Dev:অভিনেতা-প্রযোজক দেব (Dev) এবং পরিচালক অভিজিৎ সেন (Avijit Sen) তাঁদের সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘প্রজাপতি ২’-এর সাফল্য, ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান প’রি’স্থি’তি এবং আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে খো’লা’মে’লা মত প্রকাশ করেছেন। নতুন বছরের সূচনাতেই দেব দর্শকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন “প্রথমে যারা যারা আমাদের দেখছেন… সবাইকে নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।” তিনি দর্শকদের সু’স্থ’তা ও মঙ্গল কামনা করে কথোপকথনের সূচনা করেন। তাঁর মতে, নতুন বছরের শুরু মানেই দর্শকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা।
দেব জানান, ‘প্রজাপতি ২’ (Prajapoti2 ) মুক্তির পর থেকে যে ধরনের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তা তাঁকে অত্যন্ত আনন্দিত করেছে। “দারুণ লাগছে, সব বয়সের দর্শক আসছেন, ছবিটা দেখছেন, প্রশংসা করছেন” এই কথার মধ্যেই উঠে আসে সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকদের আ’বে’গ ও ভা’লো’বা’সা। দেবের মতে, শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই সিনেমাটি দর্শকদের কাছে পৌঁছেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলা সিনেমার বাজারে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন সিনেমার ব্য’ব’সা’য়ি’ক সাফল্যের কথা। দেবের ভাষায়, “শুধু কলকাতায় নয়, কলকাতার বাইরেও ১৮৪টা সিঙ্গল স্ক্রিনে সিনেমাটা লেগেছে।” বাংলা সিনেমার জন্য এটি এক বড় প্রাপ্তি বলে তিনি মনে করেন। তাঁর দাবি, এই সাফল্য শুধু একজন নির্মাতা বা নায়কের নয় এটি সমগ্র ইন্ডাস্ট্রির জয়। “সব জায়গার সিনেমা হলের মালিকের মুখে হাসি ফুটেছে” এই বক্তব্যে প্রযোজক হিসেবে তাঁর তৃপ্তি প’রি’স্ফু’ট।
সাক্ষাৎকারে দেব বড় ঘোষণা দেন ‘টনিক ২’( Tonic 2) –এর প্রসঙ্গে। তিনি জানান, “টনিক ২-এর অ্যানাউন্সমেন্ট আমরা লন্ডনে বসে ঠিক করেছিলাম।” ২০২৬ সালে বড় কোনো প্রকল্প করার কথা চিন্তা করতেই এই ধারণার জন্ম। তাঁর কথায়, “‘টনিক’ একটা অ্যাডভেঞ্চার ফ্র্যাঞ্চাইজি।” প্যারাগ্লাইডিং, রিভার রাফটিং, মাউন্টেন ক্লাইম্বিং এর মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা আবার নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে দেব স্পষ্ট করে দেন, কোনোভাবেই গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা হবে না। তাঁর দৃ’ঢ় ঘোষণা “টনিক ১-এর থেকে ১০০ গুণ ভা’লো না হলে আমরা শুটিং করব না।” দর্শকদের প্রতি দা’য়’ব’দ্ধ’তা’কে প্রাধান্য দিয়ে তিনি জানান, “টনিকের গল্পটা যেভাবে এগোচ্ছে, আমরা খুব’ আশাবাদী এবং খুব এক্সাইটেড।”
দেবের মতে, বছরের প্রথম দিনেই তিনি দর্শকদের কাছে তাঁর কাজের পরিকল্পনা স্পষ্ট করে দিতে চান। “আমি আমার বছরের প্রথম দিনে… দর্শকদের কাছে ক্লিয়ার যে আমি কী কী নিয়ে আসছি, কী কী রকমের ছবি নিয়ে আসছি” এই বক্তব্যে তাঁর পেশাদারিত্বের পরিচয় স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন ‘অ্যা’ম্বু’লে’ন্স দাদা’(Ambulance Dada) এবং ‘টনিক ২’(Tonic-2)–এর পাশাপাশি ‘খাদান ২’(Khadan-2)-এর সম্ভাবনার কথাও। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র ঘোষণা দেওয়ার জন্য কোনো ছবি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান না “গল্প এমন একটা জায়গায় চলে গেছে, যতক্ষণ না কনফিডেন্স পাচ্ছি, ততক্ষণ শুধু অ্যানাউন্স করার জন্য অ্যানাউন্স করে লাভ নেই।”
