Dev:সাম্প্রতিক এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকারে টলিউড সুপারস্টার দেব তাঁর আসন্ন ছবি ‘দেশু ৭’-কে ঘিরে এমন কিছু বি’স্ফো’র’ক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন, যা কার্যত বাংলা সিনেমার প্রচলিত নিয়মকানুনকেই চ্যা’লে’ঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। অগ্রিম টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ ল’ড়া’ই, ষ’ড়’য’ন্ত্রে’র অ’ভি’যো’গ, দর্শকদের সঙ্গে পার্টনারশিপ সব মিলিয়ে এই সাক্ষাৎকার এখন শুধুই একটি সিনেমার প্রচার নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বড় বক্তব্য।
দেব(Dev) জানান, ‘দেশু ৭’(Deshu7) মুক্তির প্রায় ১০ মাস আগেই অগ্রিম টিকিট বুকিং শুরু হয়েছে, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। তাঁর কথায়, এত আগে কোনো ছবির জন্য দর্শকের এমন প্রতিক্রিয়া তিনি আগে দেখেননি। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন,
“মাত্র ৪ মিনিটে মুর্শিদাবাদের একটি সিনেমা হল সোল্ড আউট হয়ে গেছে।”
এখানেই শেষ নয় একাধিক হল মালিক নাকি নিজেরাই অগ্রিম বুকিংয়ের জন্য দেবের টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
দেবের মতে, এটি কেবল একটি বক্স অফিস সংখ্যা নয়, বরং দর্শকদের বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিফলন।তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন,“দর্শক নন, আপনারাই আমাদের পার্টনার”
অগ্রিম টিকিট কাটা দর্শকদের উদ্দ্যেশ্যে দেবের বক্তব্য ছিল আবেগঘন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, যারা এত আগে টিকিট কিনেছেন, তারা কেবল দর্শক নন তাঁর কথায়, “আপনারাই দেশু ৭-এর মেইন পার্টনার। তোমরাই আসল প্রোডিউসার।”
শুটিং শুরু হওয়ার আগেই দর্শকদের এই সমর্থনে তিনি আপ্লুত। দেব জানান, এই ভালোবাসা তাঁকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। তাঁর ভাষায়, ছবির কাজ শুরু হওয়ার আগেই এমন সমর্থন পাওয়া মানে প্রত্যাশার চাপ অনেকটাই বেড়ে যাওয়া।
এই সাফল্যকে দেব শুধুমাত্র নিজের কৃতিত্ব হিসেবে দেখতে চান না। তাঁর মতে, এটি পুরো বাংলা ইন্ডাস্ট্রির গর্ব।
তিনি বলেন, “বাংলা ছবি এমন কিছু করে দেখাল, যেটা ভারতবর্ষের জন্য একটা ইতিহাস হয়ে থাকবে।”
দেব আরও দাবি করেন, যেখানে দক্ষিণ ভারত বা মুম্বইয়ের সিনেমা মুক্তির এক মাস আগে হাউজফুল হওয়ার খবর শোনা যায়, সেখানে বাংলা সিনেমা ১০ মাস আগেই হাউজফুল এটিই যথেষ্ট বড় বার্তা।
এই উন্মাদনার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো শো-এর সময়। দেব বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, এটি কোনো প্রাইম টাইম শো নয়।তিনি বলেন,“সকাল সাড়ে ৭টার শো। অনেক সময় এই সময় হলই খোলে না।”
তিনি পরিষ্কার করে দেন, এটি কোনো স্টারডম দেখানোর চেষ্টা নয়। দুপুর ১২টা বা বিকেল ৪টার শো চাইলে হয়ত সহজ হতো, কিন্তু তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন সময় বেছে নিয়েছেন, যা আগে বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন।
দেব জানান, এই পরিকল্পনা তাঁর মাথায় অনেক দিন ধরেই ছিল।
“আপনারা শুধু হাউজফুল দেখছেন, কিন্তু এটা হাউজফুল হওয়ার অনেক আগে থেকেই মাথায় চলছিল।”
বিশেষ করে দেব(Dev)-শুভশ্রী(Subhashree Ganguly)-র ফ্যানদের জন্য কিছু আলাদা করতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, দর্শকদের আবেগকে সম্মান জানানোই একজন শিল্পীর আসল দায়িত্ব।
দেব স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই উদ্যোগ কোনো আত্মপ্রচারের জন্য নয়। তিনি বলেন, “এটা দেব কত বড় স্টার, বা দেব-শুভশ্রী কত বড় হিট জুটি সেটা প্রমাণ করার জন্য নয়।”
