Chiranjeet Chakraborty:“জীবনে , ডিরেক্টর-প্রোডিউসার কারোর কাছে আমি ছবি চাইনি”, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধু হয় না”,”চিরঞ্জিৎ হওয়ার জন্য বাড়তি কিছু করেননি” – খোলামেলা বি’স্ফো’র’ক স্বীকারোক্তি চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Chiranjeet Chakraborty:বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা, অভিনেতা ও পরিচালক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty) তাঁর দীর্ঘ অভিনয়-যাত্রা, ব্যক্তিগত জীবন, স’ম্প’র্ক, বন্ধুত্ব, পরিচয় সং’ক’ট এবং ক্যারিয়ারের নানা অ’জা’না অধ্যায় তুলে ধরলেন খো’লা’মে’লা আড্ডায়। ছাত্র জীবনের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া থেকে আ’ক’স্মি’ক’ভা’বে নায়ক হওয়া, ‘দীপক’ থেকে ‘চিরঞ্জিত’ নাম ব’দ’লে’র গল্প, ভা’লো’বা’সা ও দা’ম্প’ত্যে’র দীর্ঘ পথচলা, চলচ্চিত্র দুনিয়ার বা’স্ত’ব’তা সবই উঠে এল তাঁর অকপট কথায়।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই তিনি জানান, তাঁর আসল ইচ্ছে ছিল অভিনয় নয়, বরং সি’রি’য়া’স সিনেমা নির্মাণ করা। জীবনের নানা সময়ের অ’ভি’জ্ঞ’তা, সা’ফ’ল্য ও এ’কা’কী’ত্বে’র উ’প’ল’ব্ধি সব মিলিয়ে যেন এক জী’ব’ন্ত স্মৃ’তি’চা’র’ণ।
চিরঞ্জিত চক্রবর্তী জানান, শুরু থেকেই অভিনয় তাঁর লক্ষ্য ছিল না বরং সিনেমা তৈরি করা নিয়েই তাঁর আগ্রহ। তিনি বলেন – “আমি তো কোনোদিন অভিনয়ের জন্য আগ্রহী ছিলাম না। আমি ছবি তৈরি করতে চেয়েছিলাম, সি’রি’য়া’স ছবি।”

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় থেকেই এই ঝোঁ’ক জন্মায় তাঁর মধ্যে। অভিনয়ে আসা তাঁর কাছে ছিল সম্পূর্ণ আ’ক’স্মি’ক এক ঘটনা।
সে সময় তিনি নিউজ পড়তেন। ঠিক তখনই পরিচালক রঞ্জন মজুমদার তাঁকে নায়ক হওয়ার প্রস্তাব দেন। প্রথমে তিনি রাজি ছিলেন না কারণ তাঁর নিজেরই ইচ্ছা ছিল না অভিনয় করার। তিনি বলেন “আমি তো হিরো হতে চাই না… আমি অ্যাক্টিং করতে চাই না।” কিন্তু গল্পের প্রতি আ’ক’র্ষ’ণ’ই শেষ পর্যন্ত তাঁকে রাজি করায়।

তাঁর আসল নাম ছিল দীপক চক্রবর্তী (Deepak Chakraborty)।জ্যোতিষশাস্ত্র মেনে পরিচালকের অ’নু’রো’ধে নাম পরিবর্তন করতে হয় তাঁকে। পরিচালক বলেন নামের প্রথম অক্ষর হতে হবে ‘চ’। তখনই তিনি ভাবেন – “রঞ্জিত আছে, বিশ্বজিৎ আছে, তাহলে চিরঞ্জিত হলে কেমন হয়?” এভাবেই জ’ন্ম নেয় নতুন নাম – ‘চিরঞ্জিত’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নামই হয়ে ওঠে তাঁর পরিচয় ও জনপ্রিয়তার প্রতীক। দর্শকরা ‘দীপক’-এর চেয়ে ‘চিরঞ্জিত’-কেই বেশি আপন করে নেন।

