Nikita Das: “কার পকেটে কত জোর পুলিশ তা বোঝে, মধ্যবিত্ত বলেই দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে…” ওষুধ আনতে বেরিয়েই পুলিশি ‘দাদাগিরি’! – যাদবপুরে অভিনেত্রী নিকিতা দাসের পরিবারের অভিযোগে তোলপাড়

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Nikita Das: দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর এলাকায় পুলিশি আচরণ ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ নিকিতা দাস(Nikita Das)এবং তাঁর পরিবার প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছেন যে, জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ কিনতে বেরিয়ে তাঁরা পুলিশের হে’ন’স্থা’র শিকার হয়েছেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবুও এই অভিযোগ ঘিরে শহর জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা আইন প্রয়োগে কড়াকড়ি, না কি মানবিকতার অভাব?

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে পরিবারের এক প্রবীণ সদস্যের হঠাৎ শারীরিক অবনতি ঘটে। জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ আনতে নিকিতা, তাঁর ভাই এবং মা বাইকে চেপে বাড়ি থেকে বের হন। তাঁদের বক্তব্য, ওষুধের দোকানটি বাড়ি থেকে অল্প দূরত্বে হওয়ায় তাঁরা হেলমেট পরেননি। সেই সময় রাস্তায় কর্তব্যরত পুলিশ তাঁদের আটকায় এবং হেলমেটবিহীন অবস্থায় বাইক চালানোর জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়।

পরিবারের অভিযোগ, তাঁরা বারবার অনুরোধ করেন যে পরিস্থিতি জরুরি এবং দোকানটি খুব কাছেই। কিন্তু পুলিশ নাকি সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় তাঁদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখে। ভিডিওতে শোনা যায়, এক তরুণী ক্ষো’ভে’র সঙ্গে বলছেন, “পাড়ার মধ্যে ওষুধ আনতে বেরিয়েছি, হেলমেট পরিনি তার জন্য গাড়ি নিয়ে নেওয়া হচ্ছে! এটা দাদাগিরি ছাড়া আর কী?”
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন পরিবার ‘দাদাগিরি’ শব্দটি ব্যবহার করে পুলিশের আচরণের সমালোচনা করে। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই মন্তব্যের পর এক পুলিশকর্মী বাইকের চাবি নিয়ে চলে যান। ফলে অ’সু’স্থ সদস্যকে দ্রুত চি’কি’ৎ’সা সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয় বলে তাঁদের দাবি।

ভিডিওতে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এক পর্যায়ে যুবতীটি বলেন, “কার পকেটে কত জোর আছে পুলিশ তা বোঝে। মধ্যবিত্ত বলেই আমাদের এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে।” এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

আরও পড়ুন:Sudipa Basu:“গালাগালিই এখন ট্রেন্ড! অভিনয়ের চেয়ে রিলস গুরুত্বপূর্ণ..ফলোয়ার্স থাকলেই অডিশন! পাঁচটা খি’স্তি-ভা’য়ো’লে’ন্স দিলেই হিট!”- ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের চাঞ্চল্যকর দাবি সুদীপা বসুর

পরিবারের তরফে আরও অভিযোগ, রাস্তায় আটকানোর পর তাঁরা যাদবপুর থানায় গেলে সেখানেও তাঁদের প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়। অ’সু’স্থ অবস্থায় থাকা এক প্রবীণ মহিলা ভিডিওতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি ব্যথা নিয়ে এখানে দু’ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। শুধু হ্যারাসমেন্ট! এখন জিজ্ঞেস করছেন আমরা কেন এসেছি? আমি আপনাদের দেখতে এসেছি!”
পরিবারের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানো সত্ত্বেও পুলিশ তাঁদের বক্তব্য গুরুত্ব দেয়নি। বরং প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষ’ম’তা’র অপব্যবহার করে পুলিশ গায়ের জোরে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেয়েছে।

ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের মত, হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ সে পরিস্থিতি জরুরি হোক বা না হোক। অন্যদিকে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, গভীর রাতে অ’সু’স্থ ব্যক্তির জন্য ওষুধ আনতে বেরোনো একটি পরিবারকে আরও মানবিকভাবে বিবেচনা করা যেত কি না।
নেটিজেনদের একটি বড় অংশ বলছেন, আইন প্রয়োগ অবশ্যই প্রয়োজনীয়, কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই প্রশাসনিক সংবেদনশীলতার পরিচয়। বিশেষ করে চি’কি’ৎ’সা’জ’নি’ত জরুরি অবস্থায় কিছুটা সহনশীলতা প্রত্যাশিত এমন মতও উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন:Sujoy Prasad Chatterjee:মঞ্চে ওঠার এক ঘণ্টা আগে ‘কাট’! অরিজিৎ–অনুষ্কার কনসার্টে কেন সরিয়ে দেওয়া হল সুজয় প্রসাদকে? বিস্ফোরক অভিযোগ বাচিক শিল্পীর

এই ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ভিডিওর সত্যতা, সময়কাল এবং সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় বি’ত’র্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এই ঘটনার সূত্র ধরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশি ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নাগরিকদের একাংশের বক্তব্য, “পুলিশ ধরলে চুপ থাকতে হবে এটাই কি নিয়ম?” আবার অন্য অংশের মতে, নিয়ম না মানলে শাস্তি হবেই তা সে যে-ই হোক।
আইন মেনে চলার দায় যেমন নাগরিকের, তেমনই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতার দায় প্রশাসনের। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই ভারসাম্য নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুন:Hiran Chatterjee’s Second Marriage:ডি’ভো’র্স ছাড়াই বেনারসে গোপন বিয়ে, কলকাতায় ঝ’ড় -হিরণের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ঘিরে তোলপাড়, “আমরা দু’জনেই একে অপরের ভরসা, তুমিই আমার নায়ক…”, মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কন্যা নিয়াসার স্পষ্ট বার্তা

যাদবপুরের এই বিতর্কিত ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র একটি পরিবারের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা বৃহত্তর সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ভিডিওর সম্পূর্ণ সত্যতা ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া সামনে এলে তবেই স্পষ্ট হবে এটি নিছক নিয়মরক্ষার ঘটনা, নাকি সত্যিই ‘দাদাগিরি’র অভিযোগে যুক্তি রয়েছে। ততদিন পর্যন্ত প্রশ্নচিহ্ন রয়ে যাচ্ছে, এবং বিতর্কও থামার লক্ষণ নেই।

Leave a Comment