Debojyoti-Soumi:“আই লাভ ইউ নয়, সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব!” – প্রেমের সপ্তাহে দেবজ্যোতি-সৌমির খোলামেলা স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় টলিপাড়া

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Debojyoti-Soumi: টলিপাড়ার প্রেম মানেই দর্শকদের বাড়তি কৌতূহল। রিল লাইফে রসায়ন জমলে ভক্তরা অপেক্ষা করেন, সেই সম্পর্ক বাস্তবেও কতটা গভীর হয় তা জানার জন্য। ছোট পর্দার জনপ্রিয় জুটি দেবজ্যোতি রায় চৌধুরী(Debojyoti Roy Chowdhury) ও সৌমি চক্রবর্তী(Soumi Chakraborty) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে এমন সব কথা বললেন, যা শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে নেটদুনিয়ায়। ফেব্রুয়ারির প্রেমের সপ্তাহে তাঁদের অকপট আড্ডা যেন আরও রঙিন করে তুলল ভালোবাসার আবহ।

সাধারণত প্রেম নিবেদনের ক্ষেত্রে থাকে কিছু চেনা ছক হাঁটু গেড়ে বসে ‘আই লাভ ইউ’, হাতে ফুল বা দামী উপহার। কিন্তু দেবজ্যোতির ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল একেবারেই আলাদা। তিনি নিজেই জানালেন, কোনও নাটকীয়তা বা দীর্ঘ প্রেমালাপ নয়, একেবারে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সৌমিকে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি প্রচলিত অর্থে প্রপোজ করেননি বরং সোজাসাপটা প্রশ্ন করেছিলেন সে কি বিয়েতে আগ্রহী? তিনি তাঁকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান। তাঁর কথায়,”আমি ওরকম প্রপোজ করিনি, আমি ডিরেক্ট বিয়ের জন্য বলেছিলাম, তুই কি ইন্টারেস্টেড আছিস? আমি তোকে বিয়ে করতে চাই।” সৌমিও হাসিমুখে সেই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তাঁর কথায়, কোনও রোম্যান্টিক সংলাপ নয়, সরাসরি ভবিষ্যৎ একসঙ্গে কাটানোর প্রস্তাবই এসেছিল দেবজ্যোতির কাছ থেকে।

তাঁদের সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল একটি ধারাবাহিকের সেটে। ‘নিমফুলের মধু’(Neem Phooler Madhu) সিরিয়ালের শুটিং চলাকালীন প্রথম আলাপ। দেবজ্যোতি সেখানে বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়েছিলেন। প্রথম দেখার অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে গিয়ে দেবজ্যোতি মজার সুরেই বলেন, শুরুতে খুব একটা গুরুত্ব দেননি শৌমিকে। পাল্টা সৌমির রসিক জবাব তিনি নাকি চিনতেই পারেননি দেবজ্যোতিকে! সেই হালকা খুনসুটি থেকেই বোঝা যায়, সম্পর্কের ভিতটা ছিল বন্ধুত্ব আর স্বচ্ছতার উপর দাঁড়িয়ে।

তবে তাঁদের জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্তের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন দেবজ্যোতি। ধারাবাহিকের একটি দৃশ্যে তাঁকে সৌমির সিঁথিতে সিঁদুর পরাতে হয়েছিল। সেই অভিনয়ের মুহূর্তেই নাকি তাঁর মনে অদ্ভুত এক অনুভূতি জন্ম নেয়। তিনি ভাবতে শুরু করেন, যদি এই দৃশ্যটা সত্যি হতো, যদি এই সিঁদুর পরানো বাস্তবের বিয়ের অংশ হতো, তাহলে কেমন হতো! তাঁর কথায়,”এই সিঁদুরটাই যদি আসল হতো, যদি সত্যি বিয়েটা হতো তাহলে মন্দ হতো না।” সেই অনুভূতিই পরে তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল মনের কথা জানাতে। সৌমি প্রস্তাবে সম্মতি জানানোর পর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই দুই পরিবারে আলোচনা শুরু হয়ে যায় এবং সম্পর্কটি আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে সময় লাগেনি।