আরও পড়ুন:Alia Bhatt:‘এখন আমি প্রথমে মা’ – কেরিয়ারের গতি কমাচ্ছেন আলিয়া ভাট, খুশি নন অনেক ভক্তই

চিরঞ্জিত জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতেই তাঁর অভিনীত প্রথম দিকের সাতটি ছবিই সুপারহিট হয়। দর্শকের প্র’ত্যা’শা ও ভা’লো’বা’সা তাঁকে রাতারাতি তারকা করে তোলে। তিনি বলেন – দর্শকরা তখন দীপকের ছবি নয়, চিরঞ্জিতের ছবিই বেশি দেখতে চাইতেন। তবে তিনি এটাও জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর পর যখন তিনি পরিচালনায় ফেরেন, তখন দর্শকের চা’হি’দা মা’থা’য় রেখে তাঁকে কমার্শিয়াল সিনেমা বানাতেই বা’ধ্য হতে হয়।

‘বাড়িওয়ালি’(Bariwali) ও ‘চতুষ্কোণ’ (Chotushkone) এই ছবিগুলো তাঁর জীবনে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। ঋতুপর্ণ ঘোষ ও সৃজিত মুখোপাধ্যায় দু’জনেই তাঁর অভিনয় দেখে তাঁকে ‘দীপক’ বলে ডাকেন। ঋতুপর্ণা বলেন “এই ছবিটা কিন্তু চিরঞ্জিত করেনি, এটা কিন্তু দীপক করেছে।” সৃজিতের ম’ন্ত’ব্য’ও ছিল প্রায় একই – “দীপক দা, এই ছবিটা কিন্তু চিরঞ্জিত করেনি, এটা দীপক চক্রবর্তী করেছে।”
চিরঞ্জিত মনে করেন কমার্শিয়াল ও আর্ট সিনেমায় তাঁর দুই ভিন্ন পরিচয় যেন দুই শিল্প-অ’স্তি’ত্ব। তাঁর ভাষায় – “একই অভিনেতা, দুই নামে অভিনয় করলে পৃথিবীতে এক অ’দ্ভু’ত ঘ’ট’না ঘটবে।”

তিনি সদ্য যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছেন। তখন স্কুল পড়ুয়া তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ। তিনি বলেন “ওই মেয়েটার ভেতরে কিছু একটা ছিল… খুব কম কথা বলত সেটাই আমাকে খুব আ’ক’র্ষ’ণ করেছিল।”
স’হ’ন’শী’ল’তা, নী’র’ব স্ব’ভা’ব, ধীরে ধীরে ভা’লো’বা’সা’য় রূপ নেয় স’ম্প’র্ক। তিনি জানান- “আমি যদি অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফেল করতাম, ও কিছু বলত না। তখনই ওকে ভালো লাগতে শুরু করে।” দীর্ঘ প্রে’ম আর তারপর বি’য়ে।চিরঞ্জিত আ’বে’গ’ঘ’ন কণ্ঠে বলেন -“১০ বছর প্রেম, এখন ৪৬ বছর বি’য়ে। মানে ৫৬ বছর ধরে আমরা একসঙ্গে আছি।”

আরও পড়ুন:Sabitri Chatterjee:“ডিস্ট্রিবিউটররা তাঁর ছবি নিতে চাইতেন না”, “ মৃণাল সেন এত বে’ই’মা’ন!…”, “উত্তম কুমারের জন্য ভে’ঙে যায় বিয়ে!” সততা, নী’তি’বো’ধ আর স’ম্প’র্কে’র জগতে তি’ক্ত অভিজ্ঞতার বি’স্ফো’র’ক দা’বি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের

