Ambarish-Rajannya:ধারাবাহিকের জগতে একই অভিনেতা-অভিনেত্রীকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখা নতুন নয়। কিন্তু একসঙ্গে চলা একই চ্যানেলের দুই সিরিয়ালে যখন একই জুটি একদিকে স্বামী-স্ত্রী, আর অন্যদিকে বাবা-মেয়ে তখন দর্শকের বিভ্রান্তি স্বাভাবিকভাবেই তুঙ্গে ওঠে। সম্প্রতি ঠিক এমনই এক কাস্টিং সিদ্ধান্ত ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা, এমনকি ক’টা’ক্ষও।
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন অম্বরীশ ভট্টাচার্য (Ambarish Bhattacharya)ও রাজন্যা মিত্র(Rajannya Mitra)। বর্তমানে তাঁরা স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরসখা’(Chiroshokha)-য় স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন। সেখানে তাঁদের রসায়ন দর্শকমহলে যথেষ্ট প্রশংসিত। বহুদিন ধরেই গল্পের প্রয়োজনে তাঁরা পর্দায় একে অপরের জীবনসঙ্গী। ‘কুর্চি-অয়ন’-এর জুটি হিসেবে দু’জনকে বেশ মানিয়েছে বলেই মত অনেকের।
কিন্তু সমস্যার সূত্রপাত অন্য জায়গায়। সম্প্রতি ষ্টার জলসায় নতুন করে শুরু হয়েছে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’(Bhole Baba Paar Karega)। এই ধারাবাহিকে আবার অম্বরীশকেই দেখা যাচ্ছে রাজন্যার বাবার চরিত্রে। অর্থাৎ, এক চ্যানেলে যাঁরা দম্পতি, সেই চ্যানেলে তাঁরাই বাবা-মেয়ে! এই হঠাৎ সম্পর্ক বদল সহজভাবে নিতে পারছেন না অনেক দর্শক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দর্শক লিখেছেন, “চিরসখার জুটি ভোলে বাবাতে বাপ-বেটি এটা সত্যিই মানতে কষ্ট হচ্ছে। অন্তত কিছুদিন অপেক্ষা করে এমন কাস্টিং করা যেত। চিরসখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজন্যাকে এই চরিত্রে না ভাবলেও পারত।” এমন মতামত এখন একাধিক প্ল্যাটফর্মে ঘুরছে। কেউ কেউ আবার সরাসরি চ্যানেলের সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। কটাক্ষ করে অনেকে লিখছেন, “জি কাকুর মাথা গিয়েছে নাকি?”
অবশ্য এই প্রথম নয় যে অম্বরীশ-রাজন্যা ভিন্ন সম্পর্কের চরিত্রে একসঙ্গে কাজ করছেন। স্বামী-স্ত্রীর আগে তাঁদের কাকা শ্বশুর-বউমা হিসেবেও দেখা গিয়েছিল। ফলে সম্পর্কের বদল তাঁদের কেরিয়ারে নতুন কিছু নয়। তবু এবার বিষয়টি আলাদা, কারণ দুটি ধারাবাহিকই একই চ্যানেলে সম্প্রচারিত হচ্ছে এবং দুই ধারাবাহিকেই তাঁদের উপস্থিতি প্রায় সমসাময়িক। ফলে দর্শকের মনে তৈরি হচ্ছে দ্বৈত চিত্র একদিকে রোম্যান্টিক দম্পতি, অন্যদিকে স্নেহময় পিতা ও কন্যা।
টেলিভিশনের দর্শক সাধারণত চরিত্রের সঙ্গে আবেগগতভাবে জড়িয়ে পড়েন। একটি সিরিয়ালে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্ক হঠাৎ অন্য ধারাবাহিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে হাজির হলে সেই আবেগে ধাক্কা লাগা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যখন এক চ্যানেল এর একটি ধারাবাহিকে দু’জনের ঘনিষ্ঠ দাম্পত্য দেখানো হচ্ছে, আর অন্য ধারাবাহিকে তাঁদের সম্পর্ক রক্তের তখন গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
অন্যদিকে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকটিকে ঘিরেও রয়েছে একাধিক পরিবর্তনের ইতিহাস। প্রথমদিকে এই সিরিয়ালে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন নীল ভট্টাচার্য (Neel Bhattacharya)ও মধুমিতা সরকার(Madhumita Sarcar)। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী দর্শকমনে সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি ধারাবাহিকটি। টিআরপি তালিকাতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। ফলে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বড় সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রথমে সময় বদল করা হয় সন্ধ্যা ৫.৩০টার স্লট থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় রাতের ১০. ৩০টার স্লটে। তারপর আসে আরও বড় পরিবর্তন। বাদ পড়েন নীল ও মধুমিতা। তাঁদের জায়গায় আনা হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়(Rahul Arunoday Banerjee ), সিদ্ধার্থ সেন (Siddarth Sen)ও শ্বেতা মিশ্র(Sweta Mishra)-কে। নতুন মুখ, নতুন সময় সব মিলিয়ে ধারাবাহিকটিকে নতুনভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালানো হয়।
এই পরিবর্তনের সঙ্গেই যুক্ত হন অম্বরীশ ও রাজন্যা। কিন্তু এখানেই তৈরি হয় বিতর্কের মাটি। কারণ, ‘চিরসখা’ তখনও চলমান এবং সেখানে তাঁদের দাম্পত্য রসায়ন দর্শক উপভোগ করছেন। ঠিক সেই সময়েই ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-তে বাবা-মেয়ের চরিত্রে তাঁদের কাস্টিং অনেকের কাছেই হঠাৎ এবং বেমানান মনে হয়েছে।
তবে একাংশের মতে, অভিনয় জগতে শিল্পীদের পেশাদারিত্বকে আলাদা করে দেখা উচিত। একজন অভিনেতা বিভিন্ন প্রকল্পে ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতেই পারেন এটাই তাঁর কাজ। একই সময়ে একাধিক ধারাবাহিকে ভিন্ন সম্পর্কের চরিত্রে অভিনয় করা আইনি বা পেশাগতভাবে অস্বাভাবিক নয়। বরং এতে তাঁদের অভিনয় দক্ষতার বহুমাত্রিকতা ফুটে ওঠে।
কিন্তু বাস্তবতা হল, টেলিভিশনের দর্শক এখনও চরিত্রকে অভিনেতার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে দৈনিক ধারাবাহিকে দীর্ঘদিন ধরে একই সম্পর্ক দেখে অভ্যস্ত দর্শক হঠাৎ সেই সমীকরণ ভেঙে গেলে মানসিকভাবে খানিক অস্বস্তিতে পড়েন। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষো’ভ, ক’টা’ক্ষ, প্রশ্ন সবই একসঙ্গে সামনে আসছে।
এই বিতর্ক আদতে কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা সময়ই বলবে। হয়ত গল্পের মোড়, অভিনয়ের জোর বা দর্শকের অভ্যাস সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আবার এটাও হতে পারে, টিআরপি(TRP)-র লড়াইয়ে এমন কাস্টিং সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও সতর্কভাবে নেওয়া হবে।
তবে আপাতত বলা যায়, ‘স্বামী-স্ত্রী’ থেকে ‘বাবা-মেয়ে’ এক জুটির এই রূপান্তর টেলিভিশন মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। চ্যানেলের সিদ্ধান্তকে ঘিরে যেমন সমালোচনা চলছে, তেমনই নজরও রয়েছে এই সাহসী কাস্টিং শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।