Ahona-Dipankar: টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অহনা দত্ত-র জীবনের বিশেষ দিন এবার উঠে এল প্রকাশ্যে। কয়েকদিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ রবিবার মেয়ের মুখে প্রসাদের অনুষ্ঠান হবে। কথামতো সেই দিনেই ঘরোয়া আয়োজনে সম্পন্ন হল ছোট্ট মীরার অন্নপ্রাশন। আর রবিবারই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী। দেখতে দেখতে ছ’মাসে পা দিয়েছে অহনা(Ahona Dutta) ও দীপঙ্কর(Dipankar Ray)-এর কন্যা। একরত্তির জীবনের প্রথম ভাত খাওয়ার মুহূর্ত তাই ঘিরে ছিল আবেগ, আচার আর আলোচনার ঝড়।
ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির ছাদে প্যান্ডেল খাটিয়ে সাজানো হয়েছে পুজোর আসর। হলুদ আর সাদার আভায় সেজে উঠেছিল পরিবেশ। ছোট্ট মীরার পরনে ছিল সাদা-হলুদের মিশেলে একটি ফ্রক, মাথায় মানানসই হেয়ার অ্যাকসেসরিজ। অন্যদিকে মা অহনা বেছে নিয়েছিলেন কমলা পাড়ের অফ-হোয়াইট শাড়ি। বাবা দীপঙ্কর দে-র পরনে ছিল হালকা কমলা পাঞ্জাবি ও সাদা পাজামা। একেবারে ঘরোয়া অথচ নিয়মমাফিক আয়োজন এই ছিল অনুষ্ঠানের মূল সুর।
ভিডিওতে স্পষ্ট, পুজো দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। মেয়েকে কোলে নিয়ে বসেছিলেন অহনা। শাঁখ বাজাতে শোনা যায় তাঁকেই। এরপর বাবা দীপঙ্কর মীরার মুখে প্রসাদ তুলে দেন। সাধারণ নিয়মে অনেক ক্ষেত্রেই শিশুর মুখে প্রথম ভাত তুলে দেন মামারবাড়ির কেউ। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে সেই রীতি মানা হয়নি। কারণ, অহনার সঙ্গে তাঁর মা চাঁদনি গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনও কাটেনি বলেই জানা যাচ্ছে। অভিনেত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ার সময় থেকে শুরু করে মীরার জন্মের পর পর্যন্ত কোনও সময়েই মায়ের উপস্থিতি দেখা যায়নি। ফলে এই বিশেষ দিনেও মাতৃকূলের কাউকে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।
এরপর আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত ধরা পড়ে ভিডিওতে। গায়ে হলুদ মেখে স্নান করানো হয় মীরাকে। তারপর দীপঙ্করের বাবা অর্থাৎ খুদের ঠাকুরদা নাতনিকে কোলে নিয়ে মুখে ভাত দেন। সেই সময় মীরার পরনে ছিল লাল-সাদা পোশাক, মাথায় ভেল। মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করে রাখেন পরিবার-পরিজনেরা। পারিবারিক আবহেই সম্পন্ন হয় সমস্ত নিয়মকানুন।
উল্লেখযোগ্য, শুক্রবারই একটি আলাদা ভিডিও পোস্ট করে অহনা আগাম জানিয়েছিলেন এই আয়োজনের কথা। সেখানে তিনি বাড়ির ছাদে তৈরি প্যান্ডেল দেখান এবং জানান, ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে হবে অন্নপ্রাশন ও পুজো। সবটাই হবে নিরামিষ মেনুতে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ১ মার্চ হবে আরও একটি বড়সড় উদযাপন খাওয়া-দাওয়া সহ বিস্তৃত আয়োজন। অর্থাৎ প্রথম পর্ব ছিল ঘরোয়া, পরের পর্বে থাকছে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে বৃহত্তর অনুষ্ঠান।
ভিডিও বার্তায় অহনাকে বলতে শোনা যায়, “১ মার্চ মাম্মার মুখে প্রসাদের উদযাপন হবে। তবে অন্নপ্রাশন হচ্ছে ২২ তারিখে। সেদিন সকালে পুজো দিয়ে শুরু হবে সবকিছু। নিরামিষ খাওয়াদাওয়া থাকবে। সব নিয়ম মেনেই মুখে প্রসাদ দেওয়া হবে।” কথামতো সেই নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি। তবে মামারবাড়ির অনুপস্থিতি নিয়েই শুরু হয়েছে নেটপাড়ার ফিসফাস।
অভিনয়ের দুনিয়ায় খুব বেশি দিন হয়নি অহনার পথচলা। প্রথমে তিনি নজর কাড়েন জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ডান্স বাংলা ডান্স-এ অংশগ্রহণ করে। সেখান থেকেই অভিনয়ের অফার পান ধারাবাহিক অনুরাগের ছোঁয়া-য়। সেখানে ‘মিশকা’ চরিত্রে খলনায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকের নজরে আসেন তিনি। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলা এই ধারাবাহিক তাঁর ব্যক্তিজীবনেরও নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে।
এই সময়ের মধ্যেই দীপঙ্কর দে-র সঙ্গে সম্পর্ক, প্রেম, বিয়ে সবটাই প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি অহনার মাতৃত্বযাপন এবং মীরার জন্মের খবরও ভাগ করে নিয়েছিলেন অনুরাগীদের সঙ্গে। তাই মীরার অন্নপ্রাশন যেন কেবল পারিবারিক অনুষ্ঠান নয়, ভক্তদের কাছেও এক আবেগের অধ্যায়।
তবে অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই আর এক প্রশ্নও জোরালো হয়েছে মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব কি এখনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে? অহনা নিজে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, ভিডিওতে মাতৃকূলের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি নজর এড়ায়নি কারও। ফলে ছোট্ট মীরার অন্নপ্রাশনের আনন্দঘন মুহূর্তের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনও উঠে এসেছে আলোচনায়।
সব মিলিয়ে, নিয়ম-রীতিতে বাঁধা ঘরোয়া আয়োজন, পরিবারের উপস্থিতি, ঠাকুরদার হাতে প্রথম ভাত এই সবকিছুর মধ্যেই জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখল ছোট্ট মীরা। আর সেই বিশেষ দিনের প্রতিটি মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভাগ করে নিয়ে আবারও খবরের শিরোনামে উঠে এলেন অহনা দত্ত।