Dev-Anirban:“ছ’মাস ধরে ব্যান, অন্যায় !…আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, কাজ করতে দিন,শান্তিতে বাঁচতে দিন…” – অনির্বাণ ইস্যুতে ফেডারেশন ও প্রশাসনের কাছে দেবের আবেদন

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Dev-Anirban: টলিউডের বর্তমান অ’স্থি’র পরিস্থিতি এবং অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য(Anirban Bhattacharya)-এর কা’জ ব’ন্ধ হয়ে থাকা প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন অভিনেতা ও সাংসদ দেব(Dev)ওরফে দীপক অধিকারী(Deepak Adhikari)। একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি শুধু অনির্বাণের পক্ষেই কথা বলেননি, বরং গোটা বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ক’র্ম পরিবেশ, মা’ন’বি’ক দিক এবং অলিখিত নি’ষে’ধা’জ্ঞা’র সংস্কৃতি নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্র’শ্ন তুলেছেন। দেবের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি কোনো পক্ষের বি’রু’দ্ধে নন, কিন্তু শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের কা’জে’র অ’ধি’কা’র কে’ড়ে নেওয়ার পদ্ধতির ঘোর বি’রো’ধী।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই দেব অনির্বাণ ভট্টাচার্য(Anirban Bhattacharya)-এর হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষ’মা প্রার্থনা করেন। তাঁর কথায়, যদি ক্ষ’মা চাওয়াই সমাধান হয়, তাহলে সেই দায় তিনি নিজেই নিতে প্রস্তুত। দেব বলেন, “আমি অ’নু’রো’ধ করব, যদি ক্ষ’মা চাইতে হয় অনির্বাণকে, তো আমি তাঁর হয়ে ক্ষ’মা চেয়ে নিচ্ছি। ভাই অনির্বাণকে দয়া করে কাজ করতে দিন।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত নয় এটি একজন শিল্পীর বেঁ’চে থাকার অ’ধি’কা’রে’র প্রশ্ন।

অনির্বাণ ভট্টাচার্যের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে দেব বলেন, তিনি এমন একজন অভিনেতা যাঁকে বাংলার প্রয়োজন। তাঁর মতে, অনির্বাণের মতো অভিনেতার এখনও বাংলায় অনেক অবদান রাখা বাকি আছে। দেবের ভাষায়, “এমন একজন অভিনেতা, যার বাংলাকে দরকার। বাংলায় ওঁর অনেক কা’জ এখনও বাকি।” এই বক্তব্যে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে থাকা প্রতিভাকে বাইরে ঠে’লে দেওয়ার প্র’ব’ণ’তা’র বি’রু’দ্ধে’ই সওয়াল করেছেন তিনি।

শুধু ফেডারেশন নয়, প্রশাসনের দিকেও সরাসরি নজর টানেন দেব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)-এর কাছে তিনি হ’স্ত’ক্ষে’পে’র আবেদন জানান। দেব বলেন, “আমি অ’নু’রো’ধ করব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিদিকে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা এই ব্যাপারটা একটু দেখুক।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ র’ক্ষা’র দায়িত্ব শুধু শিল্পীদের নয়, রাজ্যেরও।

আরও পড়ুন:Jeetu Kamal:“ডি’ভো’র্স মানেই শ’ত্রু’তা নয়..নবনীতাকে আজও ‘বন্ধু’ বলেই দেখি”-ডি’ভো’র্স ও স’ম্প’র্ক নিয়ে অকপট জীতু কমল

টলিউড ফেডারেশন এবং তার প্রধান স্বরূপ বিশ্বাস(Swarup Biswas)-এর কাছেও সরাসরি আ’র্জি জানান দেব। তিনি বলেন, “আমি স্বরূপ বিশ্বাসকে এবং ফেডারেশনকে অ’নু’রো’ধ করব, অনির্বাণকে কা’জ করতে দিন, শান্তিতে বাঁ’চ’তে দিন।” দেবের মতে, ফেডারেশন শিল্পীদের স্বা’র্থ’র’ক্ষা’র জন্য, কাউকে দীর্ঘদিন কা’জে’র বাইরে রাখার জন্য নয়।

এই প্রসঙ্গেই দেব সবচেয়ে ক’ড়া ভাষায় কথা বলেন অলিখিত ‘ব্যা’ন’ বা নি’ষে’ধা’জ্ঞা’র বি’রু’দ্ধে। তাঁর মতে, কোনো শিল্পীর উপর কা’জে’র নি’ষে’ধা’জ্ঞা জা’রি করা অ’ন্যা’য়, বিশেষ করে যখন তা লিখিতভাবে নয়, বরং অঘোষিতভাবে করা হয়। দেব বলেন, “কোনো একটা কারণে অলিখিতভাবে কাউকে ব্যা’ন করে দেওয়া, এর পক্ষে আমি নই।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের রাজ্যে একজন অভিনেতা যদি ছ’মাস ধরে ব্যা’ন হয়ে থাকে, সেটাও অ’ন্যা’য়।”

এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে আ’র্থি’ক ও মা’ন’বি’ক দিক। দেব বাস্তব উদাহরণ টেনে বলেন, “একটা ছেলে আট মাস ধরে ব্যা’ন হয়ে আছে। ব্যাংকে যদি ৪০ টা’কা থাকে আর দিনে খরচ ৫০ টা’কা হয়, তাহলে সে কী করে চলবে?” এই প্র’শ্ন শুধু একজন অভিনেতার নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রির কর্মীদের জীবনের বাস্তব সং’ক’ট’কে সামনে আনে।

আরও পড়ুন:Subhashree-Srabanti:“শ্রাবন্তী ‘বোকা’ নাকি শুধুই ‘ইমোশনাল ফুল’?” শুভশ্রীর এক মন্তব্যেই ফের টলিপাড়ায় গুঞ্জন

টেকনিশিয়ানদের প্রসঙ্গেও দেব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, তিনি বহু টেকনিশিয়ানকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং তাঁদের ক’ষ্ট স’ম্প’র্কে অবগত। তাঁর কথায়, “আমি প্রচুর টেকনিশিয়ানকে চিনি। কারোর শ’রী’র খা’রা’প, কারোর মেয়ের স্কুলের বই কিনতে হবে।” দেব দাবি করেন, তিনি সবসময় তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

এই জায়গায় নিজের অ’তী’তে’র কথাও তুলে ধরেন দেব। তিনি মনে করিয়ে দেন, তিনিও টেকনিশিয়ান পরিবারের অংশ ছিলেন। তাঁর বাবা ছিলেন ক্যাটারার এবং মুম্বইয়ে ক্যাটারিংয়ের কা’জ করতেন। দেব বলেন, “আমিও টেকনিশিয়ানের ছেলে। আমার বাবা ক্যাটারার ছিলেন। বোম্বেতে আমরা ক্যাটারিং করতাম। তাঁর ছেলে আজ এখানে দাঁড়িয়ে আছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি ছোট পদই ভবিষ্যতের বড় স্বপ্নের ভিত্তি।

লাইট ডিপার্টমেন্ট, আর্ট ডিপার্টমেন্ট, স্পট বয় এই সব স্তরের কর্মীদের স্বপ্নের কথাও তুলে ধরেন দেব। তাঁর মতে, প্রত্যেকেরই স্বপ্ন থাকে তাঁদের সন্তান একদিন বড় কিছু করবে। সেই স্বপ্ন ভে’ঙে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

সবশে’ষে দেব নিজের পরিচয় তুলে ধরে আবারও ফেডারেশনের কাছে আ’বে’দ’ন জানান। তিনি বলেন, “আমি সাংসদ, অভিনেতা, সুপারস্টার, মেগাস্টার, বাংলার ছেলে, বাংলার ভাই হিসেবে ফেডারেশনের কাছে ক্ষ’মা চেয়ে নিচ্ছি। অনির্বাণকে কা’জ করতে দিন।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, দেব নিজের অবস্থান বা খ্যাতিকে ঢা’ল হিসেবে ব্যবহার করছেন না, বরং দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন।

আরও পড়ুন:Prarona Bhattacharjee:অভিনয়ের অনিশ্চয়তা নাকি নিজের স্বপ্নের টান? ছোটপর্দা থেকে বিরতি নিয়ে নতুন ব্যবসায় প্রেরণা ভট্টাচার্য

দেব বারবার স্পষ্ট করেছেন, তিনি ফেডারেশনের বি’রু’দ্ধে নন। তাঁর ল’ড়া’ই কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে নয়, বরং এমন একটি ব্যবস্থার বি’রু’দ্ধে যেখানে কা’জ করার অ’ধি’কা’র কে’ড়ে নেওয়া হয়। তাঁর মতে, সু’স্থ পরিবেশ ছাড়া ইন্ডাস্ট্রি টি’কে থাকতে পারে না।

অনির্বাণ ভট্টাচার্য ই’স্যুকে কেন্দ্র করে দেবের এই বক্তব্য টলিউডে নতুন করে আ’লো’চ’না’র ঝ’ড় তুলেছে। এটি শুধু একজন অভিনেতার হয়ে দাঁড়ানো নয়, বরং গোটা বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে মা’ন’বি’ক’তা, ন্যা’য্য’তা এবং কা’জে’র স্বা’ধী’ন’তা নিয়ে এক বড় প্র’শ্নচিহ্ন। এখন দেখার, এই আ’বে’দ’নে’র পর প্র’শা’স’ন ও ফেডারেশন কী পদক্ষেপ নেয়।

Leave a Comment