Alokananda Guha: টলিউড ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী অলকানন্দা গুহ(Alokananda Guha)। কখনও তাঁর অভিনয় দক্ষতা, আবার কখনও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সব মিলিয়ে প্রায়ই সংবাদ শিরোনামে থাকেন তিনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কিছু ছবি ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র করে নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে রীতিমতো সমালোচনায় বি’দ্ধ করেছেন। কেউ তাঁকে ‘সুযোগসন্ধানী’ বলছেন, কেউ বা ব্যবহার করছেন ‘গিরগিটি’র মতো শব্দ। এই সব বি’ত’র্ক এবং ট্রো’লিং’য়ে’র কড়া জবাব দিতেই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুললেন অভিনেত্রী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি অভিনেত্রীর কিছু ছবি এবং মিউজিক ভিডিও নিয়ে যে চ’র্চা শুরু হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন অলকানন্দা। তিনি জানান, এই ছবিগুলো কোনো লুকানো বিষয় নয়, বরং পেশাদারী তাগিদেই করা। তাঁর ভাষায়, “এই যে ছবি ভাইরাল হয়েছে যেটা আমি নিজেই পোস্ট করেছি এবং সেগুলো আমাকে পোস্ট করতে বলা হয়েছিল প্রোডাকশন হাউস থেকে। ডিরেক্টর আমাকে বলেছিলেন এগুলো পোস্ট করতে এবং সেই জন্যই আমাদের একসাথে মিউজিক ভিডিওতে কাস্ট করা হয়েছে।” অর্থাৎ, যা কিছু ভাইরাল হয়েছে তা আদতে একটি পরিকল্পিত প্রমোশনের অংশ ছিল বলেই তিনি দাবি করেছেন।
ট্রো’লিং’য়ে’র একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল অর্থ এবং খ্যাতি পাওয়ার অভিযোগ। অনেক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন যে, টা’কা’র জন্যই তিনি সবকিছু করতে পারেন। এই অভিযোগের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, “অনেকেই কমেন্ট করছ অলকানন্দা টা’কা’র জন্য কি কি না করে। তো টা’কা’র জন্য অলকানন্দা কিছু করে না। অলকানন্দা কাজ ভালোবাসে, নিজের প্রফেশনটাকে ভালোবাসে বলে অলকানন্দা কাজ করে যায়।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, গ্ল্যামার জগতের বাইরেও একজন শিল্পীর নিজস্ব আদর্শ এবং কাজের প্রতি প্যাশন থাকে, যা সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় অস্পষ্ট থেকে যায়।
পেশাদারিত্বের চূড়ান্ত উদাহরণ দিতে গিয়ে অলকানন্দা ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি'(Karunamoyee Rani Rashmoni) ধারাবাহিকে কাজ করার সময়ের একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। তিনি তখন ওই ধারাবাহিকে ‘আশালতা’র চরিত্রে অভিনয় করতেন। তিনি বলেন, “আমি যখন রানী রাসমণি করছিলাম, সেই সময় আমার বাবা হ’স’পি’টা’লা’ই’জ’ড (hospitalized) হন। বাবার হার্টে স্টেন্ট বসেছিল। তো আমি বাবাকে হ’স’পি’টা’লা’ই’জ’ড করে সেদিন শুটিং গেছি।” সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্টুডিওর কেউ ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি যে অলকানন্দার ব্যক্তিগত জীবনে কী ঝ’ড় বয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, “সেদিন কিন্তু একজন অভিনেতা, অভিনেত্রী, ডিরেক্টর বা টেকনিশিয়ানও টের পায়নি যে অলকানন্দা কি পরিস্থিতিতে অভিনয়টা করছে। মেকআপ রুমেও আমি এমনভাবে ছিলাম যে কেউ বুঝতে পারেনি।”
একজন শিল্পী হিসেবে নিজের কর্তব্যের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, চাইলে সেদিন তিনি ছুটি নিতে পারতেন। আ’র্থি’ক কোনো লোকসানও তাঁর হতো না। কিন্তু নিজের স্বার্থের চেয়ে কাজের স্বার্থকে বড় করে দেখেছিলেন তিনি। তিনি বলেন, “রানী রাসমণির সময় আমি কন্ট্রাক্টে ছিলাম, কোনো পার-ডে বেসিসে ছিলাম না। তাই আমি একদিন অফ নিলে আমার ফিনান্সিয়ালি(financially) কোনো অসুবিধা হতো না। কিন্তু আমি অফটা নিইনি কারণ আমি জানতাম যে আমি অফ নিলে সেদিন হয়ত গল্পটা অনেকটা বেশি হ্যাম্পারড হয়ে যেত।” অলকানন্দার এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, মেগা সিরিয়ালের মতো জায়গায় যেখানে একটি দিনের শুটিং বন্ধ হওয়া মানে কয়েক লাখ টা’কা’র ক্ষ’তি এবং গল্পের ধারাবাহিকতা ন’ষ্ট হওয়া, সেখানে তিনি নিজের বাবার অ’সু’স্থ’তা’কে’ও সরিয়ে রেখেছিলেন দর্শকদের কথা ভেবে।
নেটিজেনদের ‘পাল্টিবাজ’ বা ‘গিরগিটি’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অলকানন্দা তাঁর অভিনয় ক্ষমতার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, পর্দার চরিত্রের সাথে বাস্তব জীবনকে গুলিয়ে ফেলা দর্শকদের এক ধরনের ভুল। তিনি বলেন, “তোমরা ছবি দেখে যে বলছ পাল্টিবাজ, গিরগিটি… এর আগেও আমি অনেক বড় বড় অভিনেতাদের সাথে স্ক্রিন শেয়ার করেছি, ইনটেন্স সিন করেছি। হয়ত বাস্তব জীবনে আমি সামনাসামনি তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াইও না। কিন্তু এটাই আমার ক্রেডিট যে আমি এত সুন্দর করে সেটা স্ক্রিনে ফুটিয়ে তুলেছি যে কেউ বুঝতে পর্যন্ত পারেনি।”
তিনি ভিলেন চরিত্রের উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, মানুষ যখন পর্দার কোনো ভিলেনকে ঘৃণা করতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে সেই অভিনেতা বা অভিনেত্রী সফল। তাঁর ক্ষেত্রেও বিতর্কগুলো তাঁর অভিনয়েরই সার্থকতা বলে তিনি মনে করেন।
অলকানন্দা গুহ এই ভিডিওটির মাধ্যমে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের এক কঠিন বাস্তবকে তুলে ধরেন। ক্যামেরার সামনে হাসিমুখ বা রোমান্টিক দৃশ্যের আড়ালে যে কত ক’ষ্ট এবং আ’ত্ম’ত্যা’গ লুকিয়ে থাকে, তা অভিনেত্রীর এই স্বীকারোক্তিতে স্পষ্ট। ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা খুব পরিষ্কার ব্যক্তিগত আক্রমণ করার আগে একজন শিল্পীর পরিশ্রম এবং দায়বদ্ধতাকে সম্মান করতে শেখা উচিত।
বিতর্ক চিরকালই থাকবে, কিন্তু অলকানন্দার মতো লড়াকু অভিনেত্রীরা প্রমাণ করে দেন যে, লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগতে টিকে থাকতে গেলে শুধু গ্ল্যামার নয়, ইস্পাত কঠিন মানসিকতারও প্রয়োজন হয়।