আরও পড়ুন:Sonalee Chaudhuri:”যতটা ভাবিনি, ততটাই পেয়ে গেছি…ভেবেছিলাম অনেক কাজ করব, কিন্তু তা হয়নি” – বড়পর্দা নিয়ে না-পাওয়ার গল্পে কি লুকিয়ে আক্ষেপ? মুখ খুললেন সোনালী চোধুরী

কে বেশি রোম্যান্টিক? এই প্রশ্ন উঠতেই সৌমি আঙুল তোলেন দেবজ্যোতির দিকে। অভিনেতাও তা অস্বীকার করেননি। কেন একে অপরকে পছন্দ করলেন? সে প্রশ্নে দেবজ্যোতি বলেন, সৌমির সরলতা ও মিষ্টি হাসি তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। তবে তার থেকেও বড় বিষয়, তাঁর মনে হয়েছিল সৌমি তাঁর জীবনের হাল ধরতে পারবেন। তাঁর কথায়,”ওঁর ইনোসেন্স আর সুন্দর হাসি তো আছেই, তবে আমার মনে হয়েছে ওঁ আমার ‘হাল’ ধরতে পারবে।” অন্যদিকে সৌমির মতে, দেবজ্যোতি বাইরে থেকে শান্ত স্বভাবের হলেও তাঁর না-বলা অনুভূতিগুলো সহজেই বুঝে নিতে পারেন। এই বোঝাপড়াটাই তাঁদের সম্পর্কের ভিতকে আরও মজবুত করেছে।

পর্দায় বিয়ের দৃশ্য শ্যুট করার সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়েও উঠে আসে নানা কথা। দেবজ্যোতি জানান, সিঁদুর পরানোর সময় তিনি যথেষ্ট স্নায়ুচাপে ছিলেন। তাঁর দাবি, সৌমির হাত কাঁপছিল থরথর করে। যদিও সৌমির বক্তব্য, সেই মুহূর্তে দেবজ্যোতিও কম আবেগপ্রবণ ছিলেন না। দৃশ্যের আবহ, সংলাপ, ক্যামেরা সব মিলিয়ে সেটের পরিবেশই যেন বাস্তবের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল তাঁদের মধ্যে।

আরও পড়ুন:Swarna Kamal Dutta:“সব ছেড়ে সংসার বেছে নিয়েছিলাম, তবু এ’কা!”, “মেয়ে আমার থেকেও বেশি সুন্দর..এই দুনিয়ায় ওকে নিয়ে ভ’য় পাই!”— স্বর্ণকমলের অকপট স্বীকারোক্তি

রাগের প্রসঙ্গ উঠতেই শুরু হয় আরেক দফা মজার খুনসুটি। দেবজ্যোতির মতে, সৌমি অল্পতেই রেগে যান। দিনে কয়েকবার তাঁর রাগ হতে পারে, যদিও তা দীর্ঘস্থায়ী নয়। নিজেকে তিনি তুলনামূলকভাবে কম রাগী বলে দাবি করেন, তবে তাঁর রাগ নাকি খুব তীব্র হয়। ঝগড়ার পর সৌমি কীভাবে ‘সরি’ বলেন, তা নিয়েও মস্করা করতে ছাড়েননি তিনি। দেবজ্যোতির দাবি, মুখে ‘সরি’ থাকলেও তার মধ্যে খানিকটা অভিমান লুকিয়ে থাকে। তবে শৌমির কথায়, রাগ বেশিক্ষণ ধরে রাখা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কিছুক্ষণ পরেই সব ভুলে যান, কারণ প্রিয় মানুষটির উপর দীর্ঘ সময় অভিমান করে থাকা তাঁর পক্ষে কঠিন।

বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন দেবজ্যোতি। পরিবার থেকে তাড়াতাড়ি বিয়ে সেরে ফেলার কথা বলা হলেও, দুজনেই আপাতত ক্যারিয়ারকে প্রাধান্য দিতে চান। তাঁর কথায়,”বাড়ি থেকে সবাই বলছে তাড়াতাড়ি বিয়েটা সেরে ফেলতে। কিন্তু আমাদের দুজনেরই ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক স্বপ্ন আছে। আমরা একটা স্ট্যাবল পজিশনে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই।” তাঁদের মতে, জীবনে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছনোর পরই বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তাই তাড়াহুড়ো নয়, বরং সময় নিয়ে এগোতেই স্বচ্ছন্দ তাঁরা। বর্তমানে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

