Anjan Dutt:অভিনেতা-পরিচালক অঞ্জন দত্ত সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের নতুন ছবি ‘দেরি হয়ে গেছে’–র প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় খুলে বললেন। সম্পর্ক, ভুল বোঝাবুঝি, দায়িত্ববোধ, পেশার চ্যালেঞ্জ থেকে শুরু করে তাঁর স্ত্রী ছন্দনার প্রতি কৃতজ্ঞতা সব মিলিয়ে সাক্ষাৎকারটি হয়ে উঠেছে বিশেষ মনকাড়া।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই উঠে আসে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও অহংকারের প্রসঙ্গ। উপস্থাপিকা যখন বলেন যে, অনেক সময়ে মন চাইলেও আমরা ‘সরি’ বলতে পারি না’, তখন সেই প্রসঙ্গে অঞ্জন দত্ত সোজাসাপটা জানিয়ে দেন—
“তিনি ঝ’গ’ড়া ধরে রাখতে পারেন না।কারও সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হলে তিনি নিজেই ফোন করেন, দেখা করেন বা সরি বলে মিটমাট করে নেন। তবে একটি ব্যতিক্রমও উল্লেখ করেন, কেউ অনৈতিক কিছু করলে তিনি সম্পর্ক ছি’ন্ন করেন। চু’রি, মি’থ্যে, ক্ষ’তি করা এই ধরনের আচরণ তাঁকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়।”
সম্প্রতি তাঁর ছবি ‘দেরি হয়ে গেছে’–র ট্রেলারে স’ম্প’র্কে’র ভা’ঙ’ন, ভুল, ই’গো ও ক্ষ’মা চাওয়ার মুহূর্তগুলি দর্শকদের নজর কাড়ছে। ছবিতে বাস্তবতার চাপ স্পষ্ট।
অঞ্জন দত্ত জানান, “বয়স্ক মানুষের ভালোবাসা, দ্ব’ন্দ্ব এবং ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া আকর্ষণ—এই সবকিছুই গল্পটিকে বাস্তব করে তোলে।”
ছবির শুটিংয়ের নানা কঠিন মুহূর্তের কথাও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে—
প্রবল বৃষ্টিতে ট্রেন লাইনের উপর দৌড়ানো, পড়ে গিয়ে আ’ঘা’ত পাওয়া,
বাইকে ঢোকার সময় মাথায় ধা’ক্কা খাওয়া। এমনই কিছু পরিস্থিতির কথা জানান তিনি।
তিনি জানান, “ছোট বাজেটের ছবিতে কখনও মেকআপ ভ্যান থাকে না। অনেক সময় হোমস্টের ছোট ঘরেই প্রস্তুতি নিতে হয়। মমতা শঙ্করের মতো প্রবীণ অভিনেত্রীর সঙ্গেও এমন পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়েছে, তবে কোনও অভিযোগ নেই—বরং এটিই তাঁদের সিনেমা তৈরির বাস্তবতা।”
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে কথোপকথন ঘুরে যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে। এখানেই অঞ্জন দত্ত এক বিরল খোলামেলা স্বীকারোক্তি করেন।
“I lived on her, আমি যখন সংসার চালাতে পারিনি আমার স্ত্রী সংসার চালিয়েছিল”, স্ত্রীর অবদান অকপটে স্বীকার করেন তিনি। বহু বছর আগে সংসার চালাতে না পারায় তিনি পুরোপুরি স্ত্রী ছন্দার উ’পা’র্জ’নে’র ওপর নির্ভর করেছিলেন। পরিবার-পরিজন, সমাজ—অনেকেই তাঁকে ক’টা’ক্ষ করেছিল।
অনেকে, অনেক কথা বলেছিলেন।
“স্ত্রীর টা’কা’য় সংসার চলে, ল’জ্জা করে না?” কিন্তু মৃণাল সেন, অপর্ণা সেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত এই তিনজন তাঁর পাশে ছিলেন এবং পরে তিনি কাজের মাধ্যমে সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন তাঁদেরকে।
অঞ্জন দত্ত জানান, জীবনে যখন তিনি নিজে সক্ষম হন, তখন তিনি সঞ্চয় নয়, স্ত্রীকে পৃথিবী দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, “চলো, টার্কি যাই, ভেনিস যাই, রোম দেখি, সিস্টিন চ্যাপেল দেখি…”।
স্ত্রীকে তিনবার, চারবার দার্জিলিং নিয়ে গেছেন, এমনকি এক মাস বার্মাতেও থেকেছেন দু’জনে।
স্ত্রী যখন চাকরি থেকে অবসর নেন, তখন অঞ্জন দত্ত স্ত্রীকে পরামর্শ দেন,
“You start your own kitchen.”
অর্থাৎ, বসে থাকার জীবন নয়, নতুন কাজ, নতুন উদ্যম।
সাক্ষাৎকারের তিনি হেসে হেসে এটাও বলেন ছন্দা নাকি এখনও বলেন –
“অঞ্জন ইন্টারভিউ দিচ্ছে? ভালো… আমারটাও নিক, সবাই জানুক উনি কতটা দায়িত্বহীন!”
স্ত্রী ছন্দার অবদান, ত্যাগ, সমর্থন এবং ভালোবাসা—যা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি এটা তাঁর কথাতে উঠে আসে।
সাক্ষাৎকারে অঞ্জন দত্ত শুধু তাঁর নতুন ছবির গল্পই বলেননি। বলেছেন নিজের জীবনের সেই সত্যিকারের ল’ড়া’ই, সম্পর্কের মূল্য, স্ত্রী ছন্দার অবদান এবং সমাজের চাপিয়ে দেওয়া ধারণার বি’রু’দ্ধে নিজের সৎ অবস্থান। একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও ব্যক্তিত্বের গভীরতা দুটোই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই কথোপকথনে।