Avinaba Biswas: “যত নোং’রা, কদর্য কথা হোক, আমাকে থাকতে হবে পরিষ্কার!” শিশুশিল্পী অভিনবের পোস্ট ঘিরে ফের তৃণাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Avinaba Biswas:স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরশুরাম’(Parshuram) দীর্ঘদিন ধরেই টিআরপি(TRP) তালিকার শীর্ষে। একের পর এক মাইলস্টোন পেরিয়ে প্রায় ৩০০ কোটির কাছাকাছি এপিসোড সম্প্রচার, সব মিলিয়ে ধারাবাহিকটি যে চ্যানেলের অন্যতম শক্ত স্তম্ভ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সম্প্রতি গল্প বা রেটিং নয়, একেবারে ভিন্ন এক ঘটনায় নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই ধারাবাহিক। সেই চর্চার কেন্দ্রে রয়েছে শিশু শিল্পী অভিনব বিশ্বাস(Avinaba Biswas)-এর ধারাবাহিক ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া।

কিছুদিন আগেই আচমকা ‘পরশুরাম’ থেকে সরে দাঁড়ায় অভিনব বিশ্বাস। ছোট বয়সে পর্দায় তার অভিনয় দর্শকের মন কেড়েছিল। কিন্তু ধারাবাহিক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর প্রকাশ্যে যে অভিযোগ সে তোলে, তা ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অভিনবের বক্তব্য অনুযায়ী, শুটিং সেটে তার উপর প্রবল মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। অভিযোগের তীর গিয়ে পড়ে সহ-অভিনেত্রী তৃণা(Trina Saha)-র দিকেও। অভিনব দাবি করে, তাকে বারবার অপমানের মুখে পড়তে হয়েছে। শুধু সে-ই নয়, এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছিল তার বাবা-মায়ের উপরও। মানসিকভাবে ভে’ঙে পড়েছিলেন তাঁরাও। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ আর সামলাতে না পেরেই ধারাবাহিক ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় অভিনব।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, কয়েকদিনের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও অর্থবহ পোস্ট করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে শিশুশিল্পী। পোস্টে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না থাকলেও, তার প্রতিটি লাইনে যে অভিজ্ঞতার ভার বহন করছে, তা স্পষ্ট। পোস্টের ভাষা থেকেই বোঝা যায়, সেটের সেই সময়টা তার জীবনে কতটা কঠিন ছিল।

অভিনব লেখে, কেন তাকে কেউ বুঝতে পারল না, কে কী করতে বলেছিল তাকে, কেন তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হল এই প্রশ্নগুলোই নাকি প্রতিদিন তার মাথার ভিতর ঘুরত। সেই চিন্তাগুলোই ধীরে ধীরে তার ভালো না থাকার কারণ হয়ে উঠেছিল। তবে একই সঙ্গে সে জানায়, এখন সে অনেকটাই ভালো আছে। প্রতিদিনের দুশ্চিন্তা, চারপাশের চাপ আর অবিরাম ল’ড়া’ই’য়ে’র বাইরে এসে তার বর্তমান জীবন তুলনায় অনেক বেশি শান্ত।

আরও পড়ুন:Debolinaa Nandy:’৭৮’ নিয়ে হাসি-ঠাট্টা বন্ধ করুন…ভালো না লাগলে দেখবেন না”, “যারা সবকিছুতেই মে’য়ে’দে’র দো’ষ খোঁজে, তারা আমার য’ন্ত্র’ণা বুঝবে না” – দেবলীনার বি’স্ফো’র’ক জবাব

পোস্টে অভিনব আরও লিখেছে, সবসময় যদি এই ভয়ে বাঁচতে হয় যে লড়তে লড়তে একদিন হয়ত তলিয়ে যাবে, তাহলে সেই অবস্থার বাইরে এসে সে এখন স্বস্তিতে আছে। তার কথায়, তাকে প্রায়শই একা করে দেওয়া হত। কোলে তুলে নেওয়ার বদলে যেন মাটিতেই পড়ে থাকতে হত তাকে। দুশ্চিন্তায় ভরা মনে সে প্রতিদিন মাকে জিজ্ঞেস করত, “মা, কল টাইম কখন?” এই একটি প্রশ্নেই যেন ধরা পড়ে ছোট্ট একটা শিশুর উপর কাজের চাপ কতটা গভীর ছিল।

অভিনবের লেখায় উঠে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সে জানায়, যেভাবে সে স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করত, সেভাবে নাকি তার বন্ধুরা স্কুলের বইয়ের কবিতাও মুখস্থ করেনি। ছোট বয়সে কাজ আর পড়াশোনার এমন ভারসাম্যহীন চাপ যে তাকে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা তার বক্তব্যেই স্পষ্ট। সে আরও জানায়, এখন তার আর কোথাও কিছু প্রমাণ করার নেই।

আরও পড়ুন:Hiran-Anindita:বারাণসীর ‘পবিত্র বিয়ে’ থেকে আনন্দপুর থানার অভিযোগে চুপ হিরণ—নীরবতাই কি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন? হিরণ-ঋত্বিকা বিতর্কে নয়া মোড়, পোস্ট ডিলিটে রহস্য ঘনীভূত! “শিব আমার উপরই বেশি সন্তুষ্ট “- বিস্ফোরক অনিন্দিতা

সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলেছে পোস্টের সেই অংশ, যেখানে অভিনব লেখে, যদি প্রতিদিন সবাইকে মেপে কথা বলতে হয়, বড়রা সামনে যাই বলুক না কেন, যত নোংরা, কদর্য, ঘৃণার ভাষাই ব্যবহার করা হোক, তাকে থাকতে হবে পরিষ্কার। তার কথায়, কেউ তার মনের দায় নেবে না, বরং আঙুল তুলে চিৎকার করে বলবে সে খারাপ। তবুও সে বলবে, এখন সে ভালো আছে।

পোস্টে আরও এক জায়গায় অভিনব উল্লেখ করে, বাড়িতে তাকে সুবুদ্ধির শিক্ষা দেওয়া হলেও, বাড়ির বাইরে বেরিয়ে সে দেখেছে বাস্তব দুনিয়ায় অনেক সময় ঠিক উল্টো জিনিসই কাজে লাগে। সেই অভিজ্ঞতার পরেও সে বলছে, এখন সে আগের থেকে অনেক ভালো আছে। এই কথাটাই যেন বারবার ফিরে আসে তার লেখায়।

আরও পড়ুন:Hiran-Anindita:বারাণসীর ‘পবিত্র বিয়ে’ থেকে আনন্দপুর থানার অভিযোগে চুপ হিরণ—নীরবতাই কি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন? হিরণ-ঋত্বিকা বিতর্কে নয়া মোড়, পোস্ট ডিলিটে রহস্য ঘনীভূত! “শিব আমার উপরই বেশি সন্তুষ্ট “- বিস্ফোরক অনিন্দিতা

অভিনবের ধারাবাহিক ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই মনে করেন, শিশু শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। ছোট বয়সে মানসিক চাপ যে কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, সেই বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে এই ঘটনায়। পাশাপাশি, তৃণার আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক নেটিজেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

সব মিলিয়ে ‘পরশুরাম’-এর সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই বিতর্ক ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, টেলিভিশনের ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে বাস্তব কতটা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যখন সেই দুনিয়ায় জড়িয়ে পড়ে খুব অল্প বয়সের শিশুরা। অভিনবের পোস্ট তাই শুধুই ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং শিশু শিল্পীদের কাজের পরিবেশ নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল বলেই মনে করছেন অনেকেই।

Leave a Comment