Ananya-Sukanta: টলিপাড়ায় ফের বিয়ের মরশুম। ২০২৬ সাল শুরু হতেই একের পর এক তারকার বিয়ের খবরে মুখর ইন্ডাস্ট্রি। বছরের শুরুতেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন মধুমিতা সরকার(Madhumita Sarcar)। আর এবার সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন ডিজিটাল দুনিয়ার চর্চিত মুখ অনন্যা গুহ। ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সুকান্ত কুণ্ডু(Sukanta Kundu)-র সঙ্গে বাগদান সারেন অভিনেত্রী। সেই সময় থেকেই জল্পনা ছিল কবে সামাজিক বিয়ে? অবশেষে সামনে এসেছে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ। আগামী ৯ মার্চ গাঁটছড়া বাঁধবেন এই জনপ্রিয় জুটি।
নদীয়ার কল্যাণীর মেয়ে অনন্যা(Ananya Guha)। অন্যদিকে সুকান্তর আদি বাড়ি মালদায়। দুই পরিবারের ঐতিহ্য মেনেই নিজেদের আদি বাড়িতেই বিয়ে ও রিসেপশনের আয়োজন করছেন তাঁরা। তবে বিয়ের পর নতুন জীবন শুরু হবে শহরের ফ্ল্যাটে, যেখানে সুকান্তর বসবাস। পারিবারিক আবহেই বিয়ের সমস্ত আয়োজন সারতে চাইছেন জুটি।
বিয়ের সাজ নিয়েও স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে অনন্যার। তাঁর কথায়, একেবারে সাবেকি বাঙালি লুকেই ধরা দেবেন তিনি। লাল বেনারসি, সোনার গয়না সব মিলিয়ে চিরাচরিত বাঙালি কনের সাজ। সুকান্তও পরবেন ধুতি-পাঞ্জাবি। বিয়ের কেনাকাটা প্রায় সম্পূর্ণ। কেবল টেলরের ফাইনাল ফিটিংস বাকি। এখন প্যাকিং ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিই প্রধান কাজ। শ্যুটিংয়ের ফাঁকেই চলছে এই ব্যস্ততা।
মেনু নিয়েও রয়েছে বিশেষ ভাবনা। অনন্যা জানালেন, অতিথিদের জন্য থাকবে একেবারে বাঙালি আয়োজন পোলাও, মাংস, ফিশ ফ্রাই, চাটনি, পাপড় সহ একাধিক পদ। তিনি নিজে বুফেতে দাঁড়িয়ে খেতে স্বচ্ছন্দ নন। তাই সবার জন্য বসে খাওয়ার ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে, যাতে অতিথিরা নিশ্চিন্তে ও আরামে ভোজ উপভোগ করতে পারেন। বিয়ের আমেজে ঐতিহ্যের ছোঁয়াই থাকছে প্রাধান্য।
এই মুহূর্তে কাজের চাপে বেশ ব্যস্ত অনন্যা। ছোটপর্দার দুই ধারাবাহিক ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’ এবং ‘সোহাগে আদরে’-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। টেলিভিশনে সাধারণত বেশি এপিসোড ব্যাঙ্কিং করা থাকে না। ফলে বিয়ের জন্য মাত্র ১০ দিনের ছুটি মঞ্জুর হয়েছে। আপাতত সেই সময়ের মধ্যেই সব আয়োজন সারতে হবে।
মধুচন্দ্রিমা নিয়ে অবশ্য এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অনন্যার কথায়, বিয়ের ছুটি মিললেও হানিমুনের জন্য আলাদা ছুটি এখনও মেলেনি। ফলে আপাতত পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে সব কিছু। সময় ও কাজের সূচি মিলিয়ে পরে ঠিক করবেন তাঁরা।
বিয়ের আগে নিজের ত্বকের বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন হবু কনে। এমনিতেই স্কিনকেয়ারে আগ্রহী অনন্যা, তবে এখন আরও নিয়ম মেনে পরিচর্যা চলছে। শ্যুটিং, ভ্লগিং এবং বিয়ের প্রস্তুতি— তিন দিক সামলাতে গিয়ে বেশ হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। এত ব্যস্ততার মাঝেই এখনও হবু বরের জন্য বিশেষ উপহার কেনা হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হবে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই দু’জনের আশীর্বাদের অনুষ্ঠান হয়েছিল সুকান্তর ফ্ল্যাটে। সেদিন সাবেকি সাজে ধরা দিয়েছিলেন জুটি। বিকেলে বাইপাস সংলগ্ন এক ভেন্যুতে হয় আংটি বদল। সেই অনুষ্ঠানে পোশাকে ছিল পাশ্চাত্যের ছোঁয়া। অনুষ্ঠানের একটি লিপলক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেই শুরু হয় ব্যাপক চর্চা। সমালোচনা ও কৌতূহল দুই-ই ছিল তুঙ্গে।
ডিজিটাল মাধ্যমে দু’জনেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনুগামীর সংখ্যা বিপুল। সম্পর্কের জল্পনা বহুদিন ধরেই ঘুরছিল নেটদুনিয়ায়। একসঙ্গে ছবি, ভিডিও, পোস্ট সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছিল, কেবল বন্ধুত্ব নাকি আরও কিছু? অবশেষে এক ব্লগে নিজেদের সম্পর্কের কথা খোলসা করেন তাঁরা। জানান, ‘জাস্ট ফ্রেন্ডস’-এর সীমা পেরিয়ে গেছে তাঁদের সমীকরণ।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, সুকান্ত সরাসরি অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত না হলেও বিনোদন জগতের সঙ্গেই তাঁর কাজের পরিসর। আগে পেশায় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ছিলেন তিনি। বর্তমানে ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছেন।
আরও পড়ুন:।Susmita-Kaushik:অসমবয়সি প্রেম না রহস্যের ফাঁদ? কৌশিক সেন–সুস্মিতা দে জুটি ঘিরে জোর জল্পনা!
সব মিলিয়ে বাঙালিয়ানা, পারিবারিক আবহ, ডিজিটাল জনপ্রিয়তা আর ব্যক্তিগত খোলামেলা মুহূর্ত, এই চার উপাদানেই তৈরি হচ্ছে অনন্যা-সুকান্তর বিয়ের কাহিনি। ৯ মার্চের অপেক্ষায় এখন অনুগামীরা। বিয়ের মেনু থেকে সাজ, হানিমুনের পরিকল্পনা সবকিছু নিয়েই কৌতূহল তুঙ্গে। টলিপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রে এখন এই জুটিই।