Hiran Chatterjee’s Wife:মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে থানায় প্রথম স্ত্রীর অভিযোগে তোলপাড় হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের সংসার

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Hiran Chatterjee’s Wife: খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়(Hiran Chatterjee)-এর ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে তুমুল বিতর্ক। হঠাৎ করেই সমাজমাধ্যমে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আনলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়(Anindita Chatterjee)। বিষয়টি এবার শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না। মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে স্বামীর নামে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলেন অনিন্দিতা। ফলে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

মঙ্গলবার আচমকা নিজের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়(Hiran Chatterjee)। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তাঁর প্রথম স্ত্রী। অনিন্দিতার দাবি, তাঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত কোনও আইনি ডিভোর্স হয়নি। সেই অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি। বুধবার এই অভিযোগকে আইনি রূপ দিতে মেয়েকে নিয়ে থানায় পৌঁছন তিনি। থানায় গিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দৃশ্যও সামনে আসে।

অনিন্দিতা জানান, তিনি এবং হিরণের মেয়ে বর্তমানে ‘আরবানা’ কমপ্লেক্সে থাকেন, যেখানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁর দাবি, স্বামী কতদিন তাঁদের সঙ্গে ছিলেন, তা প্রমাণ করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো সম্ভব। তাঁর কথায়, “আমি এখনই সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে পারি। তাহলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে যে হিরণ কতদিন আমাদের সঙ্গে ছিল।”

এই বিতর্কের মাঝেই বুধবার সন্ধ্যায় হিরণের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঋত্বিকা গিরি (Ritika Guri) একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেই পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই বিয়ে নতুন নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ও হিরণ অনেক আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং গত পাঁচ বছর ধরে একসঙ্গে রয়েছেন। ঋত্বিকার আরও দাবি, হিরণ প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতাকে ডি’ভো’র্সে’র আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন এবং অনিন্দিতাও এই সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয় জানতেন।

আরও পড়ুন:Hiran Chatterjee’s Second Marriage:ডি’ভো’র্স ছাড়াই বেনারসে গোপন বিয়ে, কলকাতায় ঝ’ড় -হিরণের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ঘিরে তোলপাড়, “আমরা দু’জনেই একে অপরের ভরসা, তুমিই আমার নায়ক…”, মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কন্যা নিয়াসার স্পষ্ট বার্তা.

তবে এই দাবি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছেন অনিন্দিতা ও তাঁর আইনজীবী। অনিন্দিতার আইনজীবীর স্পষ্ট বক্তব্য, “ডি’ভো’র্সে’র নোটিস কোর্ট থেকে আসে। এখানে কেবল একটি লয়ার্স নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, যার সঙ্গে ডি’ভো’র্সে’র কোনও সম্পর্ক নেই। যতক্ষণ না কোর্ট থেকে ডি’ভো’র্সে’র আদেশ আসছে, ততক্ষণ আইনত এই বিয়ে বহাল রয়েছে।”

আইনজীবীর আরও দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পোস্ট করা হয়েছে, সেটিকেই ভিত্তি করে তাঁরা থানায় এসেছেন এবং আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটছেন। তাঁদের মতে, ওই পোস্টে ঋত্বিকা গিরি নামের এক নারী হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিজের বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন, যা আইনত অপরাধ, কারণ প্রথম বিয়ের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি।
অনিন্দিতার অভিযোগ, পাঁচ বছর আগে বিয়ের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২০২১ সালে হিরণ খড়গপুরে যান। তার আগে রিতিকার সঙ্গে তাঁর পরিচয়ই বা হল কী করে? পাঁচ বছর আগে বিয়ের কথা বলা একেবারেই হাস্যকর।” তাঁর মতে, এই তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে কোনওভাবেই মেলে না।

ঋত্বিকার পোস্টে আরও বলা হয়, তিনি বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। সম্প্রতি তাঁর একটি অপারেশন হয়েছে এবং চিকিৎসক তাঁকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এই কারণেই তিনি কোনও সাক্ষাৎকার দিতে পারছেন না বলেও জানান। তবে অনিন্দিতার অভিযোগ, অসুস্থতার কথা সামনে এনে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “এখন সিম্প্যাথি কার্ড খেলছে। ওর কথার কোনও ভ্যালু নেই।

আরও পড়ুন:Prity Biswas:“ইন্ডিগোকে বয়কট করাই উচিত!…আমার সারাটা দিন কেঁ’দে কেঁ’দে গেছে..প্লিজ একটু সতর্ক হোন” – ইন্ডিগোর দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় ক্ষু’ব্ধ প্রীতি বিশ্বাস

