Soumitrisha Kundu: ‘মিঠাই’(Mithai) ধারাবাহিকের হাত ধরে ঘরে ঘরে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন সৌমিতৃষা কুন্ডু(Soumitrisha Kundu) । সেই সা’ফ’ল্য যে তাঁকে বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ থেকে বড়পর্দার নায়িকা করে তুলবে, তা অনেকেই আ’ন্দা’জ করেছিলেন। দেব(Dev)-এর বিপরীতে সিনেমায় ডেবিউ, তারপর হ’ই’চ’ই’য়ে’র ওয়েব সিরিজ ‘কালরাত্রি’ (Kaalratri) একটার পর একটা কা’জ, প্র’শং’সা আর জনপ্রিয়তায় তাঁর কেরিয়ার গ্রাফ যেন শুধুই ঊ’র্ধ্ব’মু’খী। বাইরে থেকে দেখলে ম’নে হতেই পারে, সৌমিতৃষার জী’ব’ন বুঝি শুধুই সা’ফ’ল্যে’র গল্পে মো’ড়া। কিন্তু সেই ঝলমলে ছবির আ’ড়া’লে’ই লু’কি’য়ে ছিল এক দীর্ঘ মা’ন’সি’ক ল’ড়া’ই, যার কথা এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সৌমিতৃষা প্রথমবার খো’লা’খু’লি কথা বললেন সেই সময়টার কথা, যখন শা’রী’রি’ক অ’সু’স্থ’তা ধীরে ধীরে গ্রা’স করেছিল তাঁর ম’ন’কে’ও। নায়িকা জানান, তিনি কখনও আ’লা’দা করে কোনও ম’নো’বি’দে’র শ’র’ণা’প’ন্ন হননি। তবে তাঁর মতে, শ’রী’রে’র স’ম’স্যা যে কীভাবে ম’নে’র উপর গ’ভী’র প্র’ভা’ব ফে’ল’তে পারে, সেটা তিনি নিজের জীবনে হা’ড়ে হা’ড়ে বুঝেছেন।
সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে সৌমিতৃষা বলেন, তাঁর শা’রী’রি’ক অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। বি’ছা’না থেকে উ’ঠ’লে’ই কোমরে তী’ব্র টা’ন ধরত। ফলে বা’ধ্য হয়েই তাঁকে বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই কা’টা’তে হত। এর আগেও কি’ড’নি স্টো’ন সহ একাধিক শা’রী’রি’ক স’ম’স্যা’য় ভু’গে’ছে’ন তিনি। সব মিলিয়ে প’রি’স্থি’তি এমন দাঁ’ড়া’য় যে বাইরে বে’রো’নো, সে’জে’গু’জে কোথাও যাওয়া বা স্বা’ভা’বি’ক সা’মা’জি’ক জীবন সবকিছুর উপরেই যেন একরকম ব্রে’ক লে’গে যায়।
এই শা’রী’রি’ক সী’মা’ব’দ্ধ’তা’র সবচেয়ে বড় প্র’ভা’ব পড়ে তাঁর পে’শা’গ’ত জীবনে। ঠিক সেই সময়েই নাকি তাঁর কাছে একের পর এক কাজের প্র’স্তা’ব আসছিল। কিন্তু শ’রী’র সা’য় না দেওয়ায় সেগুলোর অনেকটাই ছে’ড়ে দিতে হয়। একটি কাজের ক্ষেত্রে তাঁকে হা’র’নে’সে ঝু’লে শুটিং করতে হত। শা’রী’রি’ক অবস্থার কারণে সেই ঝুঁ’কি নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ একটি সিনেমার কাজ হা’ত’ছা’ড়া হয়ে যায়। এই ধরনের ঘ’ট’না একাধিকবার ঘ’ট’তে থাকায় ধীরে ধীরে তাঁর মধ্যে জ’ম’তে থাকে হ’তা’শা।
