Ankush-Oindrila:আসন্ন ছবি “নারী চরিত্র বেজায় জ’টি’ল”(Nari Choritra Bejay Jatil)–এর প্রচারে অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা (Ankush Hazra)ও অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন ( Oindrila Sen) মুখোমুখি হন সংবাদমাধ্যমের। একদিকে ঐন্দ্রিলা ছবির হাস্যরস, বিনোদন ও পারিবারিক আবহের কথা তুলে ধরেন, অন্যদিকে অঙ্কুশ খোলামেলায় বলেন বাংলা সিনেমার বর্তমান চ্যা’লে’ঞ্জ, প্রেক্ষাগৃহের বাস্তবতা এবং শিল্পী–নির্মাতাদের মধ্যে একতার জরুরি, প্রয়োজনীয়তার কথা। ছবির মুক্তি, বাজার পরিস্থিতি, প্রতিযোগিতা এড়িয়ে রিলিজ–তারিখ বদলানো থেকে শুরু করে অফ–সিজনে ছবি মুক্তির ঝুঁ’কি নেওয়া সব বিষয় নিয়েই অ’ক’প’ট মত প্রকাশ করেন এই জুটি।
“নারী চরিত্র বেজায় জ’টি’ল”(Nari Choritra Bejay Jatil) ছবিটি যে প্রথমত একটি কমেডি–ড্রামা, তা স্পষ্ট ভাষায় জানান ঐন্দ্রিলা সেন। তাঁর কথায় – “এটা পুরোটাই হাসির ছবি, এবং তার মধ্যে ই’মো’শ’না’ল কিছু ড্রামা তো অবশ্যই আছে। আমরা বাঙালি মানেই আবেগপ্রবণ, তাই সেটাও থাকতেই হবে।”
ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ভীষণ আশাবাদী। সোজাসাপটা ভাষায় বলেন – “সত্যি বলছি, আমরা ছবিটা নিয়ে ভীষণভাবে আশাবাদী।” তিনি দর্শকদের হলে গিয়ে ছবি দেখার অনুরোধ জানিয়ে জানান – “৯ই জানুয়ারি থেকে ছবিটা সবাই দেখুক, হাউসফুল হোক। আর ২৩শে জানুয়ারি সরস্বতী পুজো—যারা প্ল্যান করে রেখেছ প্রেমিক–প্রেমিকারা আলাদা আলাদা যাবে, তো তারা অবশ্যই দেখতে যেও।”
ছবির প্রমোশন প্রসঙ্গে তাঁর হালকা রসিকতাও নজর কাড়ে। সাজগোজ নিয়ে প্রশংসার প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বলেন -“এই সাজের আর কী কমপ্লিমেন্ট দেবে? আর তাছাড়া আমরা মেয়েরা আজকে এখানে কমপ্লিমেন্ট নিতে আসিনি।”
ছবির নামের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে যোগ করেন – “আমাদের নামে যখন ছবি বানিয়েছ – ‘নারী চরিত্র বেজায় জ’টি’ল’, তখন জ’টি’ল’তা’টা আমাদের একটু দেখানো উচিত। তাই আজ আমরা সবাই মিলে ঠিক করেছি, আজকে একটু জ’টি’ল’তা দেখাব। সাথে আমাদের লেডি বাউন্সাররাও আছে।”
ঐন্দ্রিলার বক্তব্যে বোঝা যায় – ছবিটি হালকা মেজাজের হলেও, তার ভেতরে রয়েছে আবেগ, স’ম্প’র্ক ও পারিবারিক নাটকের উপাদান।
ঐন্দ্রিলার অ’ভি’যো’গ–রসিকতার উত্তরে অঙ্কুশ হাজরাও রাখেন তার স্বভাবসিদ্ধ মজাদার প্রতিক্রিয়া। হাসতে হাসতেই বলেন- “আমার তো অনস্ক্রিন বলে কিছু নেই, আমার তো অফস্ক্রিন এই অবস্থা।” ঐন্দ্রিলার সামনে তিনি রীতিমতো ‘দমে’ থাকেন, এমনটাও স্বীকার করে নেন মজার ছলে।
তিনি আরও বলেন – “ওঁকে কেমন লাগছে এটা আমি বলি না, কারণ আমি ‘থ’ হয়ে যাই। ওঁ যখন জিজ্ঞেস করে, আমি ওঁর দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যাই কিছু বলতে পারি না।”
এরপর হাসিতে ভরিয়ে দেন পরিবেশ – “ওঁ ভাবে আমি প্রশংসা করছি না, এটা ওঁর ভুল বোঝাবুঝি। ওঁ নিজে জ’টি’ল বলেই আমার এই সরল মনটা বুঝতে পারে না।”
তবে শেষ পর্যন্ত একই সুরে তিনি দর্শকদের উদ্দ্যেশ্যে আবেদন জানান – “তোমরা এমনভাবে ছড়িয়ে দাও এই ট্রেলারটা, যেন মানুষ এই ছবিটা নিয়ে আরও বেশি করে জানতে পারে।”
প্রমোশনের আড্ডা যখন শিল্পের প্রসঙ্গে ঘোরে, তখন অঙ্কুশ হাজরা হয়ে ওঠেন আরও বেশি সিরিয়াস।তিনি বলেন -“এখনও অবধি বিশ্বাস করো, আমাদের হলের অবস্থা যা… কমতে কমতে যে জায়গায় দাঁড়িয়েছে একটা বেসিক হেলদি রেভিনিউ করাটা আমাদের কাছে খুব চ্যালেঞ্জ।” তাঁর মতে, একটি ছবির বাজ (buzz) ও দর্শক চাহিদা থাকলে সেটিকে প্রেক্ষাগৃহে সঠিক গুরুত্ব দেওয়া জরুরি – “যে ছবির বাজ (buzz) আছে, বোঝা যাচ্ছে মানুষ দেখতে চায়—তখন যেন সঠিকভাবে সেই ছবিটা মর্যাদা পায়।”
আরও পড়ুন:Hrithik Roshan:রোশন পরিবারে বিয়ের আসরে ‘ভবিষ্যৎ বউ’ সাবা? ১৭ বছরের ছোট প্রেমিকার হাত ধরে হাজির হৃতিক
তিনি বিশ্বাস করেন – “সেই ছবিটাকে যদি সেই জায়গা দেওয়া হয়, আমার মনে হয় ডাবল ডিজিট বক্স অফিস করা একটা বাংলা ছবির ক্ষেত্রে খুব অসুবিধা নয়।” অঙ্কুশ স্পষ্ট ভাষায় বলেন – “আমি বলছি না যে কোনো ভালো হিন্দি ছবির থেকে not so good বাংলা ছবিকেও চালাতে হবে।” অর্থাৎ – মানের সঙ্গে আ’প’স নয়, কেবল ভাষা বা আবেগের দোহাই দিয়ে নি’ম্ন’মা’নে’র ছবি চালানোও সমাধান নয় এ কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি।
মূলত ছবিটি সরস্বতী পুজোর সময় মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অন্য বড় ছবির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতায় না গিয়ে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত বদলান। অঙ্কুশের ভাষায় “আমার আ’ফ’সো’স’টা কোনো ব্যক্তির ওপর নেই… আমার প’রি’স্থি’তি’র ওপর একটু রা’গ, প’রি’স্থি’তি’র ওপর একটু অ’ভি’মা’ন।”
তিনি আরও জানান – “যেহেতু আমি সবথেকে আগে, সিনেমাটা অ্যানাউন্স করেছিলাম সরস্বতী পুজোর সময়, সেখানে আমি আর ওই ত’র্কা–ত’র্কি’র মধ্যে না গিয়ে ৯ই জানুয়ারি করে নিয়েছি।”
এখানেই তিনি সিনিয়র প্রযোজকদের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেন – “যারা ২৩শে জানুয়ারি শিফট হয়েছে, তারা প্রযোজক হিসেবে আমার থেকে অনেক বেশি সিনিয়র। এমন মানুষ আছেন যাদের জন্য আজ আমি অঙ্কুশ হতে পেরেছি।”
তাই ল’ড়া’ই নয়, সম্মানের পথ বেছে নেওয়ার কথা স্পষ্ট করে বলেন – “তাদের ছবির সাথেই ল’ড়ে, হল নিয়ে মা’রা’মা’রি’র মধ্যে আমি যেতে চাইনি।”
উৎসবকেন্দ্রিক রিলিজের চ’র্চা ভা’ঙ’তে চেষ্টা করছেন অঙ্কুশ। তাঁর ভাষায় – “এই যে ই’ন’সি’কি’উ’রি’টি যদি নন–পি’রি’য়’ডে রিলিজ হয় তাহলে কি কোনো বাংলা ছবি আদৌ চলবে? এটা আমি এই ছবিটা দিয়ে একটু কাটানোর চেষ্টা করেছি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন – “ছবিটা যদি ভা’লো চলে, তবে আমার নিজের ভ’য়’টাও কা’ট’বে—যে সবসময় পি’রি’য়’ডে’র জন্যই ল’ড়’ব না।”
টলিউডের অভ্যন্তরীণ বি’ভা’জ’ন ও রে’ষা’রে’ষি নিয়েও দৃ’ঢ় বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর মতে “যদি আমরা নিজেদের মধ্যে মা’রা’মা’রি–খে’য়ো’খে’য়ি না করে সঠিক সিনেমাকে সঠিকভাবে জায়গা দিয়ে ঠিকঠাক রিলিজ করি… তাহলে রেভিনিউ–র সবচেয়ে বড় স’ম’স্যা’টা অনেকটাই ঠিক হবে।” তিনি যোগ করেন – “হয়ত ৩০ – ৪০ বা ৫০ কোটি ছুঁতে কয়েক বছর সময় লাগবে কিন্তু অন্ততপক্ষে বেসিক ইউনিটি থাকলে পরিস্থিতি অনেকটা বদলাবে।”
আরও পড়ুন:Alivia Sarkar:জীবনের চ’র’ম সত্যের কথা জানালেন অলিভিয়া সরকার
এই সাক্ষাৎকারে দু’জন শিল্পীর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে – একদিকে ঐন্দ্রিলার বিনোদন ও আশাবাদী প্রচারভঙ্গি এবং অন্যদিকে অঙ্কুশের শিল্পবোধ, অ’র্থ’নৈ’তি’ক কাঠামো ও বাজার–বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা। ছবির ব্য’স্ত প্রমোশনের মাঝেও অঙ্কুশ হাজরা যে–কথাগুলো বলেছেন – সেগুলো কেবল একটি সিনেমাকে ঘিরে নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ, বাজার কাঠামো, রিলিজ–নীতির দৃষ্টিভঙ্গি এবং সবচেয়ে বড় কথা একতার প্রয়োজনীয়তার কথা। আর ঐন্দ্রিলা সেন মনে করিয়ে দিয়েছেন বাংলা ছবির শ’ক্তি শুধু বাজারে নয়, হাসি–আবেগ–স’ম্প’র্কে’র ভেতরেও তার আলাদা অবস্থান রয়েছে।