Ahona Dutta Mother:“আমার কোন ব্যক্তিগত পোস্টকে কোটেশন দিয়ে রি-পোস্ট করার আগে অবশ্যই সম্পূর্ণ লেখাটা ভালোভাবে পড়ে নেবেন এবং বুঝে তবেই পোস্ট করুন…আমার আর নতুন কিছু হওয়ার নেই…”,রেগে গেলেন অভিনেত্রী অহনা দত্তর মা ওরফে জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী চাঁদনি গাঙ্গুলী। মাকে নিয়ে পোস্ট করার পরেই কেন এমন কথা বললেন তিনি?
সম্প্রতি জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী চাঁদনি গাঙ্গুলী তাঁর মাকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায়। ফেসবুকে তাঁর করা পোষ্টের ক্যাপশনকে কোটেশন বানিয়ে একাধিক ফেসবুক পেজের তরফে বিকৃতভাবে তা তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি করলেন নৃত্যশিল্পী। বেশ চটেছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের কথা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী অহনা দত্তের মা চাঁদনি গাঙ্গুলী।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, মেজাজ না হারিয়ে শান্তভাবে অথচ স্পষ্ট ভাষায় সবাইকে তাঁর ক্যাপশনের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়ে জানান,”আমার আর নতুন কিছু হওয়ার নেই, আমি একজন শিল্পী এবং আমার নাচের মাধ্যমেই আমি মানুষকে প্রভাবিত বা উদ্বুদ্ধ করতে চাই। কিছুদিন আগে আমার মাকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলাম, সেই পোস্টটি নিয়ে কিছু ভুল মন্তব্য, যেটা আমার নাম করে বিভিন্ন একাধিক ছোট বড় পেজের মাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছে। বিভিন্ন পোর্টালগুলো সেগুলো রি-পোস্ট করছে। আমি তাদেরকে একটা কথাই বলতে চাই ধন্যবাদ আমাকে এতটা গুরুত্ব দেওয়ার জন্য। কারণ আমি কোন সেলিব্রেটি নই, খুব সাধারণ একজন মানুষ। কিন্তু তাও যে আপনারা আমার বক্তব্যকে আপনাদের পেজে তুলে ধরছেন তার জন্য অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু আমার কথাগুলোকে কোটেশনে দেওয়ার আগে দয়া করে একবার ভালো করে পড়ে নেবেন। আমি কি বলতে চাইছি, সেটা একটু বোঝার চেষ্টা করবেন। সবকিছুকে কখনোই ওই একই প্রসঙ্গে টেনে নিয়ে এসে সেটাকে একটা খবর বানানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমার মন্তব্য যেটা আদৌ আমি করিনি, এরকম কিছুকে আমার মন্তব্য বলে বড় বড় করে লিখে আবার রি-পোস্ট করা সঙ্গে বিভিন্ন ছবি দিয়ে। আমার তো মনে হয় না এটা কোন দিক থেকে আপনারা ঠিক করছেন। সম্মানের সাথে আপনাদেরকে একটাই কথা বলব আপনারা দয়া করে কিছু রি-পোস্ট করার আগে একটু বোঝার চেষ্টা করবেন আমি কাকে উদ্দেশ্য করে আমার কথাটা বলেছি। একরকমভাবে আমি বলছি, আর আরেক রকমভাবে মানুষের কাছে আপনারা পরিবেশন করছেন এটা তো ঠিক নয়।” এমন ঘটনায় নৃত্যশিল্পী যথেষ্ট পরিমাণে আহত হয়েছেন।
চাঁদনী গাঙ্গুলী সম্প্রতি তাঁর এক ফেসবুক পেজে নিজের কিছু ব্যক্তিগত মন্তব্য শেয়ার করেন। তিনি যে ছবিটি শেয়ার করেছিলেন সেখানে দেখা যাচ্ছে,তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে একটি বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টে বসে রয়েছেন। ছবির ক্যাপশনে লেখা “আমি কি করছি, কোথায় আছি কিছু আনার কথা আর কেউ বলে না, একবার মায়ের ফোনটাও বাজে না।” নৃত্য শিল্পীর এহেন মন্তব্যে গোটা সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয় বিভিন্ন আলোচনা এবং সমালোচনা। অনেকেই তাঁর এই মন্তব্যে তাঁর মেয়ে অর্থাৎ অভিনেত্রী অহনা দত্তকে টেনে এনেছেন। এই বিতর্কের মাঝেই নৃত্যশিল্পী তাঁর ক্যাপশনের যথাযথ ব্যাখ্যা দিলেন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।
তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মা এখন তাঁর সঙ্গে নেই। এই কারণেই মায়ের ফোন এখন আর বাজে না। নৃত্যশিল্পীর ব্যক্তিগত পোস্টের এইরূপ বিকৃতি তাঁর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানিয়েছেন, দিনশেষে আমি অত্যন্ত সাধারণ মানুষ। তাই এই ধরনের জিনিস আমার চোখে পড়লে অস্বস্তি হচ্ছে। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন পেজকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “জীবনটা সিনেমা বা সিরিয়াল নয়, জীবনে অনেক সময় এই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়। আমিও তেমনি আমার জীবনের লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি এমন কিছু বড় মানুষ নই যে আমাকে নিয়েএ আলোচনা হবে।”
জীবন সংগ্রামের পথে নৃত্যশিল্পী তার বেঁচে থাকার রসদ হিসাবে নিজের নাচকেই বেছে নিয়েছেন। মানুষের মধ্যে তিনি তাঁর নাচের মাধ্যমেই অনুপ্রেরণা জায়গাতে চেয়েছেন বরাবর। দুঃখের পরিস্থিতিতে ক্রমাগতজি সিনেমা বা সিরিয়ালের মত “ঘোমটা দিয়ে” কান্নাকাটি করে জীবন চলে না। তাই অবশ্যই নিজের পেশাগত জীবনকেও যথেষ্ট পরিমাণে প্রাধান্য দিতে হয়।
চাঁদনী গাঙ্গুলী জানান, তাঁর বাড়িতে তাঁর তিনটি সন্তান রয়েছে। সেই পোষ্যদের তাঁকে খাবার দিতেই হবে। কোনোদিন দুঃখ বা কষ্টের কারণে নিজে তাঁর খাবার তৈরি না করলেও সেই সন্তানদের জন্য তাঁকে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং প্রতিদিন সময়ে সময়ে খাবার দিতে হবে। তাই সারাদিন ধরে ঘর বন্ধ করে কেঁদে দেওয়ার ফুরসত তাঁর নেই। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন পেজকে উদ্দেশ্য করে জানিয়েছেন, “আপনারা যদি আমাকে এতটাই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, তাহলে আমার কোন ব্যক্তিগত পোস্টকে কোটেশন দিয়ে রি-পোস্ট করার আগে অবশ্যই সম্পূর্ণ লেখাটা ভালোভাবে পড়ে নেবেন এবং আমার বক্তব্য ভালোভাবে বুঝে তবেই পোস্ট করুন।”