চিরঞ্জিত উপলব্ধি করেন ইন্ডাস্ট্রিতে স’ম্প’র্ক’গু’লো প্রায়ই স্বা’র্থ’নি’র্ভ’র। তিনি বলেন- “আমি তো তখন ডিরেক্টর, স্ক্রিপ্ট রাইটার, টপ হিরো…তাই আমার কাছে যারা আসত, বুঝতাম ওটা শুধু ভা’লো’বা’সা নয়, কিছু পাওয়ার আশা করছে।” বন্ধুত্ব নিয়েও তাঁর পরিষ্কার বক্তব্য “সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ওইরকম বন্ধু হয় না। প্রত্যেকের কিছু উদ্দেশ্য থাকে।” তবে ব্য’তি’ক্র’ম হিসেবে তিনি অভিনেত্রী শতাব্দী রায় (Satabdi Roy) -এর কথা উল্লেখ করেন-“ওঁর সঙ্গে খুব ভালো বন্ধুত্ব আছে। ফোন করলেই ক্যাহ্ করে হেসে ওঠে – খুব মজা।”

ইন্ডাস্ট্রি থেকে কিছুটা দূ’রে স’রে আসা, বয়স সব মিলিয়ে জীবন এখন অনেক নিঃ’শ’ব্দ। তিনি আ’ক্ষে’প করেন- “আগে যত টেলিফোন পেতাম, এখন আর সেগুলো আসে না।” তবুও তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখেন।
পারমিতা মুন্সী পরিচালিত তাঁর নতুন ছবি ‘হেমা মালিনী’ নিয়ে তিনি উ’চ্ছ্ব’সি’ত। তবে উ’ত্তে’জ’না’র ধরন এখন ভি’ন্ন। এ ছবিতে তাঁকে সবচেয়ে বেশি টেনেছে বাবা-মেয়ের স’ম্প’র্কে’র গ”ভী’র’তা।

বাংলা সিনেমার অভিজ্ঞ এই অভিনেতা তাঁর কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত দর্শন নিয়ে খো’লা’মে’লাভাবেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি নিজেকে ফিল্ম দুনিয়ায় একজন ‘লো-প্রোফাইল’ মানুষ হিসেবে দেখেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য বা উ’চ্চা’কা’ঙ্ক্ষা কেবল অভিনয় নয়। এই কারণেই তাঁর মধ্যে কোনো ধরনের লোক দেখানো ভাব (Show-off) নেই।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তিনি নিজে কখনও কোনো পরিচালক বা প্রযোজকের কাছে কাজের জন্য হাত পাতেননি।তিনি বলেন “আমি তো কারোর কাছে ছবি চাইনি জীবনে, কখনও। প্রথম ছবি থেকে কখনও কারোর কাছে… ডিরেক্টর-প্রডিউসার কারোর কাছে আমি ছবি চাইনি।” তিনি কখনও কারও কাছে সেকেন্ড লিড বা চরিত্রের অ’নু’রো’ধ’ও করেননি।
এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি কখনও সেকেন্ড লিড বা পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য কাউকে বলেননি। এমনকি বড় তারকাদেরও কখনও অ’নু’রো’ধ করেননি তাঁকে কোনো চরিত্রে নেওয়ার জন্য।
ব্যক্তিগত দর্শনের জায়গায় এসে তিনি খুব সোজাসাপ্টাভাবে জানান, তিনি চিরঞ্জিৎ হওয়ার জন্য বা’ড়’তি কিছু করেননি। তাঁর কথায়, “চিরঞ্জিৎ-এর জন্য আমি কিছু করিনি, এটা কিন্তু একদম শিওর।” বরং তিনি বিভিন্ন প’রি’স্থি’তি’র কাছে কৃ’ত’জ্ঞ এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি সঠিক প’রা’ম’র্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন মাত্র।

আরও পড়ুন:Alka Yagnik:এক ছাদের নীচে না থেকেও ৩৫ বছর! তবু কীভাবে টিকে আছে অলকা ইয়াগনিকের সংসার?

চিরঞ্জিত চক্রবর্তী- অভিনেতা,পরিচালক, তারকা – তবু তিনি নিজেকে সবচেয়ে আগে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই দেখেন। অভিনয় জীবনের জয়-প’রা’জ’য়, সাফল্য, প্র’ত্যা’শা, স’ম্প’র্ক ও স্মৃতির ভাঁ’জ খু’লে তিনি যেন জানালেন যে খ্যাতি আসে, খ্যাতি সরে যায় কিন্তু মানুষ থেকে যায় তার অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধে।

Leave a Comment