Ayesha Bhattacharya: রাজ্য, রাজনীতি যখন অলি পাব (Olypub) ইস্যু ঘিরে তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন অভিনেত্রী ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আয়েশা ভট্টাচার্য(Ayesha Bhattacharya)। অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী(Sayak Chakraborty)-র বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা’র অভিযোগে পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, তখনই নিজের নাম ও পরিচয় ঘিরে দীর্ঘ বার্তা দিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হলেন আয়েশা।
নিজের একটি ছবি পোস্ট করে বড় বড় অক্ষরে তিনি লেখেন, “আমার নাম আয়েশা, আমি হিন্দু হয়েও মুসলিম নাম কেন?” এই একটি লাইনের মাধ্যমেই যেন তিনি সামনে নিয়ে এলেন সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলা নাম, ধর্ম ও পরিচয়ের জটিল বিতর্ক। পোস্টের পরপরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা, সমর্থন ও ক’টা’ক্ষ, দুইই আসে মন্তব্যের ঘরে।
আয়েশা তাঁর ফেসবুক পোস্টে স্পষ্টভাবে জানান, তাঁর পুরো নাম আয়েশা ভট্টাচার্য। নামের কারণেই তাঁকে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। অনেকের কাছেই বিষয়টি অস্বস্তিকর, আবার কারও কাছে কৌতূহলের। এই সব প্রশ্নের উত্তর দিতেই তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন দীর্ঘ বার্তায়।
পোস্টে আয়েশা লেখেন, তাঁর নাম রাখার পেছনে কোনো ধর্মীয় ভাবনা কাজ করেনি। বরং একান্ত পারিবারিক ভালোবাসা আর ব্যক্তিগত পছন্দ থেকেই এই নামের জন্ম। তিনি জানান, তাঁদের পরিবারে সবার নামই ‘A’ অক্ষর দিয়ে শুরু। সেই সূত্রধরেই তাঁর মা চেয়েছিলেন মেয়ের নামও যেন ‘A’ দিয়েই হয়, এবং এমন একটি নাম যা সবার থেকে আলাদা হবে। সেই ভাবনা থেকেই ভালোবেসে তাঁর নাম রাখা হয় ‘আয়েশা’।
এই নাম নির্বাচন কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল না বলেই জোর দিয়ে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “আমার মা-বাবা কোনো দিনই জাত বা ধর্মের কথা ভেবে নাম রাখেননি। তাঁরা যেটা করেছেন, সেটা শুধুই ভালোবেসে।” নিজের নামকে তিনি গর্বের সঙ্গে বহন করেন বলেও জানান আয়েশা। তাঁর মতে, নাম কোনো বিভাজনের প্রতীক নয়, বরং ভালোবাসা ও পরিচয়ের অংশ।
বার্তায় আয়েশা আরও বলেন, নামের কারণে তাঁকে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হলেও তিনি কখনও নিজের পরিচয় নিয়ে সংকোচবোধ করেননি। বরং নিজের নাম উচ্চারণ করতে তিনি স্বচ্ছন্দ্য এবং আনন্দিত। তাঁর জীবনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতি রয়েছে, রয়েছে বহু মুসলিম বন্ধু-বান্ধবীও। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তিনি কাউকে ধর্মের চশমা পরে দেখেন।
এই প্রসঙ্গে আয়েশা লেখেন, তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখতে শিখেছেন। তাঁর কাছে ধর্ম বা জাতের চেয়ে মানবিক সম্পর্ক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অকপটে বলেন, তাঁর যেমন প্রিয় বন্ধু আব্দুল, তেমনই প্রিয় শুভ্রজ্যোতিও। দু’জনের মধ্যে তিনি কোনো পার্থক্য করেন না। সবার সঙ্গে মিশতে, কথা বলতে, একসঙ্গে বসে খেতে, এই সাধারণ মানবিক সম্পর্কগুলোকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
পরিবার থেকে পাওয়া শিক্ষার কথাও উঠে আসে তাঁর পোস্টে। আয়েশা জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁকে শেখানো হয়েছে জাত বা ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখতে নেই। সেই শিক্ষাই আজও তিনি বহন করে চলেছেন এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় রাখতে চান। তাঁর মতে, সমাজে বিভাজনের রাজনীতি যতই বাড়ুক না কেন, ব্যক্তিগত স্তরে ভালোবাসা আর সহানুভূতিই একমাত্র পথ।
পোস্টের শেষদিকে আয়েশা জীবনবোধের কথাও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, জীবন খুব ছোট, এই অল্প সময়ের মধ্যেই যদি ঘৃণা, বিভেদ আর বিদ্বেষ নিয়ে বাঁচতে হয়, তাহলে জীবনের আসল অর্থটাই হারিয়ে যায়। তাই তিনি চেষ্টা করেন সবাইকে ভালোবেসে, সবার সঙ্গে মিলেমিশে জীবন কাটাতে। ভবিষ্যতেও এই ভাবনাই আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
আরও পড়ুন:Sayak-Maitreyee: সায়ক বিতর্কে কড়া বার্তা মৈত্রেয়ী মিত্রের
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। কেউ আয়েশার স্পষ্ট অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, কেউ আবার নাম ও ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সমালোচনার মাঝেও নিজের বক্তব্যে অনড় আয়েশা। তাঁর পোস্টে একাধিকবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, নাম বা ধর্ম নয়, মানুষই তাঁর কাছে আসল পরিচয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, একসময় টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত কাজ করেছেন আয়েশা ভট্টাচার্য। ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ হলেও বর্তমানে তাঁকে বেশি দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ার রিল ও ভ্লগে। নাচ ও অভিনয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই এখন তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। খুব শিগগিরই বড়পর্দায় ফিরছেন তিনি। ‘বিনি সুতোর টান’(Bini Sutor Taan)নামের ছবিতে অভিনয় করতে চলেছেন আয়েশা, যা আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা।
নাম, ধর্ম ও পরিচয় নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের আবহে আয়েশার এই বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল, আদৌ কি একটি নাম মানুষের ধর্ম নির্ধারণ করে? নাকি নামের আড়ালে লুকিয়ে থাকে শুধুই ভালোবাসা আর পারিবারিক অনুভূতি? আয়েশা ভট্টাচার্যের পোস্ট সেই প্রশ্নেরই এক স্পষ্ট, সাহসী উত্তর হয়ে উঠেছে।