এই ঘটনার সবচেয়ে আবেগঘন দিক উঠে এসেছে হিরণ ও অনিন্দিতার মেয়ের বক্তব্যে। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের খবর সে জানতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। মেয়ের কথায়, “মা আমাকে ফোন করে বলল ফোনটা খুলে দেখ। বাবার বিয়ের ছবি চোখের সামনে দেখছি, আর মা পাশে বসে কাঁদছে। কোনো মেয়ে কী বলবে এটা দেখে? আমি জানতাম না আমার বাবা কী করছে। সোশ্যাল মিডিয়া দেখে জানতে পারি।” মেয়ের বক্তব্যে গভীর হতাশা ও ক্ষো’ভ স্পষ্ট। সে বলে, “আমি মনে করি, বাবা ও স্বামী-দুই ভূমিকাতেই তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। যখন অন্য বন্ধুদের বাবাকে দেখি আর ভাবি আমার বাবা এসব করছে?”

২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হওয়াকে চরম দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছেন অনিন্দিতা। তাঁর বক্তব্য, “ভিয়েতনাম বেড়াতে গিয়ে মাথায় সিঁদুর পরেই বিবাহিত জীবন কাটানো যায় না।” তাঁর মতে, দীর্ঘ বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আজ তাঁকে থানায় এসে প্রমাণ করতে হচ্ছে যে তাঁর বিয়ে এখনও বৈধ এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।

অনিন্দিতা আরও অভিযোগ করেন, বয়স সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও ভুল বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, হিরণই তাঁকে জানিয়েছিলেন যে ঋত্বিকার বয়স অনেক বেশি এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েও তাঁকে ব্ল্যা’ক’মে’ই’ল করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “সাহস থাকলে ওর বার্থ সার্টিফিকেট অর্থাৎ জন্ম প্রমাণপত্র দেখাক। আমি সব প্রমাণ থানায় জমা দিয়েছি।”

তৃতীয় ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অনিন্দিতা। তাঁর দাবি, ঋত্বিকা গিরি নিজেই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন, যা আইনত অপরাধ। অনিন্দিতার কথায়, “ও নিজেই ক্রা’ই’ম স্বীকার করেছে। এখন দেখি, হিরণ ওকে বিয়ে করে কি না।”

সাক্ষাৎকারে আরও দাবি করা হয়েছে, ঋত্বিকা নাকি বারবার আ/*ত্ম/*হ/*ত্যা/*র হুমকি দিয়ে হিরণকে মানসিকভাবে চাপ দিতেন। অনিন্দিতার অভিযোগ, “বিয়ের আগেই যে মেয়ে ১৫ বার সু’ই’সা’ই’ড করার কথা বলে, সে কীভাবে সুখী জীবন কাটাবে?” এমনকি কিছু টেক্সট মেসেজের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আ/*ত্ম/*হ/*ত্যা/*র হুমকির কথা লেখা ছিল বলে দাবি।

সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগও তুলেছেন অনিন্দিতা। তাঁর দাবি, হিরণ তাঁদের নামে ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং সেই ফ্ল্যাটের লোনে তাঁর ও মেয়ের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা সহজে বেরিয়ে যেতে না পারেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের তিনজনের নামে ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। ডি’ভো’র্স হয়ে যাওয়া বউয়ের নামে কেউ ফ্ল্যাট কেনে না।”

তিনি আরও বলেন, তাঁদের সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল না। তাঁরা একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণেও গিয়েছেন। ব্যাংকক সফরের কথা উল্লেখ করে অনিন্দিতা জানান, টানা কয়েক মাস হিরণ তাঁদের সঙ্গে ছিলেন এবং মেয়ের জন্মদিনও একসঙ্গে পালন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:Salman Khan:বাগদানে প্রেমিকাকে জড়িয়ে চু’মু – ভাইরাল সলমন ভাগ্নে অয়ন, মালাইকার মন্তব্যে নতুন আলোচনা

সবশেষে অনিন্দিতা স্পষ্ট করে দেন, তিনি আইনি পথেই লড়াই চালাবেন। তাঁর কথায়, “ডি’ভো’র্স না হওয়া পর্যন্ত ও অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারে না। ডি’ভো’র্স হয়ে যাক, তারপর নাচতে নাচতে বিয়ে করুক।” তাঁর আইনজীবী জানান, বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন (Sub-judice), তাই সব তথ্য এখনই প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়।

এই মুহূর্তে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গভীর আলোড়ন ফেলেছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝেই এখন সকলের নজর আইনি প্রক্রিয়ার দিকে শেষ পর্যন্ত আদালত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।

Leave a Comment