Chiranjeet Chakraborty:“প্রথম থেকেই আমার বাংলার প্রাক্তন শাসকদলকে পছন্দ ছিল না…রাজনীতিতে আসতে চাইনি…মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমার পূর্ণ ভরসা থাকায়, সেবার ভোটে দাঁড়িয়েছিলাম…” অতীতের কথা টেনে এনে আবারও বিতর্কের মুখে চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী! অকপট জবাব অভিনেতার।
একসময় বাংলা ইন্ডাস্ট্রির হার্টথ্রব ছিলেন অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। যেকোনো চরিত্রেই তাঁর অভিনয় দর্শকের মন কেড়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও পা রেখে পেয়েছিলেন অনেক ভালোবাসা। তিনি জানিয়েছিলেন,” আমার কাজ অভিনয়, রাজনীতি না।” যদিও দলের অনুরোধে ভিন্ন পরিস্থিতির জন্য তাঁকে রাজনীতিতে আসতে হয়েছিল। প্রথমবার প্রার্থী হওয়ার পর তিনি মনে করেছিলেন, রাজ্যের স্বার্থে শাসক পরিবর্তন হওয়া জরুরি। এর পাশাপাশি মমতা ব্যানার্জীর প্রতি তাঁর যে ভরসা তাঁকে ভোটের ময়দানে দাঁড়াতে বাধ্য করে। সে কারণেই সেলিব্রিটি মুখ হিসেবে তিনি আসন জিতেছিলেন।
কিন্তু বরাবরই অভিনেতা সিপিএমকে পছন্দ করতেন না, কারণ তাঁদের ক্ষমতালোভী মানসিকতা তাঁর একেবারেই পছন্দ ছিল না। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আচরণ নিয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন,”প্রথম থেকেই আমার বাংলার প্রাক্তন শাসকদলকে পছন্দ ছিল না। সিপিএম নেতারা ক্ষমতা ভোগ করতে করতে দাম্ভিক হয়ে পড়েছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মোটেও খুব ভালো একজন ছিলেন না, উল্টে খুবই দাম্ভিক আচরণ করতেন। আজকে বলে নয়, ওদের সময় থেকেই যাদবপুর নকশালপন্থী হয়ে উঠেছিল। আমি প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে সেই সময় দাঁড়িয়ে, সুপারকে হ’ত্যা হতে দেখেছি চোখের সামনে ওদের হাতে।”
অভিনেতা আরও বলেন, “সেলিব্রিটি হিসেবে তৃণমূলের কিছু মিটিং বা সমাবেশে গেছিলাম। আবার বক্তব্যও রেখেছি বাকিদের মতো, সেগুলো মানুষের পছন্দ হয়েছে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও তখন জেতার জন্য ২০০টার মতো আসনের প্রয়োজন ছিল। উনি অনুরোধ করেছিলেন আমি দাঁড়ানো মানে একটা আসন ওনার পাকা।
আমি চেয়েছিলাম রাজ্যের স্বার্থে শাসকদলের পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন, কিন্তু সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে চাইনি। শুধুমাত্র শাসক দল পরিবর্তন হবে আর মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমার পূর্ণ আস্থা থাকায়, সেবার ভোটে দাঁড়িয়েছিলাম। তার পরেরবার ভোটের আগে আমি অনুরোধ করেছিলাম, আমাকে যেন বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। যেই স্বার্থে আমি দাঁড়িয়েছিলাম সেটা পূর্ণ হয়ে গেছে। এখন আর আমার থাকার প্রয়োজন নেই, তবুও মাননীয়া ছাড়তে চাইলেন না। সামনে আবার ভোট, আমি বলেছি এখন দেখা যাক কি হয়।”
কিন্তু রাজনীতির পথ যে তাঁর জন্য নয়,স্পষ্ট বুঝে গিয়েছিলেন অভিনেতা।