Ananya-Sukanta:“দান না কি কনটেন্ট প্রোমোশন?”- ভিডিও পোস্ট করে ক’টা’ক্ষে’র মুখে অনন্যা-সুকান্ত, ‘দেখতে না চাইলে দেখবেন না’-সোশ্যাল মিডিয়াতেই দিলেন জোরালো উত্তর

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Ananya-Sukanta:কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী অনন্যা গুহকে (Ananya Guha) দর্শকেরা প্রথম চিনেছিলেন ‘মুন্নি’ (Munni) চরিত্রের মাধ্যমে। ছোটপর্দায় কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেলেও বর্তমানে অভিনয় থেকে খানিকটা সরে এসে তিনি ব্যস্ত ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে অর্থাৎ নিজের বিয়ে। খুব শিগগিরই প্রেমিক সুকান্ত কুণ্ডু(Sukanta Kundu)-র সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন অনন্যা। বছরের একেবারে শুরুতেই জমকালো আয়োজন করে এনগেজমেন্ট সেরেছেন দু’জনে। এখন চলছে বিয়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও কাউন্টডাউন।

বড়দিনের উৎসবের আবহে, বছরের শেষ সময়ে সমাজের প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অনন্যা ও সুকান্ত। শহরের এক হতদরিদ্র বৃদ্ধার কাছে পৌঁছে গিয়ে তাঁরা হয়ে ওঠেন তাঁর জীবনের সান্টা। অনন্যার হাতে থাকা আসমানি নীল রঙের একটি তাঁতের শাড়ি গিয়ে পৌঁছায় ওই বৃদ্ধার হাতে। নতুন শাড়ি পেয়ে উচ্ছ্বাস যেন ধরে রাখা দায়, হাসিমুখে আশীর্বাদ আর স্নেহে ভরিয়ে দেন তিনি হবু দম্পতিকে। আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাকে এত ভা’লো’বা’সা কেউ দেবে না! তোমাদের খুব ভালো হবে।” পাশে দাঁড়িয়ে সুকান্তও জানান, “শাড়িটা পরো কিন্তু” এবং সম্মতিসূচক হাসিতে সাড়া দেন বৃদ্ধা।

এই মুহূর্তটিকে স্মৃতির ফ্রেমে ধরে রাখতে সুকান্ত সেই ভিডিওটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। মন্তব্য বাক্সে বেশিরভাগ নেটিজেনই তাঁদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। কেউ লিখেছেন, ভিডিওটি দেখে চোখে জল এসে গেল, কেউ আবার জানিয়েছেন এটা শুধু একটা শাড়ি নয়, খাঁটি আনন্দের মুহূর্ত। অনেকেই তাঁদের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:Lawho Gouranger Naam Rey:ছবির সেটে অভিনয় নয়, সাধনা: ‘লহ গৌরঙ্গের নাম রে’ ঘিরে টিমের অলৌকিক অভিজ্ঞতা! কী জানালেন ছবির কলাকুশলীরা?

তবে প্রশংসার মাঝেই দেখা যায় স’মা’লো’চ’না’র সুরও। নি’ন্দু’ক’দে’র একাংশের অভিযোগ দান করেও নাকি ‘দেখনদারি’। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “দানও ভিডিও করে দেখাতে হবে! এটাও এখন কনটেন্ট। দান ভালো কাজ, করতে হয় কিন্তু বিদ্যাসাগর, স্বামিজী, রতন টাটার মতো মানুষদের দান শেখাতে কখনও ভিডিও বানাতে হয়নি। সবকিছুকে কনটেন্ট বানাবার দরকার নেই, কিছু জিনিসের সীমা থাকা ভালো।”

এই মন্তব্যের পর আর নীরব থাকেননি সুকান্ত। ভদ্র কিন্তু দৃঢ় ভাষায় তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। পাল্টা জবাবে লেখেন, “আমার ভালো লেগেছে, তাই এই স্মৃতিটা নিজের কাছে রাখতে চেয়েছি সেই কারণেই পোস্ট করেছি। আপনার ভালো না লাগলে দেখা বাধ্যতামূলক নয়। শুধু আপনার পছন্দ নয় বলে যে আমি পোস্ট করতে পারব না এটা ঠিক নয়।”

আরও পড়ুন:Saheb-Susmita:হাতে হাত রেখে পার্টিতে সাহেব- সুস্মিতা! মিলল পোশাকের রংও, অনুরাগীদের দাবি ‘যেন নজর না লাগে!…’ বিয়ের গুঞ্জন হতে চলেছে সত্যি?

সুকান্তর এ মন্তব্যে সমর্থনও জানান অনেকে। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত ভালোলাগার মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়াই সোশ্যাল মিডিয়ার স্বাভাবিক ব্যবহার আর তা থেকে ইতিবাচক অনুপ্রেরণাও পেতে পারেন বহু মানুষ।

প্রসঙ্গত, অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডুর প্রেম শুরু অল্প বয়সেই ১৮ পেরোনোর আগেই একে অপরের জীবনে জড়িয়ে যান তাঁরা। বয়স কুড়ি ছুঁতেই এনগেজমেন্ট সেরে ফেলেছেন। নতুন বছরের শুরুতেই বাঁধতে চলেছেন আজীবনের বন্ধনে। সম্পর্কের পথচলায় তাঁদের নানা সময় ট্রো’ল ও স’মা’লো’চ’না’র মুখেও পড়তে হয়েছে কখনও সুকান্তর ফ্ল্যাটে অনন্যার যাওয়া নিয়ে, আবার কখনও অনন্যার বাড়িতে সুকান্তর ‘জামাই আদর’ পাওয়া নিয়ে। তবে সেই ক’টা’ক্ষে’র মুখেও তাঁরা বরাবরের মতোই একসঙ্গে থেকেছেন, নিজেদের মতো করেই জবাব দিয়েছেন।

অনন্যা আপাতত অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও তাঁর জনপ্রিয়তা কিন্তু অটুট। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় উপস্থিতি, জীবনযাপনের ছোট বড় মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া এভাবেই তিনি যুক্ত থাকেন দর্শক ও অনুসারীদের সঙ্গে। অন্যদিকে সুকান্তও সমানভাবে প্রকাশ্য জীবন ও ব্যক্তিগত আবেগের মুহূর্তের মধ্যে সমতা রাখার চেষ্টা করেন।

বড়দিনের সেই শাড়ি উপহার দেওয়া মুহূর্ত তাই শুধু দান বা ভিডিও নয় বরং আসন্ন জীবনের নতুন যাত্রার আগে দুটি মানুষের ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এক উষ্ণ স্মৃতি। আর সেই স্মৃতিকে তাঁরা যেভাবে লালন করতে চান তার অধিকারও নিঃসন্দেহে তাঁদেরই।

Leave a Comment