নায়িকা অ’ক’প’টে স্বীকার করেন, এই সব প’রি’স্থি’তি তাঁকে মা’ন’সি’ক’ভা’বে ভে’ঙে দিয়েছিল। বারবার তাঁর মনে প্র’শ্ন জাগত, “কেন আমার সঙ্গেই এমন হচ্ছে? কেন সব ঠিক হচ্ছে না?” নিজের চারপাশে যখন অন্যদের এগিয়ে যেতে দেখতেন, আর নিজে শা’রী’রি’ক স’ম’স্যা’র কারণে পি’ছি’য়ে পড়ছিলেন, তখন সেই য’ন্ত্র’ণা আরও তী’ব্র হয়ে উঠত। এই ভাবনাগুলোই ধীরে ধীরে তাঁর ম’নে’র উপর নে’তি’বা’চ’ক প্র’ভা’ব ফে’ল’তে শুরু করে।
তবে এই অ’ন্ধ’কা’র সময়ের মধ্যেও সৌমিতৃষা নিজেকে পুরোপুরি হা’রি’য়ে ফে’লে’ন’নি। তিনি জানান, নিজের স্ব’ভা’ব’গ’ত দিক থেকেই তিনি একজন প’জি’টি’ভ মানুষ। তাই নে’তি’বা’চ’ক চি’ন্তা তাঁকে দীর্ঘদিন আ’চ্ছ’ন্ন করে রাখতে পারে না। একটা সময় তিনি নিজেকেই প্র’শ্ন করেন এই প’রি’স্থি’তি’তে দাঁড়িয়ে তিনি কী করতে পারেন, কীভাবে নিজেকে সা’ম’লে তুলবেন?
সেই ভাবনা থেকেই আসে এক নতুন সি’দ্ধা’ন্ত। সৌমিতৃষার মনে হয়, তিনি বেকিং(baking) শেখার চেষ্টা করতে পারেন। রা’ন্না আর খাওয়া দু’টোই তাঁর খুব পছন্দের। নিজেকে তিনি ম’জা’র মানুষ ও ভো’জ’ন’র’সি’ক বলেই বর্ণনা করেন। তাই চি’কি’ৎ’স’কে’র সঙ্গে পরামর্শ করে ধীরে ধীরে এই নতুন অ’ভ্যা’সে’র পথে হাঁটেন তিনি। বাড়িতেই বেকিং(baking) শুরু করেন। গৃহ সহায়িকার সাহায্য পান, কেউ একজন ক্যা’মে’রা ধ’র’তে’ন, আর এভাবেই এক নতুন কাজে নিজেকে ব্য’স্ত রাখার চে’ষ্টা করেন।
এই ছোট ছোট উদ্যোগই তাঁর কাছে হয়ে ও’ঠে মা’ন’সি’ক মু’ক্তি’র রাস্তা। কা’জ হা’রা’নো’র দুঃ’খ, শ’রী’রে’র য’ন্ত্র’ণা, ‘কেন আমার সঙ্গে এমন হচ্ছে’, এই সব প্র’শ্নে’র ভি’ড় থেকে খানিকটা দূ’রে থাকার সু’যো’গ করে দেয় বেকিং(baking)। সৌমিতৃষার কথায়, এইভাবেই তিনি ধী’রে ধী’রে সেই অ’ব’সা’দে’র জায়গাটাকে জ’য় করতে শিখেছেন।
আজ যখন তাঁর সামনে নতুন কা’জ, নতুন সিরিজের পরবর্তী পার্ট মুক্তির অ’পে’ক্ষা, তখন এই অভিজ্ঞতার কথা ভা’গ করে নেওয়া নিঃ’স’ন্দে’হে তাৎপর্যপূর্ণ। সা’ফ’ল্যে’র আলোয় দাঁড়িয়ে থেকেও যে একজন অভিনেত্রী মা’ন’সি’ক অ’ব’সা’দে’র অ’ন্ধ’কা’রে হা’রি’য়ে যেতে পারেন, সেই সত্যটাই যেন আবার ম’নে করিয়ে দিলেন সৌমিতৃষা কুন্ডু(Soumitrisha Kundu)। তাঁর এই স্বী’কা’রো’ক্তি অনেকের কাছেই হয়ত সা’হ’সে’র গল্প হয়ে উঠবে যেখানে বো’ঝা যায়, ল’ড়া’ই থাকলেও ঘু’রে দাঁ’ড়া’নো’র পথও সবসময় খো’লা থাকে।