Rukmini Maitra:“তুমি খুশি তো? শুভশ্রীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া, তারপর শুভর বিয়ে…” ‘ধূমকেতু’র আবহে কোন দিকে গড়াচ্ছে দেব-শুভশ্রীর সম্পর্ক? চুপ কেন রুক্মিণী মৈত্র?
দশ বছরের প্রতীক্ষার পর মুক্তি পেয়েছে দেব-শুভশ্রী অভিনীত বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধূমকেতু’। এই ছবির প্রচারে ১০ বছর পর এক হয়েছেন অভিনেতা দেব এবং তাঁর জনপ্রিয় সিনেমা সঙ্গী শুভশ্রী গাঙ্গুলী। একসময় তাঁদের দুজনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একাধিক জল্পনা উঠে আসে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে এবারে ছবি মুক্তির জন্য আবার একসাথে দেব-শুভশ্রী। এমনকি একই সাথে নৈহাটিতে বড়মার মন্দিরেও দেখা গিয়েছে তাদের। এই ঘটনার পর প্রায় কোন ক্ষেত্রেই বিশেষ কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি রুক্মিণী মৈত্রকে। কেন? প্রশ্ন উঠছে দর্শকমহল থেকে। এবারে এক সাক্ষাৎকারে টলিউড মেগাস্টার দেবের সঙ্গে এই বিষয়ে একাধিক কথোপকথনে উঠে এল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
‘ধূমকেতু’র শুভমুক্তি বাংলা সিনেমার জগতে ইতিহাস তৈরি করে দিয়েছে। পাশের স্ক্রিনেই চলছে বলিউডের “War 2″, অথচ গমগম করছে বাংলার ‘ধূমকেতু’। এই উদ্দেশ্যে অভিনেতাকে বলতে শোনা যায়,”ধূমকেতু নিজের কপাল নিয়ে জন্মেছে। ১০ বছরে এই ছবি কত কী দেখল! আমার আর ছবির প্রযোজক রানা সরকারের ঝামেলা। শুভশ্রীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া। তারপর শুভর বিয়ে। এসবের মধ্যেই রানার সঙ্গে এক চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সমস্যা তৈরি হল। এত কিছু পেরিয়ে ছবির মুক্তি ভীষণ কঠিন ছিল। কিন্তু সব ভাল যার শেষ ভাল।” অভিনেতা মনে করছেন, এই ছবি যদি পাঁচ বছর আগে মুক্তি পেত তাহলে এই সাফল্য হয়ত পেত না। তাহলে কি সবই দেব-শুভশ্রীর এক জায়গায় আসার জন্য?
দশ বছর পরে মুক্তি পাওয়ার পরেও হাউসফুল সকাল সাতটা এবং ন’টার শো। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রোজগার করছে ‘ধূমকেতু’। এক সাক্ষাৎকারে দেব জানান, “অনুরাগীরা সেদিন যেভাবে আমাদের দেখতে চেয়েছিলেন, আমরা নৈহাটিতে সেটাই করেছি।”
তাহলে কি সবটাই স্ক্রিপটেড? আগে থেকেই তৈরি ছিল সমস্ত প্রশ্ন? এভাবেই কি দর্শকদের মন জয় করে ছবির প্রচার করলেন দেব-শুভশ্রী? নাকি আদতেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে বেশ কিছুটা?
‘ধূমকেতু’ প্রচারের জন্য দেব-শুভশ্রীকে দুবার একসাথে দেখা গিয়েছে। প্রথম, ট্রেলার লঞ্চের দিনে এক মঞ্চে এবং দ্বিতীয় নৈহাটিতে বড়মার মন্দিরে। এই প্রসঙ্গে দেব জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে ১৯ বছর হয়ে গেল। আমার সঙ্গে সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রি বড় হচ্ছে। পরিবেশকেরা বলে আসছেন, বাংলা ছবি হলভর্তি দর্শক আনতে পারে না। আমার এই ছবি সেটা করেছে।
মঞ্চে দেব এবং শুভশ্রীর আলাপচারিতা স্ক্রিপ্টেড কিনা প্রশ্ন করা হলে অভিনেতা বলেন, “ছবিমুক্তির যে সাফল্য সেটাই ‘ঠিক’। আবারও বলছি, অনেকটা সময় আমরা পেরিয়ে এসেছি। একটা সময় আমি আর শুভশ্রী একসঙ্গে ছিলাম। তারপর অনেকটা পথ আমরা আলাদা হেঁটেছি। গত ১২ বছর ধরে তো রুক্মিণীর সঙ্গেই আছি। শুভ-র সঙ্গে হয়ত তিন-চার বছর ছিলাম। ওরও জীবন বদলে গিয়েছে। আমাদের নিয়ে অনেকটা ‘নেগেটিভিটি’ ছিল। কখনও, ও বলেছে, কখনও আমিও বলেছি। অনেক ভাল স্মৃতি রয়ে গিয়েছে আমাদের সঙ্গে। ওই জন্যই তো প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন। ওই যে ‘খাদান-সন্তান’ কিংবা পরস্পরকে সমাজমাধ্যমে অনুসরণ না করা, চার বছর নষ্ট হয়েছে— এগুলোই তো ‘পাবলিক’ জানতে চেয়ে এসেছে এত বছর ধরে!”
এর পাশাপাশি অভিনেতা আরও জানান, প্রকৃত সত্যই সেই দিন সর্বসমক্ষে আনা হয়েছে। মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে সমস্ত ভুল বোঝাবুঝি। এর ফলে সকলেই বুঝতে পেরেছেন, “এইভাবেও ফিরে আসা যায়।”
ট্রেলার লঞ্চের দিনে যাবতীয় প্রশ্ন কে তৈরি করে দিয়েছিলেন? প্রশ্ন করায় কিছুটা থমকে অভিনেতার উত্তর এসেছে, “আমরা, আমি। কিসের জন্য করেছি জানেন? সিনেমার জন্য। আমাদের দর্শকের জন্য।” এরপরেই রুক্মিণী কেন এত চুপ করে রয়েছেন, এই প্রশ্ন করা হলে দেব বলেন, “আমার নাম কি রুক্মিণী মৈত্র? ওকে জিজ্ঞাসা করুন না! আচ্ছা আমার সঙ্গে দেখা হবে। আমিই জিজ্ঞাসা করব, রুক্মিণী কেন এত নীরব।” ঐদিন অকপটে দেব স্বীকার করলেন, ‘ধূমকেতু’ আমার বুকের কাছের ছবি। এখন আমি কৌশিকদার ১০ বছর আগের ছবিতে বিভোর হয়ে আছি। পরের ছবি নিয়ে এর পরে ভাবব।
“সত্যিই কি প্রথম ভালবাসা থেকেই যায়?” এই প্রশ্ন করা হলে অভিনেতার অকপট উত্তর আসে, “জানি, কেন এই প্রশ্ন। শুভশ্রীর সঙ্গে কাজ করছি, আর রুক্মিণীর কথা একটু আগে উঠল, তাই। রুক্মিণী না থাকলে এই ছবিটা এত ভাল করে হত না। ও কিন্তু প্রথম দিন থেকে এই ছবির সঙ্গে আছে। বাকিদের মতো গত কয়েকদিন রুক্মিণীও একটাই প্রশ্ন করেছে, ‘তুমি খুশি তো’? ও জানে, এই ছবির পিছনে আমার ইগো, সম্মান, জেদ, লড়াই— সব উজাড় করে দিয়েছি। বাকি সব কিছু ভুলে গিয়েছিলাম।”