Dev-Subhashree: বাংলা ছবির জনপ্রিয় জুটি দেব(Dev) ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়(Subhashree Ganguly) আবারও একসঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রে। উপলক্ষ তাঁদের নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’। ছবির প্রোমোশন, বহুদিন পর জুটির প্রত্যাবর্তন, অতীত–বর্তমান সম্পর্কের সমীকরণ। সব মিলিয়ে এই ফেসবুক লাইভ যেন শুধু একটি প্রোমোশনাল ইভেন্ট নয়, বরং পরিণত মননের এক প্রকাশ। দর্শকদের উদ্দেশ্যে খোলামেলা কথোপকথনে তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন কাজের জায়গায় তাঁরা একসঙ্গে, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযথা ক’টা’ক্ষ বা আ’ক্র’ম’ণ তাঁরা চান না।
লাইভের শুরুতেই দেব ও শুভশ্রী দর্শকদের নমস্কার জানান। দেব জানিয়ে দেন, এই প্রথম তাঁরা একসঙ্গে ফেসবুক লাইভে এসেছেন। খুব সাধারণ একটি বাক্য হলেও তার মধ্যেই ছিল আলাদা উত্তেজনা। কারণ বহু বছর পর এই জুটিকে এমনভাবে একফ্রেমে দেখা গেল, তাও আবার সরাসরি দর্শকদের সঙ্গে কথোপকথনে। দেব বলেন, “প্রথমবার আমরা ফেসবুক লাইভে এসেছি।” এই কথার মধ্যেই যেন লু’কি’য়ে ছিল দীর্ঘ বিরতির পর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
লাইভের স্থান নির্বাচন নিয়েও ছিল বিশেষ বার্তা। কোনো অফিস, স্টুডিও বা বিলাসবহুল হোটেল নয়। তাঁরা বেছে নেন একটি সিনেমা হল। কেন এই সিদ্ধান্ত, সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে দেব বলেন, সিনেমা হলই আসলে তাঁদের শিকড়। এখান থেকেই শিল্পী, অভিনেতা, পরিচালক সবাই তৈরি হন। তাঁর কথায়, সিনেমা হল থেকেই যাত্রা শুরু হয়, এখানেই জন্ম নেয় স্টারডম। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা ছবির প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতাও তুলে ধরেন। শুধু নিজের ছবি নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচিয়ে রাখার ল’ড়া’ই’য়ে’র কথাই যেন ইঙ্গিত করেন তিনি।
শুভশ্রীও সিনেমা হলের সঙ্গে নিজের আবেগের কথা ভাগ করে নেন। তাঁর মতে, এই জায়গাটা শুধুই একটি বিল্ডিং নয়, বরং স্মৃতির ভাণ্ডার। এখানেই প্রথম দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছিলেন তাঁরা, এখান থেকেই দর্শকদের সঙ্গে তাঁদের সংযোগ তৈরি হয়েছিল। তাই আবার সেই হলেই ফিরে আসা মানে শুধুই প্রোমোশন নয়, বরং শিকড়ে ফিরে যাওয়া। দেব ও শুভশ্রী দু’জনেই স্মরণ করেন তাঁদের প্রথম সুপারহিট ছবি ‘চ্যা’লে’ঞ্জ’(Challenge)–এর কথা, যেখান থেকে ‘দেশু’ নামের জন্ম। দেব ও শুভশ্রীর নাম মিলিয়ে তৈরি হওয়া এই ডাকনাম আজও দর্শকদের কাছে আবেগের।
এই আবেগের রেশ ধরেই তাঁরা জানান, ‘দেশু ৭’ নিয়ে সামনে বড় কিছু ঘোষণা আসতে চলেছে। যদিও বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবু ইঙ্গিত স্পষ্ট এই জুটি শুধু নস্টালজিয়ার উপর ভর করে ফিরছে না, বরং নতুন পরিকল্পনা ও নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এগোচ্ছে।
লাইভে ব্যক্তিগত প্রশ্নও উঠে আসে। দেবকে জিজ্ঞেস করা হয়, শুভশ্রীর কোন অভ্যাসটি তাঁর সবচেয়ে ভালো লাগে। হাসিমুখে দেব উত্তর দেন – শুভশ্রীর হাসি, আর তার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রাগও। দেব হাস্যরসের সাথে উত্তর দেন, “ওর হাসি… হাসি এবং রাগও।” এই হালকা রসিকতায় মুহূর্তেই পরিবেশ হালকা হয়ে ওঠে। শুভশ্রীও মজা করে বলেন, দেবের হাসি কখনও কখনও বিরক্তিকর হয়ে ওঠে, কারণ তাঁকে থামানো যায় না। এই ছোট ছোট কথোপকথনেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁদের স্বাভাবিক বন্ধুত্ব ও পেশাদার স্বচ্ছতা।
