Anirban-Chandan:“যা হয়েছে তা অন্যায়, ক্ষমা চাওয়ারও বিষয় নয়, ব্যান করে থামানো যায় না, ফিরলে আরও ধারালো হবে” – অনির্বাণ ইস্যুতে বিস্ফোরক চন্দন সেন

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Anirban-Chandan: টলিউডে ‘ব্যান’ বিতর্ক ঘিরে জোর চর্চার মাঝেই ফের শিরোনামে উঠে এলেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য(Anirban Bhattacharya)। একজন দক্ষ ও জনপ্রিয় অভিনেতা হয়েও গত কয়েক মাস ধরে ক্যামেরার সামনে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ইন্ডাস্ট্রির একাধিক কলাকুশলী মুখ খুলেছেন। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন অভিনেতা চন্দন সেন(Chandan Sen)। অনির্বাণের তথাকথিত নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে স্পষ্ট এবং কড়া অবস্থান নিলেন তিনি।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চন্দন সেন বলেন, অনির্বাণের মতো অভিনেতাকে সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখা সম্ভব হলেও চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দেওয়া যায় না। তাঁর কথায়, “অনির্বাণের মতো অভিনেতাদের কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সারাজীবনের জন্য থামানো যায় না।” এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি বুঝিয়ে দেন, শিল্পীর শক্তিকে কোনও প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দমন করা সম্ভব নয়।

নিজের অভিজ্ঞতার কথাও টেনে আনেন চন্দন। তিনি জানান, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনিও গিয়েছেন। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত একই রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। ফলে অনির্বাণের বর্তমান পরিস্থিতি তিনি ভেতর থেকে অনুভব করতে পারছেন বলেই ইঙ্গিত দেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সময়টা যতই কঠিন হোক না কেন, তা চূড়ান্ত নয়।
ঘটনাটিকে সরাসরি “অন্যায়” বলেও চিহ্নিত করেন চন্দন সেন। তাঁর মতে, যা ঘটেছে তা একেবারেই সঙ্গত নয়। তবে তিনি শুধু ঘটনার বিরোধিতাতেই থামেননি, বরং অনির্বাণের হয়ে প্রকাশ্যে যারা ক্ষ’মা চেয়েছেন, তাঁদের ভূমিকাকেও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন। চন্দনের মতে, এতে অনির্বাণের সম্মান বাড়ে না। তিনি বলেন, “যার কাছে ক্ষ’মা চাওয়া হচ্ছে, আমার মনে হয় না এটা ক্ষ’মা চাওয়ার মতো কোনও বিষয়।” অর্থাৎ, পুরো বিষয়টিকেই তিনি এমনভাবে দেখছেন, যেখানে ক্ষ’মা প্রার্থনার প্রয়োজনীয়তাই নেই।

আরও পড়ুন:Jojo Mukherjee:“মঞ্চ শিল্পী যারা ছিলেন, হারিয়ে যাচ্ছেন…এখন যারা কাজ করছে তারা রিয়েলিটি শো-এর, রিয়েলিটি শো-তে জনপ্রিয় হলে ডাক আসে” – মঞ্চ শিল্পীদের অস্তিত্ব সঙ্কটে বিস্ফোরক দাবি জোজো মুখার্জির

কারও নাম না করে তিনি আরও বলেন, যাঁরা আজ অনির্বাণের হয়ে ক্ষ’মা চাইছেন, তাঁরাও তো সেই দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাহলে তখন কেন তাঁরা প্রতিবাদ করেননি? কেন তখন তাঁদের মনে হয়নি যে বিষয়টি ঠিক নয়? এই প্রশ্ন তুলে চন্দন যেন শিল্পীমহলের নীরবতার দিকেই আঙুল তুললেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনির্বাণ এখনও নিজের অবস্থানে অটল তিনি আজও মনে করেন তিনি ঠিক। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অন্য কারও ক্ষ’মা প্রার্থনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই ইঙ্গিত দেন চন্দন।

এই বিতর্কে সম্প্রতি অভিনেতা ও প্রযোজক দেব(Dev)-এর নামও জড়িয়েছে। ‘দেশু ৭’(Deshu-7)-এর প্রচারে গিয়ে দেব প্রকাশ্যে অনির্বাণের হয়ে ক্ষ’মা চেয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরই বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। তবে অনির্বাণ নিজে পরবর্তী সময়ে একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “ক্ষমা মানুষ অন্যায় করলে চায়। আমিও চাইব না কেউ আমার হয়ে ক্ষমা চাইুক। সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, সেই আলোচনায় আমি থাকতে পারি। কিন্তু ক্ষ’মা জিনিসটা অনেক বড়।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, নিজের অবস্থান থেকে সরতে রাজি নন তিনি।

আরও পড়ুন:Kunal Ghosh:”লাইক আর ভিউয়ের নে’শা’য়, এরা মা’ন’সি’ক রো’গী…ছেলেটি অত্যন্ত পাকা, হি’ন্দু’ত্ব দেখানোর নাটক কেন?”…”এখন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কথা বলছি”… সায়ক চক্রবর্তীকে নিশানা কুণাল ঘোষের সঙ্গে দেবকে কী বললেন তিনি?

চন্দন সেনের মতে, অনির্বাণের এই সময়টা হয়ত কঠিন, কিন্তু তা শেষ কথা নয়। বরং এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। তিনি বলেন, “পরবর্তীকালে যখন অনির্বাণ ফিরে আসবে, তখন যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ফিরবে, তাতে ও আরও ধারালো হয়ে ফিরে আসবে।” এই মন্তব্যেই যেন পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে আশার আলো দেখাতে চাইলেন চন্দন। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিকূল সময় শিল্পীকে ভেঙে দেয় না, বরং শানিয়ে তোলে।
টলিপাড়ায় এই ‘ব্যান’ বিতর্ক এখনো চর্চার বিষয়। একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা দীর্ঘ সময় কাজের বাইরে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে চন্দন সেনের বক্তব্যে পরিষ্কার তিনি বিষয়টিকে শুধু ব্যক্তিগত সংকট হিসেবে দেখছেন না, বরং বৃহত্তর শিল্প-পরিবেশের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিচার করছেন। শিল্পীর স্বাধীনতা, সম্মান এবং আত্মমর্যাদার প্রসঙ্গই যেন তাঁর কথায় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

সব মিলিয়ে, অনির্বাণ ইস্যুতে চন্দন সেনের অবস্থান স্পষ্ট অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সরব, ক্ষমা প্রার্থনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশয়ী, আর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তাঁর বিশ্বাস, সাময়িক বাধা শিল্পীর পথ রুদ্ধ করতে পারে না। বরং সেই বাধাই হয়তো পরবর্তী সময়ে আরও শক্ত, আরও তীক্ষ্ণ প্রত্যাবর্তনের ভিত্তি গড়ে দেয়। এখন দেখার, এই বিতর্কের পরবর্তী অধ্যায় কোন দিকে মোড় নেয় এবং অনির্বাণ কবে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান।

Leave a Comment