Debolina Nandy:“ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত আমার…! জাস্ট অ্যাভয়েড করে এগোতে হবে…সায়ক ব্লগ করে, আমিও করি, সেই জন্যই… সেকেন্ড চান্স লাইফে… “—বিচ্ছেদ, ট্রোলিং ও সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দেবলীনা নন্দীর

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Debolina Nandy: সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানসিক পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন দেবলীনা নন্দী(Debolina Nandy)। জীবনের নানা অভিজ্ঞতা কীভাবে তাঁকে বদলে দিয়েছে, কীভাবে কঠিন সময় পার করে তিনি নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাইছেন সেই সব দিকই উঠে এসেছে তাঁর কথায়। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোলিং, বন্ধুত্ব নিয়ে বিতর্ক এবং প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়েও স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই দেবলীনা জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। জীবনের কিছু কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, “অনেক কিছু শিখেছি। ভরসা করতে গেলে একটু ভাবা, বিশ্বাস করার আগে ভাবা…” অর্থাৎ, আগে যেখানে হয়ত সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করতেন, এখন সেখানে তিনি অনেক বেশি সতর্ক। তাঁর মতে, জীবন মানুষকে এমন কিছু পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করায়, যেখানে নিজের ভুলগুলোও উপলব্ধি করা যায় এবং সেই ভুল থেকেই শেখা যায়।

একই সঙ্গে এখন নিজের এবং নিজের পরিবারের প্রতি বেশি মনোযোগী হতে চান বলেও জানিয়েছেন দেবলীনা। অতীতের অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়েছে, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি পরিবারই। তাই এখন তিনি নিজের সময় এবং মানসিক শক্তি সেই মানুষগুলোর জন্য ব্যয় করতে চান যারা সত্যিই তাঁকে ভালোবাসে। তাঁর কথায়, “নিজেকে প্রায়োরিটি দেওয়া, নিজের ফ্যামিলি মেম্বারকে প্রায়োরিটি দেওয়া, যারা তোমাকে ভালোবাসে তাদের জন্য ভাবা।”
তিনি মনে করেন, জীবনে সব সিদ্ধান্তই শুধু নিজের জন্য নয়, এর প্রভাব পড়ে পরিবারের ওপরও। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এখন তিনি অনেক বেশি ভেবে দেখেন। দেবলীনা বলেন, “কিছু করার আগে দশবার ভাবা। কারণ সবারই ফ্যামিলি থাকে পেছনে… আল্টিমেটলি ফেস ফ্যামিলিকেই করতে হয়।” অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তিগত ঘটনার প্রতিক্রিয়া বা ফলাফল শেষ পর্যন্ত পরিবারকেই সামলাতে হয় এই উপলব্ধিই তাঁকে আরও সচেতন করে তুলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং নিয়েও দেবলীনার বক্তব্য যথেষ্ট স্পষ্ট। বর্তমান সময়ে জনপ্রিয়তা মানেই প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও। তিনি মনে করেন, এই দুই দিককেই গ্রহণ করতে শিখতে হবে। তাঁর মতে, “পজিটিভ দিকটা নিতে গেলে নেগেটিভটাও নিতে হবে। জাস্ট অ্যাভয়েড করে এগোতে হবে। লোকে বলবেই, খারাপও বলবে, ভালোও বলবে।”
দেবলীনা বোঝাতে চান যে সোশ্যাল মিডিয়ার মন্তব্যকে জীবনের একমাত্র সত্য হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। সমালোচনা বা ট্রোলিংকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের লক্ষ্য ও কাজের দিকে মনোযোগ রাখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ। এই বিষয়ে দেবলীনা স্পষ্টভাবে জানান, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত তিনি একা নেননি। তাঁর কথায়, “সেপারেশনের এই সিদ্ধান্তটা তো আমার নেওয়া নয়, এটা অপজিট (বিপরীত পক্ষ) নিয়েছে। আমি চাই ও যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক।”

আরও পড়ুন:Sudipta Chakraborty:”হাসতে হাসতে মালা দিচ্ছেন নিশ্চয়ই দুঃখে পাগল হয়ে গেছেন…হাসতে হাসতে শেষ শ্রদ্ধা!” – প্রয়াত অভিনেতার দেহের সামনে সুদীপ্তার ভিডিওতে উত্তাল নেটদুনিয়া

এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায় যে বিচ্ছেদ নিয়ে তিনি তিক্ততার পথে হাঁটতে চান না। বরং অতীতের সম্পর্ককে সম্মান জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে চাইছেন। তাঁর বক্তব্যে এক ধরনের পরিণত মানসিকতা স্পষ্ট যেখানে ব্যক্তিগত কষ্ট থাকলেও তিনি অন্যের মঙ্গল কামনাই করেছেন।
সম্প্রতি সায়ক চক্রবর্তী(Sayak Chakraborty)-কে নিয়ে যে গুঞ্জন বা আলোচনা তৈরি হয়েছিল।প্রসঙ্গত, দেবলীনা আত্মহত্যার চেষ্টা করার ঘটনার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সায়ককে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেন, প্রবাহ ও দেবলীনার সম্পর্কের অবনতির পেছনে নাকি সায়কের ভূমিকা রয়েছে। এমনকী, সবকিছু জেনেও কোনও স্বামীর পক্ষে স্ত্রীর এমন ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেটিজেনদের একাংশ। সেটি নিয়েও দেবলীনা মুখ খুলেছেন তাঁর মতে, বন্ধুত্বকে নিয়ে অযথা প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। তিনি জানান, সায়ক চক্রবর্তী ব্লগ করেন এবং তিনিও ব্লগ করেন এই কারণেই অনেক সময় তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। কিন্তু সেই সম্পর্ক নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা তাঁর ভালো লাগে না। দেবলীনার কথায়, “ও ব্লগ করে, আমিও করি, সেই জন্যই ও সামনে আসে। বন্ধুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা আমার পছন্দ না।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে সব সম্পর্ককে প্রেম বা ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। বন্ধুত্বের জায়গাটিও সম্মানের সঙ্গে দেখা দরকার।
সাক্ষাৎকারে দেবলীনা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন মনের কথা চেপে না রেখে তা অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা। তিনি মনে করেন, অনেক সময় মানুষ নিজের সমস্যাগুলো ভিতরে জমিয়ে রাখে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দেবলীনা বলেন, “শেয়ার করো, কথা বলো, কথা বলা উচিত। যেটা আমি করিনি বলে আমার এই সমস্যাটা হয়েছিল, বাট কথা বলা উচিত। শেয়ারের লোক দরকার। শেয়ার করো, মন খুলে কথা বলো।”

আরও পড়ুন:Aritra-Koel:”ইন্ডাস্ট্রির আর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এক করে দেখতে চাই না…পলিটিক্স একটা ফুল টাইম ইনভলবমেন্ট…পিঠে ছুরি মারার জন্য হাজারটা ছুরি অলরেডি তৈরি হয়ে আছে”- নায়িকা থেকে রাজনীতি—কোয়েলকে ঘিরে বিতর্ক! ‘দুর্নীতির বোঝা কি কাঁধে নেবেন?’ প্রশ্ন তুললেন অরিত্র দত্ত বণিক

এই কথার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে মানসিক চাপ বা সমস্যার সময় কাউকে বিশ্বাস করে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে পরিস্থিতি অনেক সহজ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা প্রয়োজন। হঠকারিতা অনেক সময় জীবনে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে বারবার ভাবা দরকার। দেবলীনার কথায়, “নিজেই যদি নিজেকে ১০ বার কোশ্চেন করো, তাহলে যেকোনো ডিসিশন নেওয়ার আগে হয়ত একটু হলেও আটকাবে।”
জীবনের কঠিন বাস্তবতা নিয়েও তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন। তাঁর মতে, জীবনে সবসময় দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়া যায় না। অনেকেই আশা করেন যে ভুল করলে আবার নতুন করে সব শুরু করা যাবে, কিন্তু বাস্তবতা সবসময় তেমন হয় না। দেবলীনা বলেন, “জীবনটা তো একটাই, ওটা গেলে আর আসেনা। সেকেন্ড চান্সটা সবার কপালে থাকে না, যাদের কপাল ভালো থাকে তারা পেয়ে যায়… সেকেন্ড চান্স সবার লাইফে আসে না, আর এক্সপেক্ট করাও ভুল।”

এছাড়াও তিনি স্বীকার করেছেন যে মানুষের অভ্যাস বা মানসিকতা বদলানো সহজ নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। দেবলীনা বলেন, “মানুষ তো, রোবট তো নই। অভ্যাস বদলাতে সময় লাগে। বদলাবে নিশ্চয়ই, তবে এখন তো সময় লাগবে।”
সাক্ষাৎকারে দর্শকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। অনেকেই তাঁর ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁকে বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করেছেন এই বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেন। তাঁর কথায়, “প্রত্যেককে বলব থ্যাংক ইউ… আমাকে রিলাইজ করানোর জন্য যে আমি যেটা করছিলাম সেটা ভুল। আমার সামনে এখনো অনেকটা পথ বাকি, অনেক কিছু করা বাকি রয়েছে।”
সবশেষে দেবলীনা বলেন, নিজের এবং পরিবারের সম্মানের জন্য লড়াই করা ভুল নয়। অনেক সময় মানুষ শান্তি বজায় রাখার জন্য সবকিছু চুপ করে মেনে নেয়। কিন্তু তাঁর মতে, এতে আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, “নিজের জন্য লড়াই বা ফ্যামিলির জন্য লড়াই করাটা খারাপ নয়। সবকিছু যদি চুপ করে মেনে নেওয়া যায়… সেটা নিজের সেলফ রেসপেক্ট বা ফ্যামিলি সেলফ রেসপেক্টকেও হার্ম করে। কথা বলা উচিত।”

আরও পড়ুন:Sohini Guha Roy:বিচ্ছেদের ঝড়েই কি কেরিয়ার থমকে? অবশেষে মুখ খুললেন সোহিনী গুহ রায়, “পেশাজীবন আর ব্যক্তিজীবন আলাদা রাখা….”

সব মিলিয়ে এই সাক্ষাৎকারে দেবলীনা নন্দীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, জীবনের কঠিন সময় তাঁকে অনেক বেশি পরিণত করে তুলেছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচনা এবং নানা বিতর্কের মধ্য দিয়েও তিনি এখন নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর কথায় যেমন আত্মসমালোচনার সুর রয়েছে, তেমনই রয়েছে আত্মসম্মান এবং মানসিক শক্তির বার্তাও।

Leave a Comment