তবে লাইভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আসে যখন দেব দর্শকদের উদ্দেশ্যে একটি স্পষ্ট অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, দয়া করে ব্যক্তিগত আক্রমণ যেন না করা হয়। তাঁর কথায়, তাঁরা দু’জনেই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে ভালো আছেন বলেই আজ আবার সুস্থভাবে কাজের জায়গায় ফিরতে পেরেছেন। বি’য়ে, সম্পর্ক, প্রেম এসব নিয়ে নানা আলোচনা চলতেই পারে, কিন্তু তার নামে ক’টা’ক্ষ বা অপমান তাঁরা চান না। দেবের এই বক্তব্যে ছিল দৃঢ়তা, আবার সংযমও। তাঁর কথায়,”দয়া করে পার্সোনাল অ্যাটাক করবেন না। আমরা আমাদের পার্সোনাল লাইফটা ভালো আছি বলেই আজকে আমরা এই জায়গায় বসে আছি বা সুস্থভাবে কাজ করার দিকে এগোচ্ছি।”
শুভশ্রীও অতীত প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, অতীত যা ছিল, তা নিয়ে পড়ে থাকতে কেউই চান না। জীবন মানেই এগিয়ে যাওয়া, আর মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে পারার কারণেই তাঁরা আজ আবার পেশাদারভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারছেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট—এটা কোনো নাটকীয় প্রত্যাবর্তন নয়, বরং পরিণত সিদ্ধান্ত।
এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে তাঁদের বর্তমান জীবন সঙ্গীদের কথা। দেব ও শুভশ্রী দু’জনেই অকপটে স্বীকার করেন যে এই কাজটা সম্ভব হয়েছে তাঁদের পার্টনারদের সমর্থনের জন্যই। দেব বলেন, বর্তমান সঙ্গীদের সম্মান মানেই তাঁদের নিজেদের সম্মান। “আমরা আজকে আবার একসাথে কাজ করতে পারছি আমাদের পার্টনার্সদের সহায়তায়… তাঁদের সম্মানটা আমাদের সম্মান।” দেব ও শুভশ্রী বিশেষভাবে রাজ চক্রবর্তী(Raj Chakrabarty) ও রুক্মিণী মৈত্র(Rukmini Maitra )-এর কথা উল্লেখ করে তাঁদের মানসিক সাপোর্টের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। এই বক্তব্যে পরিষ্কার বার্তা ব্যক্তিগত সম্পর্কের সীমারেখা তাঁরা স্পষ্টভাবে টেনে রেখেছেন।
লাইভে অ’শা’লী’ন মন্তব্য নিয়েও কড়া অবস্থান নেন দেব। তিনি হাতজোড় করে অনুরোধ জানান, এমন কিছু মন্তব্য যেন না করা হয়, যেখানে তাঁদের সামনে তাঁদের পার্টনারদের অপমান করা হচ্ছে, অথচ তাঁরা কিছু বলতে পারছেন না। তাঁর কথায়, “প্লিজ হাতজোড় করে বলছি, এমন কিছু মন্তব্য করবেন না যেখানে আমাদের মনে হবে যে আমাদের সামনে আমাদের পার্টনারকে অপমান করা হচ্ছে কিন্তু আমরা কিছু করতে পারছি না।”
সোশ্যাল মিডিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে তিনি বাস্তববাদী মন্তব্য করেন। সবকিছু কারও নিয়ন্ত্রণে নেই, যে যা খুশি লিখতে পারে। কিন্তু লেখার মধ্যেও দায়িত্ববোধ থাকা জরুরি। কারণ তাঁদের লক্ষ্য শুধু একটি ছবি নয়, বরং বাংলা সিনেমার দর্শকদের আবার হলমুখী করা।
শুভশ্রী দেবের কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, তাঁরা চান তাঁদের চেয়েও বেশি সম্মান দেওয়া হোক তাঁদের পার্টনারদের। তাঁর কথায়, “আমরা এটাই চাইব যে আমাদের যতটা সম্মান দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি সম্মান আমাদের পার্টনারকে দেওয়া হোক।” এই বক্তব্যে ছিল পরিণত সম্পর্কবোধ এবং একে অপরের প্রতি সম্মানের বার্তা।
সবশে’ষে দেব বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ল’ড়া’ই দর্শকদের ফিরিয়ে আনা। ভালো ছবি, সৎ প্রচেষ্টা আর সম্মিলিত উদ্যোগেই বাংলা সিনেমা আবার নিজের জায়গা ফিরে পেতে পারে। দেব–শুভশ্রীর এই লাইভ তাই শুধু একটি জুটির কামব্যাক নয়, বরং বাংলা ছবির প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতার প্রকাশ।
সব মিলিয়ে এই ফেসবুক লাইভ প্রমাণ করে দিল দেব ও শুভশ্রী আজ আর শুধুই একটি হিট জুটি নন, তাঁরা পরিণত শিল্পী। অতীতকে সম্মান দিয়ে, বর্তমানকে গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েই তাঁদের এই প্রত্যাবর্তন। ‘দেশু ৭’ নিয়ে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই তাঁদের এই স্পষ্ট অবস্থান হয়ত নতুন করে সংজ্ঞা দেবে পেশাদার সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত সম্মানের।