সাক্ষাৎকারে আরও উঠে আসে তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত। এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে না চাইলেও, বিয়ের পর আরও বড় পরিসরে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন এই জুটি। কে কাকে বেশি ভালোবাসেন এমন প্রশ্নে সরাসরি উত্তর না দিয়ে সৌমি লাজুক হাসিতে সঙ্গীর দিকে তাকিয়ে ইঙ্গিত দেন, ভালোবাসার পাল্লা কোন দিকে ভারী।

আড্ডার সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে যখন দেবজ্যোতি নিজের ক্যারিয়ার আর সম্পর্কের তুলনা টানেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি গোটা ধারাবাহিক করে যে অর্থ বা জনপ্রিয়তা তিনি পেয়েছেন, তার থেকেও বড় প্রাপ্তি তাঁর জীবনে সৌমির আগমন। মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যেমন সৌভাগ্যের, তেমনই প্রিয় মানুষকে সারাজীবনের জন্য পাশে পাওয়া তার থেকেও বড় আশীর্বাদ এমনই মত তাঁর। এই মন্তব্যই যেন সাক্ষাৎকারের আবেগকে চূড়ান্ত উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

সৌমিও সঙ্গীর গুণের কথা বলতে কার্পণ্য করেননি। তাঁর মতে, দেবজ্যোতি শুধু দক্ষ অভিনেতাই নন, একজন ভালো লেখকও। সম্পর্কের শুরুর দিনগুলিতে দেবজ্যোতি তাঁকে একটি কবিতা লিখে পাঠিয়েছিলেন। সেই কবিতার ভাষা ও অনুভূতি দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। যদিও দেবজ্যোতি মজা করে স্বীকার করেন, সেই কবিতার উদ্দেশ্য ছিল শৌমিকে ‘ইমপ্রেস’ করা। তবুও সেই লেখার মধ্যেই ফুটে উঠেছিল তাঁর অনুভবের গভীরতা।

আরও পড়ুন:Debolinaa Nandy:‘ম**রে গেলাম না কেন?’- ট্রো’লিং’য়ে ক্ষু’ব্ধ দেবলীনা, এটা আমার ভাড়া করা দিদি নয়, নাম নিতে চাই না… বেকার ফুটেজ নয়, লিখিত চুক্তি ছাড়া আর কাজ নয়…”, ১৫ জানুয়ারির পরেই মঞ্চে ফেরার ঘোষণা! দিদিকে নিয়ে করা কুমন্তব্যের সাথে নানান মানুষের অভিযোগের জবাব দিলেন দেবলীনা

সম্পর্কে রাগ, অভিমান, খুনসুটি সবই রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভালোবাসাই জয়ী হয়। সৌমির কথায়, তিনি মাঝেমধ্যে রেগে যান ঠিকই, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সব ভুলে যান। কারণ, এই মানুষটির উপর বেশিক্ষণ রাগ ধরে রাখা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। দেবজ্যোতিও মানেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বোঝাপড়া আর শ্রদ্ধাবোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রিল লাইফে যাঁদের রসায়ন দর্শকদের মন জয় করেছিল, রিয়েল লাইফেও সেই মধুরতা অটুট। সহজ-সরল, অহংকারহীন এই প্রেমকাহিনি ইতিমধ্যেই নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনুরাগীরা এখন অপেক্ষা করছেন কবে পর্দার এই জুটি বাস্তবেও বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। তবে আপাতত তাঁরা নিজেদের স্বপ্নপূরণে ব্যস্ত, পাশাপাশি ভালোবাসার সম্পর্কটিকেও সমান যত্নে লালন করছেন।

প্রেমের সপ্তাহে তাঁদের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি যেন প্রমাণ করে দিল ভালোবাসার জন্য সবসময় নাটকীয় প্রস্তাবের প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও সরল একটি প্রশ্ন, “তুই কি ইন্টারেস্টেড? আমি তোকে বিয়ে করতে চাই”, এই একটি কথা, হয়েই উঠতে পারে আজীবনের সম্পর্কের ভিত্তি। আর সেই সরলতাই হয়ত দেবজ্যোতি ও সৌমির সম্পর্ককে করেছে এতটা আলাদা, এতটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment