Hiraan-Chiranjeet:বারাণসীর গঙ্গার ঘাটে দ্বিতীয়বার বিয়ে করে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়(Hiraan Chatterjee)। ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে এই ঘটনাই এখন রাজনৈতিকমহল থেকে টলিপাড়া, সর্বত্র আলোচনার শীর্ষে। অভিযোগ উঠেছে, প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন না করেই তিনি ঋতিকা গিরির সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে প্রশ্ন, বিতর্ক এবং পরস্পরবিরোধী দাবির স্রোত।
ঘটনার সূত্রপাত হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি ও খবর সামনে আসার পর। বারাণসীর গঙ্গার ঘাটে ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বিয়ে ঘিরে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে নানা তথ্য। প্রথমে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযোগ সামনে আনেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা(Anindita Chatterjee)। তাঁর দাবি, হিরণের সঙ্গে তাঁর আইনিভাবে এখনও বিচ্ছেদ হয়নি। সেই অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে আইনত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখে।
এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে ঋতিকা গিরি(Ritika Giri)-র বক্তব্য। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অনিন্দিতা নাকি তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে আগেই জানতেন। কিন্তু এই বক্তব্যকে সরাসরি অস্বীকার করে হিরণ ও ঋতিকার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অনিন্দিতা এবং তাঁদের কন্যা নিয়াসা। অভিযোগে পারিবারিক প্রতারণা থেকে মানসিক হে’ন’স্তা’র প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বলে জানা যায়।
থানা থেকে বেরিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেন ১৯ বছরের নিয়াসা। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না। তবুও হঠাৎ এই বিয়ের খবর তাঁকে মানসিকভাবে ভে’ঙে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবার বিয়ের ছবি দেখেই তিনি স্তব্ধ হয়ে যান বলে জানান নিয়াসা। তাঁর কথায়, “মা কাঁদছিল। সেই সময় নিজেকে সামলানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।” তিনি আরও বলেন, বন্ধুদের বাবার সঙ্গে নিজের বাবার তুলনা করলেই তাঁর কষ্ট আরও বেড়ে যায়।
অনিন্দিতার অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর দাবি, হিরণ মাঝেমধ্যেই মেয়েকে ফোন করে নিজের অসহায়তার কথা জানাতেন এবং পরিবারে ফেরার ইচ্ছার কথা বলতেন। কিছু সময় তাঁরা একসঙ্গেও ছিলেন বলে জানান তিনি। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেই হিরণ ফের ঋতিকার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন বলে অভিযোগ। অনিন্দিতার মন্তব্য, “এটা যেন মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলা। কখনও কাছে টানা, কখনও দূরে সরিয়ে দেওয়া, এই মানসিক টানাপোড়েন আমাদের দু’জনকেই ভেঙে দিয়েছে।”
এই পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই টলিপাড়ায় তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। অভিনেতা থেকে পরিচালক, প্রযোজক—প্রায় সকলেই কোনও না কোনওভাবে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ কেউ বিষয়টিকে নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে দেখছেন, আবার কেউ প্রকাশ্যেই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলছে তুমুল তর্ক, কেউ সমর্থনে, কেউ তীব্র সমালোচনায় মুখর।
এই আবহেই হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থান জানালেন বর্ষীয়ান অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী(Chiranjeet Chakraborty)। টলিপাড়ায় কান পাতলেই যখন নানা মন্তব্য, ক’টা’ক্ষ আর রসিকতা শোনা যাচ্ছে, তখন চিরঞ্জিতের বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন সুরে। তাঁর কথায় কোনও রাখঢাক নেই, আবার কোনও আবেগও নেই, বরং সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত এক ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাব।
চিরঞ্জিত বলেন, হিরণের বিয়ে নিয়ে তাঁর বিশেষ কিছু বলার নেই। কারণ হিসেবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিয়েতে তিনি নিমন্ত্রিতই ছিলেন না। বর্ষীয়ান অভিনেতার কথায়, “হিরণ বিয়ে করেছে তো আমার কী? আমায় তো নেমন্তন্ন করেনি। নেমন্তন্ন করলে হয়ত কথা বলতাম। না খেলাম, না কিছু করলাম, না আঁচালাম। এই অবস্থায় কথা বলে কী লাভ?” তাঁর মতে, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ হিরণ ও সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। বাইরের লোক হিসেবে সেখানে মন্তব্য করার কোনও অর্থ নেই বলেই মনে করেন তিনি।
চিরঞ্জিতের এই মন্তব্য দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে টলিপাড়ায়। কেউ কেউ এটিকে তীক্ষ্ণ ক’টা’ক্ষ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটা আসলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে আসা এক ধরনের উদাসীনতা। তবে এত বিতর্কের মধ্যেও তাঁর এই ‘না খেলাম, না আঁচালাম’ মন্তব্য যে আলাদা করে নজর কেড়েছে, তা বলাইবাহুল্য।
সব মিলিয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে এখন আর শুধুই ব্যক্তিগত বিষয় নয়। অভিযোগ, পাল্টা দাবি, পারিবারিক টানাপোড়েন, সন্তানের আবেগ এবং টলিপাড়ার প্রতিক্রিয়া, সবকিছু মিলিয়ে এই ঘটনা রীতিমতো ঝড় তুলেছে। সামনে আইনি পথে বিষয়টি কোন দিকে যায়, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত বিতর্কের আঁচে উত্তপ্ত রাজনীতি ও বিনোদন, দু’দুনিয়াই।