Ankita Bhattacharya: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া তিক্ত শিক্ষা নিয়েই এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অঙ্কিতা ভট্টাচার্য(Ankita Bhattacharya)। খুব অল্প বয়সেই সঙ্গীত জগতে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করা এই তরুণ শিল্পী সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মানুষের ভোল বদলানো স্বভাব, সম্পর্কের জটিলতা এবং নিজের জীবনদর্শন নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য জীবনে ভণ্ড বা রং বদলানো মানুষদের যত দ্রুত দূরে সরানো যায়, ততই মঙ্গল।
অঙ্কিতার কথায় উঠে এসেছে অভিজ্ঞতার নির্যাস। তিনি জানান, সাফল্যের পথে হাঁটতে গিয়ে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছে। কেউ ছিলেন আন্তরিক, কেউ বা কেবল পরিস্থিতি বুঝে মুখোশ পরেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর উপলব্ধি সব হাসিমুখ বিশ্বাসযোগ্য নয়। মানুষকে চিনতে সময় লাগে, আর কখনও কখনও সেই চিনতে দেরিও হয়ে যায়। তবে এখন তিনি শিখেছেন, যাঁরা বারবার নিজের অবস্থান বদলান বা সুবিধামতো রং পরিবর্তন করেন, তাঁদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জীবনে প্রচুর মানুষ এসেছে। কিন্তু গিরগিটির মতো রং বদলানো মানুষদের যত তাড়াতাড়ি জীবন থেকে সরানো যায়, ততই ভালো। আশেপাশে যদি এমন কেউ থাকেন, তাহলে তাঁকে ছেড়ে যাওয়াই উচিত।” এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও পেশাদার সমীকরণ যে সবসময় সরলরেখায় চলে না, তা তাঁর বক্তব্যেই পরিষ্কার।
অঙ্কিতার ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তাঁর সরলতা। তিনি নিজেকে ‘স্ট্রেট ফরওয়ার্ড’ বলেই চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, ঘুরিয়ে-প্যাঁচিয়ে কথা বলা বা অস্পষ্ট আচরণ সম্পর্ককে জটিল করে তোলে। “আমি সোজা কথা বলতে ভালোবাসি, আর সোজা কথা শুনতেও ভালোবাসি। খুব বেশি ঘোরানো-প্যাঁচানো মানুষ আমার ভালো লাগে না,” এমনটাই জানান তিনি। এই স্পষ্টভাষী মনোভাবই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা মানুষ চেনার অভিজ্ঞতার বাইরে, তাঁর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু যে সঙ্গীত তা বারবার উঠে এসেছে কথোপকথনে। জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা’-র চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকেই অঙ্কিতার পথচলা আরও বিস্তৃত হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি গভীর অনুরাগ তাঁকে আজকের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, গান শেখার জন্য যে কোনো দূরত্ব অতিক্রম করতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন এবং এখনও আছেন।
সঙ্গীতের ক্ষেত্রেও তাঁর লক্ষ্য একটাই নিজেকে প্রতিনিয়ত আরও উন্নত করা। নতুন গান শেখা, ভিন্ন ধারার সুরে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া এবং শ্রোতাদের সামনে নিজের সেরাটা তুলে ধরা এটাই তাঁর সাধনা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক, আবার চলচ্চিত্রের গান সব ক্ষেত্রেই সমান স্বচ্ছন্দ তিনি। বহুমাত্রিক গায়কীই তাঁর শক্তি।
অল্প বয়সেই জনপ্রিয়তার স্বাদ পেলেও, সাফল্য তাঁকে বাস্তববোধ থেকে সরিয়ে দেয়নি। বরং জীবন তাঁকে শিখিয়েছে কাকে বিশ্বাস করতে হয় আর কাকে নয়। অনেক সময় মানুষকে চিনতে ভুল হয়েছে, কখনও বা সত্যিটা বুঝতে দেরি হয়েছে তবুও সেই ভুল থেকেই শিক্ষা নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায় স্পষ্ট, এখন আর আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন না, বরং অভিজ্ঞতার আলোতেই বিচার করেন।
ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গেলে প্রতিযোগিতা, ঈর্ষা, সম্পর্কের ওঠাপড়া সবই থাকে। কিন্তু অঙ্কিতা মনে করেন, নিজেকে সৎ রাখা সবচেয়ে জরুরি। তিনি বিশ্বাস করেন, যাঁরা নিজের স্বভাব ও অবস্থান বারবার বদলান, তাঁরা দীর্ঘমেয়াদে কারও উপকার করেন না। তাই এমন মানুষদের থেকে দূরে থাকাই মানসিক শান্তির চাবিকাঠি।
অঙ্কিতার এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে ভক্তমহলে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন নয়, বরং বর্তমান সময়ের সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া ও পাবলিক ইমেজের যুগে মানুষ প্রায়শই নিজের আসল সত্তাকে আড়াল করে রাখে। সেই প্রেক্ষাপটেই হয়তো তাঁর এই খোলামেলা বার্তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে সব বিতর্ক বা আলোচনা ছাপিয়ে অঙ্কিতার প্রথম পরিচয় একজন শিল্পী হিসেবেই। তাঁর কাছে সঙ্গীতই সবচেয়ে বড় শক্তি এবং আশ্রয়। জীবনের ওঠাপড়া, সম্পর্কের ভাঙাগড়া সবকিছুর মাঝেও গানই তাঁকে স্থির রাখে। ভবিষ্যতেও তিনি নতুন নতুন কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে চান।
প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম এবং স্পষ্টভাষী মানসিকতার মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে তাঁর স্বতন্ত্র পরিচয়। ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা আর সঙ্গীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা এই দুইকে সঙ্গী করেই নিজের পথ তৈরি করছেন অঙ্কিতা ভট্টাচার্য।
এক কথায়, অঙ্কিতার বার্তা পরিষ্কার জীবনে সত্যিকারের মানুষদের জায়গা দিন, আর যারা বারবার রং বদলায়, তাঁদের থেকে দূরে থাকুন। কারণ সাফল্যের চেয়ে বড় হল মানসিক শান্তি, আর সেই শান্তির জন্য প্রয়োজন সৎ ও স্বচ্ছ সম্পর্ক।