বাংলা সিনেমার বর্তমান সাফল্য প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেব তুলে ধরেন বক্স অফিসের বাস্তব চিত্র। “বক্স অফিস নম্বরের থেকে বড় কথা হলো আজকে বড় বড় হল ওনাররা টুইট করছেন যে সব শো হাউসফুল” এই মন্তব্যে তিনি জানান, দর্শকদের প্রত্যাবর্তনই এখন সবচেয়ে বড় শ’ক্তি। তিনি উদাহরণ দেন মেনকা হলের, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দি ছবির দা’প’ট থাকলেও এখন বাংলা ছবিও হাউসফুল যাচ্ছে। তাঁর মতে, এই সাড়া প্রমাণ করে দর্শক চাইলে বাংলা সিনেমা আরও বড় জায়গায় পৌঁছতে পারে।
দেব স্বীকার করেন, দর্শকদের ভা’লো’বা’সা’ই তাঁকে বড় বা’জে’ট ও নতুন ধরনের ছবির পথে হাঁটার সা’হ’স জোগাচ্ছে। তিনি বলেন, “দর্শকরা যদি সিনেমা হলে ছবি না দেখে, তবে তো নিজের ঘর থেকে কেউ ছবি বানায় না।” তাই তিনি প্রতিশ্রুতি দেন “আমরা দর্শকদের থেকে যা পেয়েছি, তা ১০ গুণ বা ১০০ গুণ বাড়িয়ে দর্শকদের ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করব।”
‘খাদান’ সিনেমা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের প্রসঙ্গে দেব স্পষ্টভাবে জানান যে শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “রানাদা এটা কোনোদিন বলেনি বা দেব এটা কোনোদিন বলেনি।” সংবাদমাধ্যমের অ’তি’র’ঞ্জি’ত রিপোর্টিং নিয়ে তিনি ক্ষো’ভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘খাদান – ২’ হবেই, তবে গল্পের দিক থেকে আরও কিছু সৃজনশীল আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। দেব বলেন, “আমরা ছেলেকে না বাবাকে কোন গল্পটা নিয়ে এগোব সেটা নিয়ে একটা ক্রিয়েটিভ কল নেওয়া হবে।” এবিষয়ে তিনি পরিচালক রামকমল (রিনো)(Ram Kamal Mukherjee)-এর সঙ্গে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক পরিবেশ প্রসঙ্গে দেব একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, টলিউড একটি ছোট ইন্ডাস্ট্রি, তাই ভেতরের ম’ত’পা’র্থ’ক্য বা ম’ত’বি’রো’ধ প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তাঁর কথায় “লাস্ট একমাস ধরে বাংলা সিনেমার প্রতি মানুষের একটা… কেমন যেন আমরা কো’ণ’ঠা’সা হয়ে যাচ্ছি… কারণ আমরা নিজেদের মধ্যে যা কথা হচ্ছে সবকটা নিউজ চ্যা’নে’ল বা নিউজ পেপারে চলে আসছে, যেটা আমার মনে হয় আশা উচিত নয়।” তিনি আহ্বান জানান ইন্ডাস্ট্রির অ’ভ্য’ন্ত’রী’ণ স’ম’স্যা নিজেদের মধ্যেই সমাধান করা হোক, কারণ এসব প্রকাশ্যে আনলে টলিউডের ভাবমূর্তি ক্ষু’ণ্ণ হয়। দেবের বার্তা “ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে যা ঝা’মে’লা বা কথাবার্তা হবে সেটা যেন নিজেদের মধ্যেই থাকে, প্রেসের মাধ্যমে যেন না বেরোয়।”
নতুন বছরের জন্য নিজের রেজোলিউশন স’ম্প’র্কে কথা বলতে গিয়ে দেব জানান, তাঁর সবচেয়ে বড় প্রার্থনা বাংলা সিনেমা যেন আরও বড় বা’ণি’জ্যি’ক সা’ফ’ল্য ছুঁতে পারে। তিনি বলেন, “বাংলা ছবি যেন ১০ কোটি টাকার বিজনেস করে, তাহলে আমার রেমুনারেশন বাড়বে আর তোমাদেরও।” তাঁর মতে, পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বড় মাপের ব্য’ব’সা করা জরুরি এতে যেমন প্রযোজক ও শিল্পী উপকৃত হবেন, তেমনি আরও বেশি কন্টেন্ট তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।
সাক্ষাৎকার জুড়ে দেবের কথায় ফুটে ওঠে একদিকে নির্মাতা হিসেবে পরিমিত আ’ত্ম’বি’শ্বা’স, অন্যদিকে শিল্পী হিসেবে গভীর দা’য়ি’ত্ব’বো’ধ। ‘প্রজাপতি ২’-এর সাফল্য তাঁকে যেমন নতুন সম্ভাবনার পথে এগোতে সা’হ’স দিয়েছে, তেমনই তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস নয়। তাঁর দৃষ্টিতে, ইন্ডাস্ট্রির ঐক্য, দর্শকদের বি’শ্বা’স ও শ’ক্তি’শা’লী গল্প এই তিনটির সমন্বয়েই বাংলা সিনেমা আবারও তার স্ব’র্ণ ভবিষ্যতের দিকে এগোতে পারে।