে আপ্লুত দর্শক। কোয়েল মল্লিক ও কৌশিক সেনের অনবদ্য অভিনয়, ভাই-বোনের আইনি ল’ড়া’ই’য়ের গল্প একপ্রকার দর্শকদের মনে জায়গা করে নিতে সফল হয়েছে। রীতিমতো সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
দীর্ঘ অনেক বছর বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন তিনি। একপ্রকার বাবার হাত ধরেই এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ। অভিনেত্রীর প্রথম ছবি ‘ গুরু’, যেখানে বাবার সাথেই অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে এতবছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার পরেও কোথাও যেন ক্ষো’ভ থেকে গেছে অভিনেত্রীর মনে।
বলিউড(Bollywood) ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে টলিউড(Tollywood) ইন্ডাস্ট্রির তুলনা করে এই অভিযোগের কথা জানান তিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে যিনি জানিয়েছেন, “যেটা বম্বে ইন্ডাস্ট্রিতে হয় না সেটা কলকাতা ইন্ডাস্ট্রিতে কেন হয়? আমি ঠিক জানিনা! বম্বে ইন্ডাস্ট্রিতে কমার্শিয়াল ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে কিন্তু ‘মিনিংফুল ছবি’ করা হচ্ছে,সেটা চিরকাল আমরা দেখে এসেছি।” এরপরই অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, “স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ আলিয়া ভাট(Alia Bhatt) করল, তারপরেই আবার ‘হাইওয়ে’র মতো সিনেমাও করছেন। বম্বে ইন্ডাস্ট্রিতে মানুষজন এইভাবে ভাবতে পারে। আবার বম্বে ইন্ডাস্ট্রিতে এটাও হয় যে, যাঁরা ‘মিনিংফুল ছবি’র মধ্যে দিয়ে নিজেদেরকে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন যেমন রাধিকা আপ্টে, তাঁদেরকেও কিন্তু অন্য ধরনের ছবিতে নেওয়া হয়েছে, এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছে।”
কিন্তু বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে এইরকম ভেদাভেদ কেন হবে? এই নিয়ে অভিনেত্রী প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান,”বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো একটা ব্যাপার আছে যে, যাঁরা ‘মিনিংফুল ছবি’ করছেন, তাঁরা শুধুই সেই ধরনের ছবিই করবে। তাঁরা অন্য ধরনের ছবি, কমার্শিয়াল ছবিতে তাঁদেরকে নেওয়া হয় না। আমার তো মনে হয় কমার্শিয়াল ছবিগুলি ইন্ডাস্ট্রি মেরুদন্ড। কারণ ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের ঘর চলে সেই কমার্শিয়াল ছবিগুলি থেকে। তারপর কমার্শিয়াল ছবি পরেই আসে মিনিংফুল সিনেমা, ওখান থেকে যেটা আসে তারপরেই এই ধরনের ছবিতে ইনভেস্ট করা হয়। বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে আছে যে তুমি কমার্শিয়ালে চলে গেছ তার মানে তোমাকে আর ‘মিনিংফুল ছবি’তে নেওয়া হবে না।”
অভিনেত্রীর এই কথা থেকে স্পষ্ট যে একজন অভিনেতা-অভিনেত্রীকে সবধরনের ছবিতেই কাজ করতে দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট ছবিতেই তাঁকে নেওয়া হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়। এর আগেও অনেক অভিনেত্রীকে এমন অভিযোগ করতে শোনা গিয়েছিল বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে।