Second Largest Shivling:এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই। বিশ্বাস হচ্ছে না। তাহলে ঘুরে আসতে পারেন নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাসে। সেখানেই রয়েছে, এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ। নদীয়া জেলার মাজদিয়া থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় শিবলিঙ্গ বলেই শিবনিবাসকে চেনেন সকলে। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাতে প্রতিষ্ঠিত শিবনিবাসের এই শিবলিঙ্গ কেবল উচ্চতায় দ্বিতীয় বৃহত্তম নয়, এর ঐতিহাসিক গুরুত্বও যথেষ্ট রয়েছে।
কথিত আছে, এই শিবলিঙ্গে পুজো দিয়ে প্রার্থনা করলে যেমন শত্রু বিনাশ হয়, তেমনি সুখ সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে পরিবার। স্থানীয়দের মতে, একেবারে দুহাত দিয়ে তাদের রক্ষা করে চলেছেন বাবা। তাই শ্রাবণ মাস পড়তেই, বিশেষত শ্রাবণ মাসের সোমবারে পুণ্যার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে এই শিব মন্দিরে।
ইতিহাস-
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় বর্গীয় দস্যু নুসরৎ খাঁর হাত থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে বাঁচানোর জন্য শিবনিবাসে আশ্রয় নেন। দস্যুর ভয়ে অতিষ্ঠ হয়ে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র কুলোপুরোহিত রঘুনাথ মিশ্রের কাছে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার হওয়ার নিদান চান। কুলোপুরোহিত রঘুনাথ মিশ্র হোম-যজ্ঞ করে মহারাজাকে নিদান দেন, শিবনিবাসে শিব প্রতিষ্ঠা করলে দস্যু নুসরৎ খাঁ আক্রমণ করতে পারবে না। কারণ দস্যু নুসরৎ খাঁ ফিরে শিবের অন্ধ ভক্ত। তাই শিবের উপর সে কোনো আঘাত আনবে না। নুসরৎ খাঁয়ের আ’ক্র’ম’ণে’র সময় রাজা তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগর থেকে মাজদিয়ায় সরিয়ে আনেন। শিবের নামে নামকরণ করেন শিবনিবাস। কুলোপুরোহিদের সেই পরামর্শ মেনেই রাজা কৃষ্ণচন্দ্র শিবনিবাসে সুউচ্চ শিবলিঙ্গ স্থাপন করে মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং সপরিবারে ওই স্থানে বসবাস করা শুরু করেছিলেন। কথিত আছে, শিবনিবাসে সুউচ্চ শিবলিঙ্গ সাধনের পর নুসরৎ খাঁর সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হন তিনি। এরপরই মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র শিবকে তুষ্ট করার জন্য নবদ্বীপ থেকে জল নিয়ে এসে শিবের পূজা দেন। সেই থেকে শুরু হয় শিবের পূজা।
মহারাজা চূর্ণী নদীর তীরে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও কথিত আছে, একদিন চূর্ণী নদীতে স্নান করার সময় একটি রুই মাছ রাজার পায়ে পড়ে যায়। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তিনি কুলোপুরোহিতকে ঘটনাটি জানান এবং কুলোপুরোহিত গণনার পর মহারাজাকে জানিয়েছিলেন এখানে যদি একটি শিব মন্দির তৈরি করা হয় এবং বসবাস করা হয় তবে কিন্তু বি’প’দ হবে না।
শিবলিঙ্গটির উচ্চতা ১১ ফুট, ৯ ইঞ্চি এবং বেড় ৩৬ ফুট। চূড়া সহ মন্দিরের উচ্চতা ১২০ ফুট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে তবেই শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালা হয়। ভীম একাদশীতে প্রতিবছর একটি সুবিশাল মেলা বসে। দূরদূরান্ত থেকে এখানে ভক্তরা হাজির হন। শিবরাত্রি পর্যন্ত এই মেলা চলে। প্রায় ২৬৫ বছরের পুরানো এই মন্দির। এই মেলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ‘খই’। পূর্বে এই শিবনিবাসে ১০৮ টি শিবের মন্দির ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তিনটি মন্দির রয়েছে – রাজরাজেশ্বর মন্দির, রাজ্ঞীশ্বর মন্দির এবং রামসীতা মন্দির। এই শিবলিঙ্গ যেমন সুউচ্চ, তেমনই জাগ্রত বলে বিশ্বাস শিব ভক্তদের। এই সুবৃহৎ শিবলিঙ্গ এশিয়ার দ্বিতীয় অর্থাৎ পূর্ব ভারতের প্রথম স্থান অধিকার করে আছে।