বরং তাঁর লক্ষ্য ছিল দর্শকদের স্পেশাল ফিল করানো। এই বক্তব্য অনেকের কাছেই ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত স্টার-কালচারের বিরুদ্ধে একটি বার্তা হিসেবে ধরা পড়েছে।
একটি ইভেন্টের কথা উল্লেখ করে দেব বলেন, সেদিন মানুষের চিৎকার, চোখের জল আর আবেগ তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “চেষ্টা থাকবে সিনেমাটা যেন খুব ভালো হয়।”
এই আবেগই নাকি তাঁকে বারবার মনে করিয়ে দেয়, কেন তিনি এই লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারসের তরফ থেকে তিনি আশ্বাস দেন, ভালো বাংলা ছবি উপহার দিতে কোনো খামতি রাখা হবে না। তাঁর মতে, শুধু ব্যবসা নয়, কনটেন্টের দিক থেকেও বাংলা সিনেমাকে শক্ত জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।
ইন্টারভিউয়ের একেবারে শেষে দেব কিছুটা বাস্তব ও কঠিন সত্য তুলে ধরেন।তিনি জানান, “ল’ড়া’ই’টা একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে যখন নিজেদের লোকেদের সাথেই লড়তে হয়।”
তিনি স্বীকার করেন, সামনের দিনগুলো সহজ নয়। তবে দর্শকদের আশীর্বাদ ও সমর্থন থাকলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলেও জানান।
এই ছবিতে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের অংশগ্রহণ নিয়েও দেব কথা বলেন। মাত্র ৩০ সেকেন্ডে অভিনয় করতে রাজি হয়েছেন শুভশ্রী। দেবের কথায়,“একজন ভালো বন্ধু খারাপ সময়ে পাশে দাঁড়ালে যেমন ফিল হয়, আমারও ঠিক সেই ফিলিংস।”
এই বক্তব্য আবারও তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মানের দিকটি সামনে আনে।
বর্তমান বাংলা সিনেমার পরিস্থিতি নিয়ে দেব যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। তাঁর দাবি, “আজকে সাকসেস রেশিওটা ০.০০১ শতাংশে নেমে গেছে, ১ শতাংশও নেই।”
চারদিকে বাধা, নেতিবাচকতা আর টানাপোড়েনের মধ্যেই এখন কাজ করতে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ আসে এখানেই। দেব অভিযোগ করেন, সিনেমাটি ঘিরে বিভিন্ন জায়গা থেকে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সেন্সর বোর্ড ও বুক-মাই-শো-কে ভয় দেখানো বা মেল পাঠানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন,“কালকে সেন্সর বোর্ডকে চমকানো হয়েছে… বুক-মাই-শো-কে মেল পাঠানো হয়েছে।”
এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সব প্রতিকূলতার মাঝেও দেব মনে করেন, তারা এমন কিছু করেছেন যা বাংলা ছবির ইতিহাসে গর্বের জায়গা হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, “এটা এমন একটা কাজ, যেটা নিয়ে সবার গর্ব করা উচিত।”
দেব মনে করেন, একজন বড় হলে পুরো ইন্ডাস্ট্রিই বড় হয়।
তাঁর বার্তা স্পষ্ট,“আমরা কেউ বাইরের নই। আমরা সবাই একই ইন্ডাস্ট্রির সৈনিক।”
একসঙ্গে না বাড়লে, কেউই টিকতে পারবে না।
দেব জানান, ছবির প্রথম দিনের আয়ের একটি অংশ সামাজিক কাজে ব্যয় করা হবে। শুধু তাই নয়, সেই টা’কা’র হিসাবও প্রকাশ করা হবে, কোথা থেকে কত এসেছে, কোথায় খরচ হয়েছে।
দেবের মতে, দর্শকদের টিকিট কাটার অর্থ শুধু সিনেমা দেখার জন্য নয়, বরং সমাজের ভালো কাজের অংশ হওয়া।
সাক্ষাৎকারে ‘ধূমকেতু'(Dhumketu), ‘রঘু ডাকাত'(Raghu Dakat), ‘প্রজাপতি'(Projapoti), ‘অ্যাম্বুলেন্স দাদা'(Ambulance Dada) – ভিন্ন ঘরানার কাজের উদাহরণ দিয়ে দেব বোঝান, তিনি এক জায়গায় আটকে থাকতে চান না।
সব মিলিয়ে, দেবের এই সাক্ষাৎকার শুধু ‘দেশু ৭’ নয়, বরং বাংলা সিনেমার বর্তমান বাস্তবতা, সং’ক’ট, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার একটি শক্তিশালী প্রতিফলন। বিতর্ক থাকবেই, প্রশ্ন উঠবেই কিন্তু দেব স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর ল’ড়া’ই’টা শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যতের জন্য।